আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৬ ফাল্গুন ১৪২৫ মঙ্গলবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৮তম দিন। মেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৩৯টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি বেলাল চৌধুরী : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি পিয়াস মজিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি জাহিদুল হক, দিলারা হাফিজ এবং তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি রবিউল হুসাইন।

প্রাবন্ধিক বলেন, বেলাল চৌধুরীর কবিতা অনুধাবন করতে হলে তাঁর নাক্ষত্রিক জীবনের পরিচয় লাভও জরুরি; যিনি অতি অল্প বয়সে প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাহিত্যধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রমশ এক বিশাল শিল্পজগতের ক্ষুধা অনুভব করেছেন তাঁর অন্তর্গত সত্তায়। ফলে পঁচিশ বছর বয়সে কলকাতা গমন করে অতি সহজেই সেখানকার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিবেশের অনিবার্য চরিত্র হয়ে ওঠেছেন। কবিতাচর্চা, কৃত্তিবাস পত্রিকা সম্পাদনা এবং আরও নানাবিধ কিংবদন্তির জন্ম দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেও তিনি নিজ সত্তার বিচিত্রমাত্রিক প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতায় আমরা খুঁজে পাই স্বগতোক্তির মধ্য দিয়ে সমকালীন সমাজের নিপুণ ময়নাতদন্ত। কবিতাকে তাঁর আদিম ভৌতসত্তায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি কাজ করে গেছেন নিরন্তর। এছাড়া তাঁর অসাধারণ গদ্যগুচ্ছ এবং অনুবাদকর্ম আমাদের সাহিত্যে এক স্বর্ণাভ সংযোজন হয়ে রয়েছে।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বেলাল চৌধুরী সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব যিনি তাঁর কবিতা ও জীবনকে করে তুলেছেন অদ্বৈত। তিনি বাংলা ভাষায় লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের একজন পুরোধা অনুবাদক। সাংগঠনিক দক্ষতায় এবং উদারহৃদয় মানসে তিনি ঋদ্ধ করেছেন ঢাকা ও কলকাতার সাহিত্যভুবনকে। তাঁরা বলেন, বেলাল চৌধুরীর সাহিত্যকর্মের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পেতে হলে তাঁর রচনাবলি প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে রবিউল হুসাইন বলেন, বেলাল চৌধুরী একজন কিংবদন্তির নাম। কবিতা, গদ্যচর্চা, সম্পাদনা, সাংগঠনিক দক্ষতা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যসংস্কৃতিভুবনে তিনি পরিণত হয়েছেন একজন অনিবার্য নক্ষত্রে। তাঁর জীবনের মতোই বিচিত্র-বর্ণিল-ব্যতিক্রম তাঁর কবিতা ও সামগ্রিক শিল্পশস্য।

শিশুকিশোর চিত্রপ্রদর্শনী
অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রতিবছর শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ বছর প্রথমবারের মতো ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আজ বিকেল ৪:৩০টায় প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রদর্শনী চলবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা চলার সময়।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন মুস্তাফিজ শফি, শোয়াইব জিবরান, মুহাম্মদ শামসুল হক, মলয় বালা।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি দিলারা হাফিজ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, ফরিদ আহমেদ দুলাল, রহিমা আখতার কল্পনা এবং মতিন রায়হান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল খোরশেদ এবং সায়েরা হাবীব। পুথিপাঠ করেন জালাল খান ইউসুফী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল সাইমন জাকারিয়ার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভাবনগর ফাউন্ডেশন’ এর পরিবেশনা। এছাড়া সায়িক সিদ্দিকীর পরিচালনায় পরিবেশিত হয় পালাগান ‘নোলকজানের পালা’।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বুধবার। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

আলোচনা অনুষ্ঠান : বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুজন বড়–য়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আলম তালুকদার, আসলাম সানী, লুৎফর রহমান রিটন, আমীরুল ইসলাম এবং আনজীর লিটন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৫ ফাল্গুন ১৪২৫ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৭তম দিন। মেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ৭১টি।

বিকেল ৪:০০টায় একুশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খালেদ হোসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মফিদুল হক, আসাদ মান্নান, শিহাব সরকার এবং আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি মনজুরে মওলা।

প্রাবন্ধিক বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের জীবনাচরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিলেন সপ্রতিভ। আর তাঁর বিপুলায়তন সাহিত্যসৃষ্টিতে লক্ষ করা যায় এক নিহিত ও বস্তুনিষ্ঠ পরিকল্পনা। উন্মাদনাময় এই সৃষ্টিশীলতাকে সাবলীলভাবে নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্যই তাঁকে বাংলা সাহিত্যে অগ্রগণ্য প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। তাঁর সক্রিয়তা, চিন্তার স্বকীয়তা, প্রকাশের যথোপযুক্ততা অর্জন করে নিয়েছে পাঠকের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তিনি বলেন, সমাজস্থিত মানুষ হিসেবে সৈয়দ হকের নিরাপোষ মানসতার স্বাক্ষর তাঁর সাহিত্যকর্মেও প্রতিভাত। এভাবেই তিনি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নিজেই ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছেন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, সৈয়দ শামসুল হক বাংলা ভাষার সর্বাগ্রগণ্য সাহিত্যশিল্পীদের একজন। সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে তাঁর ঈর্ষণীয় বিচরণ ও অর্জন পরবর্তীকালের লেখকদের জন্য দৃষ্টান্ত। তিনি সাহিত্যে যেমন শিল্পকৌশলের নব নব রূপরীতি উদ্ভাবন করেছেন তেমনি জনমানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সংকল্পকে সাহিত্যভাষা দান করেছেন। তারা বলেন, তাঁর কাব্যনাট্য ও অন্যান্য রচনায় এদেশের মহান মুক্তিসংগ্রাম উদ্ভাসিত হয়েছে মায়াময় ব্যঞ্জনায়।

সভাপতির বক্তব্যে মনজুরে মওলা বলেন, ভাষার প্রতি সৈয়দ শামসুল হকের আমৃত্যু যতœশীলতা আমাদের সাহিত্যসমাজে এক বিরল ব্যাপার, যেক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই উদাসীন। নতুন শব্দ ও ভাববন্ধ নির্মাণে তিনি ছিলেন সদাসচেষ্ট। কবি হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধির পরও তিনি নিজের জন্য কাব্যনাট্যের মতো এক দুরূহ শিল্পমাধ্যম বেছে নিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন। সৈয়দ শামসুল হকের মতো সাহিত্যস্রষ্টা কখন বিস্মৃত হবার নন।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন বদরুল হায়দার, ফরিদুর রহমান, মারুফ রসুল, িস্নগ্ধা বাউল, অঞ্জন আচার্য।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক, খালেদ হোসাইন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী লায়লা আফরোজ এবং মো. মাসুদুজ্জামান। মানজারুল ইসলাম সুইটের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং অনন্যা ওয়াফী রহমানের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘নৃত্যমঞ্চ’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। সংগীত পরিবেশন করেন শাহনাজ নাসরিন ইলা, মামুন জাহিদ খান, মো. মনিরুজ্জামান ভূইয়া, রাকিবুল ইসলাম রাকীব, নীপা সাহা, শামীমা নাসরিন এবং অপর্ণা খান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন দীপক কুমার দাস (তবলা), শেখ আবু জাফর (বাঁশি), মো. বরকত নেওয়াজ (কী-বোর্ড) এবং এস এম রেজা বাবু (ঢোলক)।

গ্রন্থমেলা বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন
আজ বিকেল ৩:০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর সদস্য-সচিব এবং একাডেমির পরিচালকৃন্দ।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৬ ফাল্গুন ১৪২৫ সোমবার। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

শিশুকিশোর চিত্রপ্রদর্শনী
অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রতিবছর শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ বছর প্রথমবারের মতো ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ১৮ই ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪:৩০টায় প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রদর্শনী চলবে ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা চলার সময়।

আলোচনা অনুষ্ঠান : কবি বেলাল চৌধুরী শ্রদ্ধাঞ্জলি
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি বেলাল চৌধুরী : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন পিয়াস মজিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন জাহিদুল হক, দিলারা হাফিজ এবং তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি রবিউল হুসাইন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————-

আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৪ঠা ফাল্গুন ১৪২৫ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৬তম দিন। মেলা চলে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২০৬টি। গ্রন্থমেলায় আজ ছিল শিশুপ্রহর। সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়।

সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব সকাল ১০:০০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ২১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় মো. মুনতাজিম রহমান সায়মন (প্রথম স্থান), তাইয়্যেবা ও নুসাইবা নাজমী খান (দ্বিতীয় স্থান) ও মোঃ শাহারিয়ার আহম্মেদ (তৃতীয় স্থান) অধিকার করে। উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় নিসার বিন সাইফুল্লাহ জাহিন (প্রথম স্থান), কাশফিয়া কাওসার চৌধুরী (দ্বিতীয় স্থান) ও শাঁওলী সামরিজা (তৃতীয় স্থান) অধিকার করে। প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অণিমা মুক্তি গমেজ, হাসান মাহমুদ এবং ক্রীড়াবিদ রঞ্জিত চন্দ্র দাস।

আলোচনা অনুষ্ঠান
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মইনুদ্দীন খালেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফরিদা জামান, নিসার হোসেন এবং মলয় বালা। সভাপতিত্ব করেন শিল্পী হাশেম খান।

প্রাবন্ধিক বলেন, শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর পঞ্চাশের দশকের নিরীক্ষানিষ্ঠ শিল্পীদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যের বৈশিষ্ট্যে সুচিহ্নিত। তাঁর জীবন-পাঠ ও শিল্পকৃতির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন সময়ের আরও আবর্তনে স্পষ্টতা পাবে। তাঁর শিল্প নিয়ে আজও তেমন গবেষণা হয়নি। যদিও তিনি পঞ্চাশের প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক একক প্রদর্শনী করেছেন। তিনি বলেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর শুধু শিল্পী নন, কর্মবীরও। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগে তিনি দীর্ঘদিন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়ই এ বিভাগ যেন শৈশব থেকে তারুণ্যে উন্নীত হয়েছে। চারুকলা বিভাগে দায়িত্বকালে সৈয়দ জাহাঙ্গীর দেশের প্রধান শিল্পীদের একক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। কর্মবীর এ মানুষটির একটি বড় অর্জন এশীয় দিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন। এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর ফলে এদেশের শিল্পী ও শিল্পানুরাগী দর্শক বিভিন্ন দেশের ছবি দেখার এক বিরল সুযোগ লাভ করেছেন। এ শৈল্পিক আয়োজন আমাদের শিল্পচর্চাতেও এনেছে বিশেষ অভিঘাত।

আলোচকবৃন্দ বলেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের জগতে এক অনন্য নাম। তাঁর চিত্রকাজে বাংলাদেশের ভূবৈচিত্র্য অসামান্য শৈল্পিক ব্যঞ্জনায় অভিষিক্ত হয়েছে। সৈয়দ জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী স্মৃতির মানচিত্র বাংলাদেশের পঞ্চাশ দশকের শিল্পসাহিত্য জগতের এক বিশ্বস্ত ভাষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে হাশেম খান বলেন, , সৈয়দ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের শিল্পকলা আন্দোলনে এক অবিস্মরণীয় নাম। শুধু চিত্রশিল্পে নয়, এদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও তিনি এক অগ্রণীজন। তাঁর মানুষ ও মৃত্তিকালগ্ন শিল্পকাজ এবং অঙ্গীকার জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আসাদ মান্নান, শাকুর মজিদ, পাপীয়া জেরিন, আবদুল্লাহ আল ইমরান, মাহফুজ রিপন।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি কাজী রোজী এবং মারুফ রায়হান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মুস্তাফা ওয়ালিদ এবং কাজি মাহতাব সুমন। নৃত্য পরিবেশন করেন মৈত্রী সরকারের পরিচালনায় নৃত্যসংগঠন ‘স্বপ্নবিকাশ কলা কেন্দ্র’-এর নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লীনু বিল্লাহ, চম্পা বণিক, বশিরুজ্জামন সাব্বির, প্রিয়াংকা বিশ্বাস, অপু আমান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন চন্দন দত্ত (তবলা), মো. মনিরুজ্জামান (বাঁশি), রিচার্ড কিশোর (গীটার), মো. মানিক (অক্টোপ্যাড) এবং বিনোদ রায় (কী-বোর্ড)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৫ ফাল্গুন ১৪২৫ রবিবার। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খালেদ হোসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মফিদুল হক, আসাদ মান্নান, শিহাব সরকার, আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি মনজুরে মওলা। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গ্রন্থমেলা বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন
আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৫ ফাল্গুন ১৪২৫ রবিবার বিকেল ৩:০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————-

কবি আল মাহমুদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি, বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো আল মাহমুদ গতকাল ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ প্রয়াত হয়েছেন। কবির স্মৃতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য তাঁর মরদেহ আজ দুপুর ১১:৪৫টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে রাখা হয়। 
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর নেতৃত্বে একাডেমির সচিব মোঃ আব্দুল মান্নান ইলিয়াস এবং কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কবির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনে আরও অংশ নেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন, আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শংকর সাঁওজাল, কবি-সাংবাদিক সোহরাব হাসান, লিটল ম্যাগাজিন নিসর্গ-এর সম্পাদক সরকার আশরাফ, কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কথাসাহিত্যিক সুমন রহমান, অনুবাদক আলীম আজিজ, কবি হাসান মাহমুদ, কবি জাকির আবু জাফর, ড. ফজলুল হক তুহিন, কবি সরকার আমিন, কবি জাফর আহমদ রাশেদ, অলকা নন্দিতা, শিল্পী শাহীনুর রহমান, কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ, কবি সালেহীন শিপ্রা, কবি পিয়াস মজিদ, কবি সোহাগ সিদ্দিকী, কবি আবিদ আজম, শিশুসাহিত্যিক মামুন সারওয়ার এবং কবি পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৩রা ফাল্গুন ১৪২৫ শুক্রবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৫তম দিন। মেলা চলে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৭২টি। গ্রন্থমেলায় আজ ছিল শিশুপ্রহর।

সকাল ১০:০০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন। এতে ক-শাখায় ১৬ জন খ-শাখায় ১৫জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীত শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, সুজিত মোস্তফা এবং চন্দনা মজুমদার। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাস্তব জগৎ শুধু প্রকৃতি নয়, মূলত মানুষকে ঘিরে; সময়ের মধ্যে হাঁটেন তিনি, মানুষময় ভাবনায় মগ্ন থাকেন। এই মানুষের সঙ্গে আসে সমাজের ক্ষত-ক্ষতি-তমসা, মানবতার সংকট ও বিকৃতি। নীরেন্দ্রনাথ সেই কবি যিনি সন্ধ্যায় প্রত্যেককে তার নিজস্ব নারীর কাছে ফিরে আসার অমোঘ সত্য উচ্চারণ করেন। জীবন আর কবিতার মাঝখানে তিনি কোনো ব্যবধান রাখেন না। বলা হয়েছে, তিনি ছন্দকে চাবুক করে তুলেছেন, অক্ষরবৃত্ত-মাত্রাবৃত্ত-স্বরবৃত্তের বাঁধনে নিজেকে বাঁধেননি। কেননা নীরেন্দ্রনাথ নিত্য খুঁজে গেছেন, ছেঁকে তুলেছেন সেই জীবনকে সেই বাস্তবের মানুষ ও চারপাশকে যা ধারণ করে আছে নিহিত মানবিক সত্তা আর সেই সত্তার কথায়নে তিনি নান্দনিকতা বিনির্মাণ করেছেন। তাঁর দীর্ঘ আয়ু, সৃষ্টিশীলতা আর যেন মৃত্যুও গেঁথে তুলেছে দীর্ঘ আলোর মত হাহাকার আর প্রেমময় বহুস্তরগামিতাকে । এটাই তো কবিতার আরাধ্য।

আলোচকবৃন্দ বলেন, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বাংলা কবিতাকে দিয়েছেন নতুন দিশা। দৈনন্দিন কথ্য বুলিকে তিনি অনায়েসে যেমন কবিতা করে তোলেন তেমনি জীবন ও জগতের নিগূঢ় দর্শনকে কবিতার মধ্য দিয়ে বাক্সময় করেছেন। পূর্ববাংলার মানুষ নীরেন্দ্রনাথ তাঁর আপন মৃত্তিকাকে কখনও বিস্মৃত হননি। তাঁর কবিতায় এবং অন্যান্য লেখায় বারবার ফিরে এসেছে পূর্ববাংলার মাটি ও মানুষের কথা। তারা বলেন, কবিতাকে একই সঙ্গে শৈল্পিক মানসম্পন্ন এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগক্ষম করে তুলতে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সাধনা বাংলা কবিতার পাঠক চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন বলেন, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা বাংলা কবিতার ভুবনে এক বিশেষ মাত্রা-সংযোজক। অতি সাধারণ বক্তব্য-বিষয়কে তিনি প্রায় আটপৌরে ভঙ্গিতে যেভাবে কবিতা করে তুলেছেন তা সত্যি বিস্ময়কর। এছাড়া কবিতা নিয়ে তাঁর গদ্যও পাঠকের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন গোলাম কিবরিয়া পিনু, আসলাম সানী, জুলফিয়া ইসলাম, ফারুক আহমেদ এবং পলাশ মাহবুব।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি ইকবাল আজিজ এবং হারিসুল হক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল এবং রূপা চক্রবর্তী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল হাসান আব্দুল্লাহ’র পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঘাসফুল শিশুকিশোর সংগঠন’ এবং আতিকুর রহমান উজ্জ্বলের পরিচালনায় ‘ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র’-এর নৃত্যশিল্পীবৃন্দের পরিবেশনা।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৪ঠ ফাল্গুন ১৪২৫ শনিবার। মেলা চলবে সকাল ১১.০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর
আগামীকাল মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে বেলা ০১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।

সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব
সকাল ১০:০০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মইনুদ্দীন খালেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফরিদা জামান, নিসার হোসেন এবং মলয় বালা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————————————–

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২রা ফাল্গুন ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৪তম দিন। মেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৪৭টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল বাংলাদেশে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বিজ্ঞানভাবনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রেজাউর রহমান, আবদুল কাইয়ুম এবং অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।প্রাবন্ধিক বলেন, একুশ শতকে মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান সাক্ষরতা, বিজ্ঞান মনস্কতা, বৈজ্ঞানিক কা-জ্ঞান ও বিজ্ঞান গবেষণা আলাদা বিষয়। বিজ্ঞানমনস্কতা হলো বিজ্ঞানের দৃষ্টি দিয়ে সবকিছু ভাবা ও করা। বিজ্ঞানমনস্ক হতে হলে বিজ্ঞানী হতে হবে, এমন নয়, যেকোনো সচেতন মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক হতে পারেন। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ আমাদের প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক কা-জ্ঞান, পরিশীলিত রুচিবোধ এবং বিচারবুদ্ধি ও মানবিক বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ। এই লক্ষ্য তিরোহিত হলে সমূহ বিপদ। অগ্রসরমানতার পথ তাতে বন্ধুর এবং বাধাগ্রস্ত হবে নিঃসন্দেহে। তিনি বলেন, আমাদের যতœশীল হতে হবে শিক্ষামূলক কনটেন্টের প্রতি। আমরা আশা করি এ বিষয়ে গুণগত মান আরও বৃদ্ধি পাবে, বিজ্ঞান গবেষণায় প্রণোদনা যুযোপযুগী হবে, বৈশ্বিক মানের গবেষণা আমরা যাতে দেশেই করতে পারি সেই উদ্যোগ গৃহীত হবে, বিদেশে প্রশিক্ষিত বিজ্ঞান-গবেষক দেশেই থিতু হবেন, তাঁরা রুচিশীল টেক্সট ও কনটেন্ট উপহার দেবেনÑ এইরকম বাস্তবতা প্রতিষ্ঠিত হলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ আর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’য় কোনো পার্থক্য থাকবে না। ডিজিটাল দুনিয়ায় আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে আবির্ভূত হব- এমনই স্বপ্ন আমাদের।আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলা ভাষা সাহিত্য ও বিজ্ঞান ভাবনা কোনো পরস্পরবিযুক্ত বিষয় নয় বরং আমাদের সাহিত্যে বিজ্ঞানের উপাদান জনমনে বিজ্ঞানবোধ সৃজনে ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক ভবিষ্যত নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তবে আমাদের কেবল প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধিতেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না বরং গোটা জাতির মাঝে বিজ্ঞানভিত্তিক ইহজাগতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে। আমরা আশা করি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি সাধন করবে।লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আকিমুন রহমান, আনিসুল হক, রাহাত মিনহাজ, মাহবুব ময়ুখ রিশাদ এবং চাণক্য বাড়ৈ।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি আমিনুর রহমান সুলতান এবং সাকিরা পারভীন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ এবং মাহিদুল ইসলাম । সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী খুরশিদ আলম, সুজিত মোস্তফা, তানভীর সজীব আলম, মুর্শিদুদ্দিন আহম্মদ, আঞ্জুমান আরা শিমুল, মো. রেজওয়ান আহমেদ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড), মোঃ নোমান রেজা রিয়াদ (অক্টোপ্যাড) এবং শাহরাজ চৌধুরী তপন (গীটার)।আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৩রা ফাল্গুন ১৪২৫ শুক্রবার। মেলা চলবে সকাল ১১.০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর
আগামীকাল মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে বেলা ০১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন
সকাল ১০:০০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মোহাম্মদ সাদিক, জাহিদ হায়দার এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————————–

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/১লা ফাল্গুন ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৩তম দিন। মেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৭২টি।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি রফিক আজাদ : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি অসীম সাহা, কবি ফারুক মাহমুদ এবং কবি জাফর আহমদ রাশেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক রশীদ হায়দার।

প্রাবন্ধিক বলেন, বিশ শতকের ষাটের দশকে বাংলাদেশের কবিতাধারার যে নবীন ও দীপ্র, ক্ষুব্ধ ও দীপ্র কবি প্রবংশের আবির্ভাব, রফিক আজাদ তাঁদের অন্যতম। সংক্ষুব্ধ ষাটের দশকে প্রথম হাজিরা দিয়ে তিনি অতিক্রম করেছেন পঞ্চাশের অধিক সৌরবর্ষ। দীর্ঘ এই সময়খণ্ডে, নিরন্তর সাধনায়, কবি রফিক আজাদ নির্মাণ করেছেন নিজস্ব এক শিল্পভুবন; বিষয়-বৈচিত্র্যে এবং প্রকরণ-প্রসাধনে সাজিয়ে তুলেছেন প্রাতিস্বিক এক কবিতাভবন। কাব্যযাত্রার সূচনালগ্নে সমাজ ও মানুষ সম্পর্কে নির্লিপ্ত থাকলেও, ক্রমেই তিনি সংলগ্ন হয়েছেন বৃহত্তর জাতিসত্তার সঙ্গে, স্বদেশের মৃত্তিকা ও মানুষের সঙ্গে। সন্দেহ নেই, ব্যক্তির অন্তর্গত উপলব্ধিই কবি রফিক আজাদের কবিতার মূল সুর, তবে ব্যক্তির সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর কবিতায় নীরবে ভেসে ওঠে স্বদেশের মুখ, তাঁর কণ্ঠেই শোনা যায় প্রত্ন-নৃগোষ্ঠীর যাপিত জীবনের সুর আর স্বর। তিনি বলেন, বিষয়-গৌরবে যেমন, তেমনি প্রকরণ-পরিচর্যায়ও কবি রফিক আজাদ স্বয়ং-স্বতন্ত্র এবং অনুপম। কবিতায় উপমা রূপক চিত্রকল্প নির্মাণে তিনি রেখেছেন স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর, শব্দ-ব্যবহারে তিনি নিয়ত সৃষ্টিশীল ও পরীক্ষাপ্রিয়। তাঁর কবিতা পাঠকের ভাবনা-বিশ্বকে আলোড়িত করে, চেতনায় তোলে অভিঘাত। কেন্দ্রের পরিবর্তে তাঁর কবিতা প্রান্তের জয়গানে। এসব প্রবণতাই সমকালীন বাংলা কবিতায় তাঁকে করে তুলেছে বিশিষ্ট ও ব্যতিক্রমী।

আলোচকবৃন্দ বলেন, রফিক আজাদ বাংলা কবিতায় এক অনিবার্য নাম। তাঁর কবিতা ব্যক্তিক ও সমষ্টিক বোধের ধারক। শব্দকে কী করে চেতনার গভীরতম উপলব্ধির বাহক করে তোলা যায়-রফিক আজাদের কবিতা তার এক শৈল্পিক দৃষ্টান্ত। তিনি সামরিক শাসনের বুটের তলায় চাপা পড়া জীবনযৌবনের রুদ্ধদ্বারকে মুক্ত করার সাধনা করেছেন কবিতায়। তাঁরা বলেন, রফিক আজাদ একজন বিরল সম্পাদকও বটে। বাংলা একাডেমির সাহিত্যপত্র উত্তরাধিকার, রোববার, ঘরে বাইরে ইত্যাদি সাময়িকপত্র সম্পাদনার মধ্য দিয়ে তিনি নবীন লেখকের স্বর আবিষ্কার করেছেন। গদ্যে ততোটা সক্রিয় না হলেও তাঁর আত্মজীবনী কোনো খেদ নেই বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি ভুবনের এক প্রামাণ্য দলিল হয়ে রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে রশীদ হায়দার বলেন, রফিক আজাদ মানেই জীবন, তারুণ্য এবং সুন্দরের প্রতি পক্ষপাত। তাঁর মতো বিশুদ্ধ কবির আবির্ভাব বাংলাদেশের কবিতার জগতকে করেছে ঋদ্ধ। কবিসত্তার বাইরে তাঁর ব্যক্তিসত্তাও ছিল সমান আকর্ষণীয়। ব্যক্তিগতজীবনে তাঁর মতো দেশপ্রেমিক, বন্ধুবৎসল, উদার-মানবিক মানুষের সন্ধান পাওয়া সত্যিই কঠিন ব্যাপার। তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি রফিক আজাদের সাতাত্তরতম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণের আয়োজন করে কবিতাপ্রেমী ও সাহিত্যানুরাগী সকলের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছে।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন শহীদ ইকবাল, মণিকা চক্রবর্তী, সঞ্জীব পুরোহিত, ফারুক সুমন এবং আহম্মেদ শরীফ।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ এবং টোকন ঠাকুর। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম এবং নাসিমা খান বকুল। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, মিজান মাহমুদ রাজীব, ফারহানা শিরিন এবং তানজিনা করিম স্বরলিপি। নৃত্য পরিবেশন করেন সৌন্দর্য প্রিয়দর্শিনী ঝুম্পার পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘জলতরঙ্গ ডান্স কোম্পানি’-এর নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন অনির্বাণ সরকার (তবলা), সুভেল খান শিশু (কী-বোর্ড), শফিজুল আখন্দ পাপ্পু (অক্টোপ্যাড), মো. আনিসুর রহমান খান (গীটার) এবং রাশেদ হোসেন (গীটার)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২রা ফাল্গুন ১৪২৫ বৃহস্পতিবার। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বিজ্ঞানভাবনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রেজাউর রহমান, আবদুল কাইয়ুম এবং অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————————————————–
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৩০ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২তম দিন। মেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৪৯টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি-অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসান হাফিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফিউল আলম, রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং মোহাম্মদ আবদুল হাই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, মনস্বী, বহুমাত্রিক একজন লেখক ছিলেন মনিরউদ্দীন ইউসুফ। সাধারণ কোনো লেখক নন, সাধকই বলতে পারি তাঁকে। আমৃত্যু ব্রতী ছিলেন জ্ঞান ও সাহিত্য সাধনায়। সুদীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় সৃজনকর্মে গভীর অভিনিবেশ, নিষ্ঠা ও মৌলিকত্বের পরিচয় রেখে গেছেন। যে মেধা, ঐকান্তিক অধ্যবসায়ে তাঁর সাহিত্যকৃতি উজ্জ্বল এবং বিচিত্রগামী হয়েছে, আমরা পেয়েছি সোনালি ফসল। প্রকৃতার্থেই তিনি ছিলেন সব্যসাচী একজন লেখক। অঙ্গীকার, প্রত্যয়, একাগ্রতা, শ্রম দিয়ে তিনি আমাদের সাহিত্য অঙ্গনকে ঋদ্ধ করে গেছেন। বিশ্ববিশ্রুত একাধিক লেখকের শাশ্বত কালজয়ী রচনার সঙ্গে তিনি আমাদের প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মেধাবী অনুবাদে আমরা সেগুলোর মূল্যবান আস্বাদ লাভ সমর্থ হয়েছি। বর্তমানকালে আমাদের দেশে তাঁর মতো এরকম নিবেদিতপ্রাণ, অনুকরণীয় সাহিত্য ব্যক্তিত্বের বড্ড অভাব।

আলোচকবৃন্দ বলেন, শাহনামা অনুবাদ মনিরউদ্দীন ইউসুফের অসামান্য কীর্তি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী সৃজনকর্মের সঙ্গে তিনি বাঙালি মননের যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। শুধু এই অনুবাদ নয়, তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য রচনায় একজন সংবেদী মানুষের পরিচয় মুদ্রিত রয়েছে যাকে অনায়াসে শুভ ও কল্যাণ-চেতনার প্রতীক বলে আখ্যায়িত করা যায়।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ বলেন, মনিরউদ্দীন ইউসুফ একজন বিস্মৃত মনীষা। বাংলা একাডেমি তাঁর অনুবাদে ছয় খ-ে শাহনামা প্রকাশ করছে যা দেশে ও বিদেশে বিপুলভাবে আদৃত হয়েছে। জন্মশতবর্ষে তাঁকে নিয়ে এ স্মরণ-আয়োজন মূলত তাঁর অসামান্য কৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার নিদর্শন।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আখতারুজ্জামান আজাদ, মোহিত কামাল, বেগম আকতার কামাল, হামিম কামাল এবং নাসরিন সিমি।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি জাহিদুল হক এবং জাহিদ হায়দার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাজমুল আহসান এবং জিনিয়া ফেরদৌস। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, বিশ্বজিৎ রায়, ফারহানা ফেরদৌসী তানিয়া, সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা, রাজিয়া সুলতানা, নাজমুল আহসান তুহিন, উম্মে রুমা ট্রফি এবং সঞ্জয় কুমার দাস। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড), রিচার্ড কিশোর (গীটার) এবং বিশ্বজিৎ সেন (মন্দিরা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/১লা ফাল্গুন ১৪২৫। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি রফিক আজাদ : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশ্বজিৎ ঘোষ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন অসীম সাহা, ফারুক মাহমুদ এবং জাফর আহমদ রাশেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রশীদ হায়দার। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————–

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৯ মাঘ ১৪২৫ সোমবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার একাদশতম দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১২৮টি।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।

প্রাবন্ধিক বলেন, রক্ষণশীল বাঙালি মুসলিম সমাজে বুলবুল চৌধুরী ছিলেন এক বিদ্রোহী নৃত্যশিল্পী। নৃত্যের মাধ্যমে তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সুকুমার বৃত্তি ও মানবিকবোধ জাগিয়েছেন। নৃত্য যে রাজনৈতিক-সামাজিক চেতনাবোধ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরুদ্ধে দাঁড়াবার সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং ক্ষুধা-মন্বন্তরের সময় মুনাফাখোর, চোরাকারবারি, অসৎ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদ ছড়াতে পারে বুলবুল চৌধুরীই প্রথম তা দেখিয়েছেন। তিনি বিদেশি শাসক-শোষকদের দেশ ছাড়ার আহবান জানিয়েছেন নৃত্যের মাধ্যমে। নৃত্যকে তিনি সাংগঠনিক ও পদ্ধতিগতভাবে চর্চার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করেছেন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বুলবুল চৌধুরী নৃত্যচর্চায় সমকালীন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। তাঁর অনুসৃত পথ ধরে নৃত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, একাডেমি, সমিতি, শিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা এগিয়ে চলেছে তাঁর জন্মশতবর্ষ পরেও। জন্মশতবর্ষে বুলবুল চৌধুরীর সমস্ত সৃষ্টিকর্ম সংগ্রহ, সংরক্ষণপূর্বক প্রচার, প্রকাশ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তাঁর নৃত্যকর্ম পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা যেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল লোহানী বলেন, বুলবুল চৌধুরী নৃত্যের পাশাপাশি প্রাচী নামের উপন্যাস লিখে বাংলা সাহিত্যে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। তাঁর নৃত্য কেবল প্রায়োগিক শিল্পকলা নয়, একই সঙ্গে সমস্ত অসুন্দর এবং কলুষতার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদের নাম।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন- হোসেন উদ্দীন হোসেন, হাবিব আনিসুর রহমান, ড. তাশরিক-ই-হাবিব, মশিউল আলম এবং শিহাব শাহরিয়ার।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং চঞ্চল আশরাফ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন গোলাম সারোয়ার এবং মুঃ আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী চন্দনা মজুমদার, শফিম-ল, সেলিম চৌধুরী, পাগলা বাবুল, রুশিয়া খানম এবং কোহিনুর আকতার গোলাপী। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবর্তী (তবলা), মো. মামুনুর রশিদ (বাঁশি), আনোয়ার সাহাদাত রবিন (কী-বোর্ড), রতন কুমার রায় (দোতারা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/৩০ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১২তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি-অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন হাসান হাফিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শফিউল আলম, রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং মোহাম্মদ আবদুল হাই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————-

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৮ মাঘ ১৪২৫ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার দশম দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ৯০টি।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কথাশিল্পী অমিয়ভূষণ মজুমদার : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহীবুল আজিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হোসেনউদ্দীন হোসেন, মাহবুব সদিক এবং হরিশংকর জলদাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রাবন্ধিক বলেন, এক প্রবল দায়বদ্ধ লেখক অমিয়ভূষণ মজুমদার। আদিতে ছিলেন পূর্ববঙ্গের পাবনা’র মানুষ, স্থিত হলেন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে। রাজনীতির নিয়তিনির্দিষ্ট অধিকাংশের মতন কলকাতারও নয়, হয়ে পড়েন কলকাতা ছাড়িয়ে আরও দূরের জন। আর সেখান থেকেই দারুণ দার্ঢ্য নিয়ে অধিষ্ঠিত হন কেন্দ্রে, পরিণত হন বাংলা সাহিত্যের অনিবার্য লেখক। তাঁর সাহিত্য-বিচারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রিকতা-প্রান্তিকতা প্রভৃতি হিসেবকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখতে হয় যখন তিনি কলকাতাকে অভিহিত করেন ‘ঔপনিবেশিক শহর’ রূপে। সুদীর্ঘ অতিক্রান্ত কালের পরেও সে-শহর ঔপনিবেশিক শক্তিসৃষ্ট শহর শুধু নয় তা উপনিবেশিত দৃষ্টিভঙ্গির অতিরেক বৃহত্তর মূল্যে উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাকে সংকীর্ণ চৌহদ্দি বলে মনে করতেন অমিয়ভূষণ।

আলোচকবৃন্দ বলেন, অমিয়ভূষণ মজুমদারের উপন্যাসের একটা বড় পরিপ্রেক্ষিত হলো নরনারীর সম্পর্কের জটিলতা কিন্তু সে-জটিলতার সামাজিক ব্যাকরণটিকে বাদ দেন না তিনি। বাংলা কথাসাহিত্যের সা¤্রাজ্যের অসামান্য অধীশ্বর অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘হিসাব-নিকাশ উলটেপালটে দেওয়া’ মানুষদের জীবনের ইতিহাসের হিসাব ঠিক-ঠিক লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন; সে কারণেই তিনি স্মরণীয়।

সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, জন্মশতবর্ষে অমিয়ভূষণ মজুমদারকে স্মরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রান্তবর্তী মানুষের অন্তর্গত বেদনা, সংগ্রাম ও সংকল্পের দায় তিনি তাঁর কলমের সঙ্গে অঙ্গীকৃত করে নিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যের ভিন্ন ধারার কথাশিল্পী হিসেবে অমিয়ভূষণ মজুমদার পাঠকের কাছে অনাগতকালে উপস্থাপিত হবেন ভিন্নতর ব্যঞ্জনায়।

খক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কবি অসীম সাহা, রেজাউদ্দীন স্টালিন, মীম নোশিন নাওয়াল খান, মাজহার সরকার এবং পারভেজ হোসেন।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং সঞ্জীব পুরোহিত। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মীর মাসরুর জামান রনি এবং লাবণ্য শিল্পী। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলম দেওয়ান, রণজিত দাস বাউল, মমতা দাসী বাউল, লতিফ শাহ এবং মোঃ আনোয়ার হোসেন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবর্তী (তবলা), মো. খোকন (বাঁশি), মো. হাসান মিয়া (বাংলা ঢোল), নওফেল বাদশা (দোতারা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :

আগামীকাল ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৯ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী

পরিচালক

জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————————————–

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৭ মাঘ ১৪২৫ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার নবম দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২১৮টি। মেলায় ছিল আজ শিশুপ্রহর। সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন
আজ সকাল ১০:০০টায় একাডেমি প্রাঙ্গনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক-শাখায় ৮০, খ-শাখায় ১০৮ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ. এম. এম. মহিউজ্জামান চৌধুরী, ইয়াকুব আলী খান এবং ড. সাইম রানা।

শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন আজ ১০:০০টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান পস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারণ জ্ঞানে ১৪৬ জন এবং উপস্থিত বক্তৃতায় ৪৩ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের সংগীত পরিচালক কাজী দেলোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী অনিমা মুক্তি গমেজ ও ড. আখতারুজ্জাহান।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আবদুল হক : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অজয় দাশগুপ্ত, সোহরাব হাসান এবং আহমাদ মাযহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া।

প্রাবন্ধিক বলেন, একজন সার্থক মননশীল প্রাবন্ধিকের চিন্তনপ্রক্রিয়াকে অনিবার্যভাবে যেমন হতে হয় যুক্তিশৃঙ্খলিত তেমনি তার আবেগ-অনুভূতিকেও বাঁধতে হয় বুদ্ধির শাসনে। সাহিত্য ও সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ে বিশ্লেষণে আগ্রহী একজন প্রাবন্ধিককে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হয় সাহিত্যের যাবতীয় গতি-প্রকৃতির পাশাপাশি তার দেশকালের সংকট ও তার উত্তরণমুখী সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনাকে। এভাবে তিনি একটি জাতির সামগ্রিক সুখ-দুঃখ, আনন্দ- বেদনার সঙ্গে একাত্ম হন, ব্যাপৃত হন আপন জাতিসত্তার স্বরূপ সন্ধানে। যিনি প্রকৃত মনীষী তিনি কালের কাঠামোর মধ্যে থেকেও হয়ে ওঠেন যুগন্ধর ও কালোত্তর প্রতিভার অধিকারী। ‘কলমসৈনিক’ হিসেবে খ্যাত আবদুল হক বাংলাদেশের সেরকমই শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদদের একজন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘটনার-ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে অগ্রণী, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল চিন্তকের পরিচয় দিয়েছেন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- উভয় ক্ষেত্রেই আবদুল হক প্রদর্শন করেছেন বুদ্ধিজীবীতার দায়বোধের চূড়ান্ত আদর্শ। তাঁর চিন্তার স্বচ্ছতা, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেমের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে আছে এ বিষয়ক প্রবন্ধাবলি। তাঁর প্রবন্ধসমূহে সর্বদাই অভিব্যক্ত হয়েছে এদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে গভীরতর বিশ্লেষণমূলক অনুভাবনা। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ে আবদুল হকের সুগভীর চিন্তাভাবনাকে পাঠককুলের বোধের কাছে যত বেশি পৌঁছে দেওয়া যাবে সমাজ ও জাতির জন্য তত বেশি তা ইতিবাচক ও কল্যাণময় ফল বয়ে আনবে। আবদুল হকের বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনার বিস্তার আমাদের একান্তভাবে কাম্য।

সভাপতির বক্তব্যে সুব্রত বড়–য়া বলেন, আবদুল হক একজন সত্যসন্ধ বুদ্ধিজীবী। তাঁর নাট্যরচনা, অনুবাদ, দিনলিপি, প্রবন্ধ গবেষণা-সবকিছুর মধ্যেই বড় করে প্রতিভাত হয়েছে দেশপ্রেম, উদার মানবিকতা এবং নিরাপোষ মনোভাব। জন্মশতবর্ষে তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন মাহবুব সাদিক, মাহবুব আজিজ, মারুফ রায়হান, কুমার চক্রবর্তী এবং পাপড়ি রহমান।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি আতাহার খান এবং ফরিদ কবির। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বেলায়েত হোসেন এবং অনন্যা লাবণী পুতুল। সন্ধায় সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল গোলাম কুদ্দুছের পরিচালনায় ‘বহ্নিশিখা’ এবং খাজা সালাহ উদ্দিনের পরিচালনায় নৃত্যসংগঠন ‘ঘুংঘুর সাংস্কৃতিক একাডেমি’র পরিবেশনা।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৮ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার দশম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কথাশিল্পী অমিয়ভূষণ মজুমদার : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহবিুল আজিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন হোসেনউদ্দীন হোসেন, মাহবুব সদিক এবং হরিশংকর জলদাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সেলিনা হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৬ মাঘ ১৪২৫ শুক্রবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার অষ্টম দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৬৩টি। মেলায় ছিল আজ শিশুপ্রহর। সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়।

শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা : অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সকাল ৮:৩০টায় গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী আবুল বারক্ আলভী। এতে ক-শাখায় ৪০৬, খ-শাখায় ৩৪৭ এবং গ-শাখায় ১৫৭ জন সর্বমোট ৯১০জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেন : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল মনসুর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মতলুব আলী এবং সৈয়দ আবুল মকসুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রফিকুন নবী।

প্রাবন্ধিক বলেন, পরিতোষ সেন নিজের জন্য খানিকটা ভিন্ন পথ কেটে নেন। পশ্চিমা শিল্পের শিল্পের কেন্দ্রভূমি প্যারিসে দীর্ঘ বাস তাঁর মনোজগতে গভীর প্রভাব রেখেছিল। তারপরেও আমরা লক্ষ করি পরিতোষ সেন তাঁর শিল্পকর্মে পশ্চিমা শিল্পের এমন একটি সরলায়িত অভিঘাত নির্মাণ করেছেন যা গভীরভাবে পশ্চিম-প্রভাবিত নয়। ক্যুবিজম তাঁর শিল্পে একটি মূল উপাদান হলেও তা কখনো এর দেশীয় বিষয়বস্তু ও সরলায়িত বিন্যাস ও বর্ণময়তাকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যের দিক থেকে মনে হয় সমসাময়িকদের মধ্যে তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়। সাধারণভাবে পরিহাসপ্রিয়তা ছাড়াও তাঁর চিত্রকর্মে বিপুল সংখ্যক আত্মপ্রতিকৃতিতে নিজকে নিয়ে কৌতুকরসের যে অবতারণা তিনি করেছেন তা একেবারেই অনন্য।

আলোচকবৃন্দ বলেন, পরিতোষ সেনের শিল্পকর্ম স্বকীয়তার এমন কিছু উপাদান ধারণ করে যার মাধ্যমে অন্যদের থেকে তাঁকে আলাদা করে চিনে নিতে বেগ পেতে হয় না। সার্বিক উপস্থাপনে ভারতীয়ত্বের যে প্রাধান্য সেটি অনেক সহজেই প্রতীয়মান হয় যেটি অধিকাংশ চিত্রশিল্পীর ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু ছাড়া অনুমান করা কঠিন। তাঁর চিত্রশিল্পে স্মৃতি এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে যা ঢাকা থেকে কলকাতা-সমস্ত স্মৃতির ক্ষেত্রেই সমান সত্য।
সভাপতির বক্তব্যে রফিকুন নবী বলেন, জন্মশতবর্ষে পরিতোষ

সেনকে স্মরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর জিন্দাবাহার, আমসুন্দরী ইত্যাদি রচনায় ফেলে আসা ঢাকা শহরের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে তা এককথায় অসাধারণ ও অনন্য। এই গুণী শিল্পীর শিল্পকাজ নিয়ে নতুন করে গবেষণার অবকাশ রয়েছে।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি অঞ্জনা সাহা এবং রনজু রাইম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মীর বরকত। সঞ্জয় রায়ের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গীতিসত্র’ এবং ফারহানা চৌধুরীর পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন : ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)’ নৃত্যশিল্পীবৃন্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করেন।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন নাসরীন জাহান, মিনার মনসুর, রফিকুর রশিদ, আহমাদ মোস্তফা কামাল এবং দ্রাবিড় সৈকত।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৭ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার নবম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন
আগামীকাল সকাল ১০:০০টায় একাডেমি প্রাঙ্গনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন আগামীকাল ১০:০০টায় একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন শিশুপ্রহর : আগামীকাল সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত মেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।
বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে লেখক অনুবাদক আবদুল হক : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন অজয় দাশগুপ্ত, সোহরাব হাসান এবং আহমাদ মাযহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সুব্রত বড়–য়া। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৫ মাঘ ১৪২৫ বৃহস্পতিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সপ্তম দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৬১টি।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. সৌমিত্র শেখর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, শহীদ ইকবাল এবং তারিক মনজুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রাবন্ধিক বলেন, মুহম্মদ আবদুল হাই বেঁচেছিলেন মাত্র পঞ্চাশ বছর। কিন্তু তাঁর জন্মের শতবর্ষেও আজ আমরা তাঁকে স্মরণ ও শরণ করছি। এ শুধু মনে রাখা অর্থে স্মরণ নয়। আশ্রয় অর্থে শরণও। অর্থাৎ দৈহিক মৃত্যুর পঞ্চাশ বছর পরেও বেঁচে আছেন তিনি। এ বেঁচে থাঁকা দেহধারণ করে অবশ্য নয়, এ বেঁচে থাকা তাঁর কর্ম ও গুণ দিয়ে। উল্লেখ্য, মুহম্মদ আবদুল হই ফলের আশা না-করে কাজ করে গেছেন একাগ্রচিত্তে। মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি যে কাজ করেছেন, তা বাংলা ও বাঙালির জন্য হয়ে উঠেছে বিশেষ অবলম্বন। ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবার পক্ষপাতী এবং সে-বিচারে বলতে হয়, ঊষর সমকালে বিরূপ রাজনৈতিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে মুহম্মদ আবদুল হাই বাঙালিচেতনার অন্যতম বাতিঘরের মতো কাজ করেছিলেন। সেখানে খানিকটা বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল তাঁকে অবলম্বন করতে হয়েছিল সত্য, কিন্তু তিনি যা করেছিলেন তা বাঙালির সামূহিক অগ্রবর্তিতার পক্ষে গেছে। এখানেই তাঁকে শরণ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়।

আলোচকবৃন্দ বলেন, মুহম্মদ আবদুল হাই ছিলেন বহুমুখী মননের মানুষ। তাঁর মূল পরিচিতি ভাষাবিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও তিনি সামগ্রিকভাবে বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক কারণ সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদান মৌলিক এবং নতুনতা- চিহ্নায়ক। ধ্বনিবিজ্ঞানের বাইরে বাংলা ভ্রমণসাহিত্যেও মুহম্মদ আবদুল হাই রেখেছেন তাৎপর্যপূর্ণ অবদান।

সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা সাহিত্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির নিষ্ঠ সাধকপুরুষ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাধারায় তাঁর অবদান কখনও বিস্মৃত হবার নয়। তিনি নিজে যেমন একজন পুরোধা লেখক ছিলেন তেমনি দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা এবং সারস্বত-সাধনার মধ্য দিয়ে জ্ঞানচর্চার অসামান্য পরম্পরা সৃষ্টি করেছেন। জন্মশতবর্ষে তাঁকে নিয়ে আরও অনেক আলোচনা ও বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি রুবী রহমান এবং শিহাব সরকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহফুজ মাসুম এবং কাজী বুশরা আহমেদ তিথি। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, কান্তা নন্দী, সন্দীপন দাস, সাজেদ ফাতেমী, শান্তা সরকার এবং মোঃ নূরুল ইসলাম। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন পুলিন চক্রবর্তী (তবলা), মো. হোসেন আলী (বাঁশি), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড), আশুতোষ শীল (দোতারা)।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আনোয়ারা সৈয়দ হক, সুরাইয়া বেগম, রাজু আলাউদ্দিন, কাজী রাফি এবং মাহী ফ্লোরা।

গ্রন্থমেলা বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন
আজ বিকেল ৩:০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ এবং একাডেমির পরিচালকৃন্দ।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৬ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার অষ্টম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
শিশুপ্রহর : আগামীকাল সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত মেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।

শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা : অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সকাল ৮:৩০টায় গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন চিত্রশিল্পী আবুল বারক্ আলভী।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেন : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আবুল মনসুর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মতলুব আলী, সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং আমীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রফিকুন নবী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন

আজ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৫ মাঘ ১৪২৫ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩:০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৩ মাঘ ১৪২৫ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ষষ্ঠ দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৫২টি।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল হাসনাত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিমল গুহ, গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং শোয়াইব জিবরান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

প্রাবন্ধিক বলেন, ‘প্রিয় ফুল খেলার দিন নয় অদ্য’ কিংবা ‘কমরেড নবযুগ কি আনবে না’ -তাঁর এসব অবিনাশী পঙ্ক্তিমালার মধ্যে আমাদের অনেকেরই মানস পুষ্টি অর্জন করেছিল ও আমরা এর মাধ্যমে সময়ের দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে উপলব্ধি করেছিলাম, নবচৈতন্যের আলোকে। আমরা এসব কবিতার মর্মভেদী আবেদনকে অনুভব করেছিলাম জীবনকে মেলাবার আবেদন; প্রিয়ার সান্নিধ্য ও তার বাহুডোরকে পরিত্যাগ করে স্বপ্ন ছিঁড়ে জনমানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।

আলোচকবৃন্দ বলেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় বাংলা কবিতায় নতুন যুগের উদ্গাতা। তিনি জনমানুষের আকাক্সক্ষাকে কবিতার শব্দে, ছন্দে শিল্পরূপ দিয়েছেন। কবিতা তাঁর কাছে কোনো উপরিতলার প্রসাধন ছিল না বরং কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের জীবন এবং একই সঙ্গে সমষ্টির জীবন যাপন করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে আসাদ চৌধুরী বলেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবিতার মধ্য দিয়ে সময়কে ধারণ করেছেন। কবিতার পাশাপাশি গদ্য ও অনুবাদে তিনি রেখেছেন স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের তিনি ছিলেন এক ঘনিষ্ঠ সুহৃদ। তাঁর মতো কবিমানুষের জন্মশতবর্ষে বাংলা একাডেমির এ আয়োজন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রশংসনীয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি ফারুক মাহমুদ এবং ফারহান ইশরাক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আশরাফুল আলম এবং শিরিন ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবুবকর সিদ্দিক, স্বপ্না রায়, আজগর আলীম, শফিউল আলম রাজা, অনিমা মুক্তি গোমেজ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন শাহ্নূর আলম রাজন (তবলা), এস. এম. রেজা বাবু (বাংলা ঢোল), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড), নির্মল কুমার দাস (দোতারা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৫ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার সপ্তম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. সৌমিত্র শেখর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, জীনাত ইমতিয়াজ আলী, শহীদ ইকবাল এবং তারিক মনজুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গ্রন্থমেলা বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন
আগামীকাল ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৫ মাঘ ১৪২৫ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩:০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————-

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৩ মাঘ ১৪২৫ মঙ্গলবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৫ম দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৫২টি।
বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কবি সিকান্দার আবু জাফর : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি নাসির আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. শিরীণ আখতার এবং কবি বায়তুল্লাহ কাদেরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

প্রাবন্ধিক বলেন, কবি সিকান্দার আবু জাফর যে শুধু গল্প, উপন্যাস, অনুবাদ, নাটক, সম্পাদকীয় গদ্য রচনা করেছেন তা-ই নয়, শিশুদের জন্যও রয়েছে তাঁর নানামাত্রিক গদ্য। তাঁর গদ্যরচনার পরিধি কবিতার চেয়ে বেশি বৈ কম নয়। তারপরও তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি কবি এবং পাঠকপ্রিয় কবি। এমনকি একজন উচ্চাঙ্গের গীতিকার হিসেবেও সফল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত তাঁর বিখ্যাত কবিতা সংকলিত হয়েছিল ‘বাঙলা ছাড়ো’ কাব্যগ্রন্থে। এ বইটি কলকাতা বসেই প্রকাশ করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কবি। বাংলাদেশে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, গণহত্যার ভয়াল চিত্র এই কাব্যগ্রন্থের বহু কবিতায় উৎকীর্ণ। দুঃশাসনের দুঃসময় তথা অন্ধকার শেষে স্বাধীনতার সোনালি আলোয় বাংলাদেশ উদ্ভাসিত হোক, মানুষের মুক্তি আসুক, মানবতার পতাকা উড্ডীন হোক- এই আকাক্সক্ষা লালন করেছেন কবি তাঁর আজীবনের সাহিত্যসাধনায়।

আলোচকবৃন্দ বলেন, সিকান্দার আবু জাফরের গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সম্পাদকীয় সর্বত্রই বাংলাদেশ ও তার শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তি, মানবতার জয়গান বাক্সময় হয়ে উঠেছিল। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষের সপক্ষে সোচ্চার ছিল তাঁর ক্ষুরধার কলম। এমনকি তাঁর সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘সমকাল’-এর সম্পাদকীয় নিবন্ধেও আমরা একজন প্রগতিশীল মানবতাবাদী লেখকের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন বহুমুখী মননের মানুষ। অঙ্গীকার ও মহত্তের দিক থেকে তাঁর সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তাঁর কবি ও গীতিকার সত্তা উৎসর্গিত হয়েছে জনমানুষের মুক্তির আবাহনে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন তাঁর সাহসী সাহিত্যিক ভূমিকা ছিল তেমনি স্বল্পায়ু জীবনে তিনি মানুষের মানবিক অধিকারের পক্ষে সবসময় ছিলেন সোচ্চার। জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা আজ নতুন করে অনুভূত হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি সানাউল হক খান এবং তারিক সুজাত। আবৃত্তি পরিবেশন করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং শাহাদাৎ হোসেন নিপু। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মাহমুদ সেলিম, সমর বড়ুয়া, আরিফ রহমান, সুরাইয়া পারভীন এবং স্বর্ণময়ী ম-ল। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), শাহরাজ চৌধুরী তপন (গীটার), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড), মোঃ মেসবাহ উদ্দিন (অক্টোপ্যাড)। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া, আলম তালুকদার, আয়শা ঝর্না, হামীম কামরুল হক, অরবিন্দ চক্রবর্তী।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৪ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার ষষ্ঠ দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আবুল হাসনাত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বিমল গুহ, গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং শোয়াইব জিবরান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি আসাদ চৌধুরী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২২মাঘ ১৪২৫ সোমবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার চতুর্থ দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৪১টি।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ এমপি।
স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আজকের আলোচনা অনুষ্ঠানটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যের দাবি রাখে কারণ ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ এ অনুষ্ঠানে জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে অভিষিক্ত করার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে উপস্থিত হয়েছেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, ১৯৬৯-এ ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে তোফায়েল আহমেদ যখন শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তখন মঞ্চে উপস্থিত ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) ছাত্র ইউনিয়ন মেনন) ও ডাকসুসহ সকল ছাত্র নেতৃবৃন্দ রেসকোর্সের লক্ষ জনতার সাথে দু-হাত তুলে এই ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানান। বস্তুত, সর্বসম্মতিক্রমেই শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। কেউ কেউ কিছু না জেনেই ভিত্তিহীন মতদ্বৈধতার প্রশ্ন তুলতে চান, কেউ আবার ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি আগেই চয়ন ও ব্যবহারের কীর্তি দাবি করেন- যার কোনো ঐতিহাসিক মূল্য নেই। আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের ৫০ বছর পূর্তি এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ৫০ বছর পূর্তিতে আমাদের মনে রাখতে হবে-এ দুটি ঘটনাই ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি এবং বাঙালি জাতির সম্মিলিত ইচ্ছার মহত্তম প্রকাশ।

আলোচকবৃন্দ বলেন, ১৯৬৯ বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় সময়ের নাম। স্বাধীনতার প্রস্তুতিপর্ব বলা চলে ইতিহাসের এই সময়খ-কে। ছাত্রজনতার দাবি কীভাবে গোটা দেশের, সমগ্র জাতির জনদাবিতে পরিণত হয় তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল সে সময়। ৬৯-এরই ২৩ ফেব্রুয়ারি কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতির পক্ষে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ যখন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিত ভূষিত করেন তখন মূলত তিনি স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতির আশা-আকাক্সক্ষার মূর্ত প্রতীকরূপে পরিগণিত হন। এবছর এ উপাধি অর্জনের পঞ্চাশ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ইতিহাসের দায় পূরণ করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৬৯-এ সমগ্র বাঙালি জাতি স্বাধীনতার অগ্নি-আকাক্সক্ষায় উজ্জীবিত হয়েছিল। সংগ্রামী ছাত্রজনতার সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছিল কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের মুক্তির দাবি। উপনেবিশের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল আসাদ, মতিয়ুর, সাজর্ন্টে জহুরুল হক, শামসুজ্জোহা প্রমুখের রক্তে। জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে গতিবেগ দিয়েছে মিথ্যা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুর কারামুক্তির দাবি। অবশেষে ছাত্রজনতার গণসংর্বধনায় ১৯৬৯-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদানের মাধ্যমে যেন আসন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক হিসেবে যেন জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়। জাতির সে প্রত্যাশা তিনি পূরণ করেছেন। বাংলার বন্ধু হয়ে বাংলার মানুষের জন্য হাজার বছরের প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন মাকিদ হায়দার এবং ইকবাল আজিজ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাহমুদা আখতার। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাতেমা-তুজ-জোহরা, খায়রুল আনাম শাকিল, ইয়াকুব আলী খান, লীনা তাপসী খান এবং ক্যামেলিয়া সিদ্দিকা। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন স্বরূপ হোসেন (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশী), রবিনস্ চৌধুরী (কী-বোর্ড), ফিরোজ খান (সেতার)। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন জাকির তালুকদার, নাসিমা আনিস, বিধান রিবেরু, তিথি আফরোজ এবং গিরিশ গৈরিক।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সায়েরা হাবীব।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২৩ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার পঞ্চম দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে কবি সিকান্দার আবু জাফর : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি নাসির আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান, ড. শিরীণ আখতার এবং কবি বায়তুল্লাহ কাদেরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————–

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২১মাঘ ১৪২৫ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৩য় দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৩৮টি।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। বলা হয়ে থাকে উনসত্তর না হলে সত্তরের নির্বাচন হতো না আর সত্তর না এলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধও হতো না। বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা আরো প্রলম্বিত হতো-অধিকারহারা মানুষকে হয়তো জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হতো। প্রসঙ্গত এ কথা উল্লেখ করাও যৌক্তিক যে উনসত্তর হঠাৎ করে আসেনি। উনসত্তরের প্রেক্ষাপট তৈরির সংগ্রাম দীর্ঘ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি এবং ছাত্রসমাজের সংগ্রামী ভূমিকার প্রতি আস্থা রেখে সর্বস্তরের মানুষ উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল সুন্দর জীবনের আশায়। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অধিকারের পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে এসেছিলো অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবার প্রত্যাশা নিয়ে। আর সে কারণেই স্কুলছাত্র মতিউর জীবন দেয়, জীবন দেয় শ্রমিক মনু মিয়া।

আলোচকবৃন্দ বলেন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদের স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। এই অভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ সংকেত। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আর্থ-সামাজিক-রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর আগে মানুষ পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামো ও সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে ছিল। আজ গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী এবং স্বাধীনতার আসন্ন সুবর্ণজয়ন্তীর প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে মানুষের সে স্বপ্নপূরণের দিন এসেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে-গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তীতে এ আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত গুরুত্ববহ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের এক বৃহৎ প্রস্তুতিপর্ব এই গণঅভ্যুত্থান। মুক্তিযুদ্ধের মর্ম অনুধাবন করতে হলে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে আমাদের বিশদ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি রবিউল হুসাইন এবং আলতাফ হোসেন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম ও ঝর্ণা সরকার। সংগীত পরিবেশন করেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, আবদুর রশিদ এবং নূসরাত বিনতে নূর। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন সুবীর চন্দ্র ঘোষ (তবলা), সুনীল কুমার সরকার (কী-বোর্ড), নাজমুল আলম খান (মন্দিরা) এবং অসিত বিশ্বাস (এসরাজ)। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের সাহিত্যকর্ম বিষয়ে আলাপনে অংশ নেন আবুল কাশেম, দিলদার হোসেন, শামীম রেজা, অদিতি ফাল্গুনী এবং কৌস্তুভ শ্রী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাহবুবা রহমান।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২২ মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার চতুর্থ দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নূহ-উল-আলম লেনিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ এমপি। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————-

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

আজ ২রা ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২০মাঘ ১৪২৫ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার দ্বিতীয় দিন। গ্রন্থমেলা চলে বেলা ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ৮১টি। মোলায় আজ ছিল শিশুপ্রহর।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিজয় : ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবীব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী এবং গবেষক মোফাকখারুল ইকবাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক।

প্রাবন্ধিক বলেন, ভাষা আন্দোলন পূর্ববাংলার মানুষকে মুক্তি ও স্বাধীনতার দিশা দিয়েছে। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির লড়াই ক্রমশ পরিণত হয়েছে সায়ত্ত্বশাসন এবং স্বাধীনতামুখী অনিবার্য সংগ্রামে। এ অঞ্চলের চিন্তানায়ক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘ সংগ্রামের পরম্পরায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও মুক্তির লক্ষ্যে বাঙালিরা যে পথে নেমেছিল সে পথ ছিল বীরত্ব, ত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ের পথ। সে পথে শেষ গন্তব্যে পৌঁছেছি আমরা নয়মাসের দীর্ঘ সংগ্রাম, অসীম ত্যাগ ও বিপুল বীরত্বের বিনিময়ে। তখন ১৬ ডিসেম্বরের শীতবিকেলের সূর্য পশ্চিম দিগন্তে লালিমা ছড়াচ্ছিল, সে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল রমনার সবুজ চত্বর-আর সেই লাল-সবুজের অপরূপ আলোয় আমাদের বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ যেন বাংলার ও বঙ্গবন্ধুর জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছিল।

আলোচকবৃন্দ বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের মোহনায় পৌঁছুতে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত ভাষা-আন্দোলনবাহিত চেতনাই আমাদের ধারাবাহিকভাবে উপনীত করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের দুয়ারে। ভাষার সংগ্রাম আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে জাতিসত্তার আত্মপরিচয় অন্বেষণে। তবে এ পথের যাত্রা কুসমাস্তীর্ণ ছিল না মোটেও। নানামুখী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বায়ান্নকে সফল করে তুলেছে একাত্তরে।

সভাপতির বক্তব্যে আহমদ রফিক বলেন, ভাষার সংগ্রাম মূলত স্বাধীনতার সংগ্রাম। ভাষা আন্দোলন চেতনার যে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেছিল তারই বিচ্ছুরিত শিখায় আমরা আমাদের জাতিসত্ত্বার স্বরূপ আবিষ্কার করেছি এবং আঁধার রাতের পরিধি ভেঙে সম্ভব করেছি স্বাধীনতার সুবর্ণ সকাল।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি আসাদ মান্নান এবং কবি হালিম আজাদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইস্তেকবাল হোসেন এবং লায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী। সংগীত পরিবেশন করেন তিমির নন্দী, শিবু রায়, রুমানা ইসলাম, আলম আরা মিনু, শ্যামা সরকার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), রিচার্ড কিশোর (গীটার), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড) এবং মোঃ ফারুক (প্যাড)।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজী রুমানা আহমেদ সোমা।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২১মাঘ ১৪২৫ অমর একুশে গ্রন্থমেলার তৃতীয় দিন। মেলা চলবে বেলা ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রামেন্দু মজুমদার, মাহফুজা খানম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’র শুভ উদ্বোধন

আজ ১৯ মাঘ ১৪২৫/১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার শুভ উদ্বোধন হলো মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেল ৩:০০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং উদ্বোধনী স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা’র নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরের ধারা-এর শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং ঐতিহাসিক ভাষার গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি পরিবেশন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি। সম্মানিত বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ (ভারত) এবং প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক ও গবেষক মোহসেন আল-আরিশি (মিশর)। প্রকাশক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে হাক্কানী পাবলিশার্স প্রকাশিত SECRET DOCUMENTS OF INTELLIGENCE BRANCH ON FATHER OF THE NATION BANGABANDHU SHEKH MUJIBUR RAHMAN (VOLUME-2, 1951-1952)-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোহসেন আল-আরিশি আরবিতে লেখা শেখ হাসিনার জীবনীগ্রন্থ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন এবং বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মোহসেন আল-আরিশি রচিত বইয়ের অনুবাদ-শেখ হাসিনা : যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও মহাপরিচালক।

স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এবারের গ্রন্থমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বিজয়’ : ১৯৫২-৭১ নবপর্যায়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ভাষা আন্দোলনের সাত দশক পূর্তি অর্থাৎ জাতীয় জীবনের সমস্ত বিজয়ী মুহূর্তকে এবারের গ্রন্থমেলার মর্মমূলে প্রতিস্থাপন করতে চেয়েছি আমরা।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি বলেন, একুশের গ্রন্থমেলা জাতির সৃজনশীল সত্তার পরিচয়বহ।

সম্মানিত বিদেশি অতিথির বক্তব্যে বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। পনের বছর বয়সে এ দেশ ছেড়ে গেলেও বাকি বাহাত্তর বছর ধরে এ অনন্য দেশের স্মৃতিই বহন করে চলেছি। তিনি বলেন, ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি কাব্যের নোবেলপ্রাপ্তি, ১৯৫২-তে ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯৯-এ একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতিলাভ বাংলাভাষী মানুষের স্বপ্নকে দিয়েছে বিশ্বজনীনতা।

অপর সম্মানিত অতিথি মিশরের লেখক-সাংবাদিক ও গবেষক মোহসেন আল-আরিশি বলেন, এ গ্রন্থমেলা উগ্রতা এবং অন্ধতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের লড়াইয়ের প্রতীক। যে লড়াইয়ের প্রতীক বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনাও। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত নির্মাণে শেখ হাসিনা যেভাবে লড়াই করছেন, তাঁর সে লড়াইয়ে সারাবিশ্বের গ্রন্থপ্রেমী সকল উদার মানুষের সমর্থন রয়েছে।

প্রকাশক প্রতিনিধি ফরিদ আহমদে বলেন, একুশের গ্রন্থমেলার পাশাপাশি দু’বছর অন্তর ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলা আয়োজন এখন সময়ের দাবি।

বিশেষ অতিথি কে এম খালিদ এমপি বলেন, এবারের একুশে গ্রন্থমেলা মননসমৃদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক জাতিগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সভাপতিত্ব ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন এক জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। মুদ্রিত বই নিয়ে মাসব্যাপী এই উৎসবের ব্যাপ্তি প্রমাণ করে প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশেও মুদ্রিত বইয়ের গুরুত্ব কিছুমাত্র হ্রাস পায়নি।

প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একুশের মেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এই মেলা প্রমাণ করে ডিজিটাল লাইব্রেরি কোনোভাবেই মুদ্রিত বইয়ের বিকল্প হতে পারে না। আমরা প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়েও নতুন বইয়ের নতুন পাতার ঘ্রাণ আস্বাদন থেকে বঞ্চিত হতে চাইনা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে নানা সংগ্রামের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষাভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই এক বিস্ময়ের ব্যাপার। একুশের চেতনাও এখন আর বাংলাদেশের সীমানায় আটকে নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে এবং প্রবাসী বাঙালির প্রচেষ্টায় আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তিনি বলেন, সামনের কয়েকটি বছর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং অমর একুশের সত্তর বছর পূর্তিÑ এই তিন মহান মুহূর্তকে সামনে রেখে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্য-অশিক্ষা-জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করা হয়। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতা- কাজী রোজী, কথাসাহিত্য- মোহিত কামাল, গবেষণা- সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা- আফসান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে দুইলক্ষ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী গ্রন্থমেলা পরিদর্শন করবেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রামেন্দু মজুমদার, নুরুন্নাহার খানম এবং ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২রা ফেব্রুয়ারি ২০১৯/২০মাঘ ১৪২৫ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার দ্বিতীয় দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিজয় : ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবীব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী এবং গবেষক মোফাকখারুল ইকবাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————-

প্রাবন্ধিক-গবেষক, বাংলা একাডেমির উপপরিচালক
প্রয়াত ড. অনু হোসেনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক-গবেষক, বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. অনু হোসেন আজ ভোরে ইন্তেকাল করেন।

অনু হোসেন ১৯৬৫ সালের ১১ মার্চ মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং এবং বিভাগ থেকে ‘বাংলাদেশের কবিতায় লোকসংস্কৃতি (১৯৪৭-৯৬)’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক ভোরের কাগজ, যুগান্তর এবং ডেসটিনি পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি বাংলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগে উপপরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের কবিতা প্রসঙ্গে : ১৯৪৭-৯৬, শিল্পের চতুষ্কোণ, বাংলাদেশের কবিতা : লোকসংস্কৃতির নন্দনতত্ত্ব, বোধ ও বাতি, শিল্পের তরঙ্গ অন্তরঙ্গ, জীবনী : আবদুল মান্নান সৈয়দ। তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : আবদুল মান্নান সৈয়দ রচনাবলি, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর টুনটুনির গল্প, গল্পমালা, জ্যোতির্ময় : সৈয়দ আকরম হোসেন সংবর্ধনাগ্রন্থ, অভিবাদন শহীদ কাদরী, সংস্কৃতিসাধক সন্জীদা খাতুন (যৌথ), সমকালে রবীন্দ্রনাথ : সমকাল পত্রিকায় রবীন্দ্রচর্চা, এবং Bangla Academy English-Bangla Dictionry : Revised & Enlarged Edition (যৌথ)।

তিনি বেশকিছুদিন যাবত ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। আজ সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তাঁর মরদেহ আনা হয় এং এখানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সচিব আব্দুল মান্নান ইলিয়াস এবং একাডেমির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন, অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি মনজুরুর রহমান, কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী, কবি মাহমুদ হাফিজ, কবি মুজতবা আহমেদ মোরশেদ, কবি হালিম আজাদ, মুর্শিদ আনোয়ার, কবি শোয়াইব জিবরান, কবি ওবায়েদ আকাশ, কবি শাহেদ কায়েস, শারমিনুর রহমান, ইফতেখার মাহমুদ, সফেদ ফরাজী, রাজু আহমেদ মামুন, সঞ্জীব পুরোহিত, আশরাফ জুয়েল, শিল্পী রাজিব রায়, প্রয়াত অনু হোসেনের সহধর্মিনী আফসানা ফেরদৌস, একমাত্র সন্তান পূর্ণ প্রমিতসহ পরিবারের অন্যন্য সদস্যবর্গ।

বাংলা একাডেমি ড. অনু হোসেনের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————–

‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন

 ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ১৮ই মাঘ ১৪২৫/৩১শে জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 সংবাদ সম্মেলনে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’র সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন গ্রন্থমেলার সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সচিব মোঃ আব্দুল মান্নান ইলিয়াস, জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জী, গ্রন্থমেলার ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান নিরাপদ মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড চেয়ারম্যান জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী। সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক, সচিব ও গ্রন্থমেলার সদস্য-সচিব উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়া গ্রন্থমেলার নতুন লোগো উপস্থাপন করেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর।

(অপরেশ কুমার ব্যানার্জী)
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

উদ্বোধন অনুষ্ঠান

আগামীকাল ১৯ মাঘ ১৪২৫/১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বিকেল ৩:০০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি। সম্মানিত বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ (ভারত) এবং প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক ও গবেষক মোহসেন আল-আরিশি (মিশর)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে SECRET DOCUMENTS OF INTELLIGENCE BRANCH ON FATHER OF THE NATION BANGABANDHU SHEKH MUJIBUR RAHMAN (VOLUME-2, 1951-1952)-এর মোড়ক উন্মোচন করা হবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মোহসেন আল-আরিশি রচিত বইয়ের অনুবাদ-শেখ হাসিনা : যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয় তুলে দেয়া হবে ।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী গ্রন্থমেলা পরিদর্শন করবেন।

(অপরেশ কুমার ব্যানার্জী)
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন

‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আগামীকাল ১৮ই মাঘ ১৪২৫/৩১শে জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ
বাংলা একাডেমি, ঢাকা

—————————————————————————————————-

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা

১৫ই মাঘ ১৪২৫/২৮শে জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার বিকেল ৪:৩০টায় বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনের চতুর্থ তলার শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা করেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব আব্দুল মান্নান ইলিয়াস, একাডেমির পরিচালক, উপপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’ পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-

১.কবিতা – কাজী রোজী

২.কথাসাহিত্য – মোহিত কামাল

৩. প্রবন্ধ / গবেষণা – সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ

৪. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য – আফসান চৌধুরী

আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেবেন।

(অপরেশ কুমার ব্যানার্জী)
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

 ————————————————————————————————————-

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা

আগামীকাল ১৫ই মাঘ ১৪২৫/২৮শে জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার বিকেল ৪:৩০টায় বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনের চতুর্থ তলার শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা করবেন।

(অপরেশ কুমার ব্যানার্জী)
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………

‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ আয়োজন উপলক্ষ্যে প্রাক প্রস্তুতিমূলক পরিদর্শন

বাংলা একাডেমি আয়োজিত আসন্ন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’ আকর্ষণীয় ও নান্দনিক করার পাশাপাশি এর ত্রুটিবিচ্যুতি নির্ণয়ের জন্য আজ ২৭শে জানুয়ারি রবিবার দুপুর ১২:০০টায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর ড. গোলাম রব্বানি, শাহাবাগ থানার ওসি আবুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি সহকারী প্রকৌশলী (অঞ্চল-১) নির্মল চন্দ্র দে, বাংলা একাডেমির সচিব (ভারপ্রাপ্ত) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ, বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. মোঃ হাসান কবীর, মোঃ মোবারক হোসেন, ডা. কে. এম মুজাহিদুল ইসলাম, ড. মিজানুর রহমান এবং বাংলা একাডেমির প্রশাসন উপবিভাগের উপপরিচালক সমীর কুমার সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তাঁরা সড়ক পথে বিভিন্ন অব্যবস্থা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য নির্দেশনা দেন। উল্লেখ্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১৯ গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন। ইতোপূর্বে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গ্রন্থমেলার প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………

‘কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯’ ঘোষণা

বাংলা কবিতায় কবি জসীমউদ্দীনের অনন্য অবদান স্মরণে বাংলা একাডেমি ২০১৯ সাল থেকে
কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ‘কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯’-এ ভূষিত হয়েছেন বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণ।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যে কোনো শাখায় সার্বিক অবদানের জন্য একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিককে এক বছর অন্তর বাংলা একাডেমি এ পুরস্কার প্রদান করবে। পুরস্কারের অর্থমূল্য ২,০০,০০০.০০ (দুই লক্ষ) টাকা।

আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————–

চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন এবং চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের প্রয়াণে বাংলা একাডেমির শোকবাণী

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব মৃণাল সেন এবং বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন।
জন্মসূত্রে বাংলাদেশের ফরিদপুরের সন্তান মৃণাল সেন বাংলা চলচ্চিত্রকে দিয়েছিলেন নতুন দিশা। বাংলাসহ ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত তাঁর চলচ্চিত্রকর্ম ধারণ করেছে শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে সুষম সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা। তাঁর চলচ্চিত্রসমূহে তিনি যে শিল্পভাষায় সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে ধারণ করেছেন তা দেশকালের সীমা পেরিয়ে লাভ করেছিল আন্তর্জাতিক মহিমা। একদিন প্রতিদিন, খারিজ, কলকাতা ৭১, ভুবনসোম, পদাতিক, আকালের সন্ধানে এইসব চলচ্চিত্র আমাদের চেতনাকে যুগপৎ দীপিত ও শাণিত করে।

সৈয়দ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের জগতে এক অনন্য নাম। তাঁর চিত্রকাজে বাংলাদেশের ভূবৈচিত্র্য অসামান্য শৈল্পিক ব্যঞ্জনায় অভিষিক্ত হয়েছে। সৈয়দ জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী স্মৃতির মানচিত্র বাংলাদেশের পঞ্চাশ দশকের শিল্পসাহিত্য জগতের এক বিশ্বস্ত ভাষ্য।

বাংলা একাডেমি মৃণাল সেন এবং সৈয়দ জাহাঙ্গীরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং উভয়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী
মহাপরিচালক

————————————————————————————————————

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রয়াণে বাংলা একাডেমির শোকবাণী

বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি এবং গদ্যশিল্পী নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (জন্ম : ১৯ অক্টোবর ১৯২৪) গতকাল ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ প্রয়াত হয়েছেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর অবদান তুলনারহিত। তাঁর কবিতা যেমন আবহমান বাংলা কবিতার ধারায় নতুন স্বরের সংযোজন করেছে তেমনি কবিতার ক্লাস বইয়ের মধ্য দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মে তিনি সঞ্চারিত করেছেন কবিতার জন্য আগ্রহ এবং ভালোবাসা। তাঁর কবিতার চরিত্র ‘অমলকান্তি’ কিংবা ‘কলকাতার যীশু’ কবিতাপ্রেমী সাধারণ পাঠকের কাছে কিংবদন্তির মর্যাদায় অভিষেক লাভ করেছে। কথাশিল্প, শিশুকিশোর সাহিত্য এবং ব্যাকরণ চর্চায়ও নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অসামান্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রথম কবিতার বই নীল নির্জন থেকে আত্মজীবনী নীরবিন্দু পর্যন্ত ব্যক্ত হয়েছে শাশ্বত মানুষের হৃদয়ের ভাষা। সাময়িকপত্র সম্পাদনায় তাঁর অবদানও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জন্মসূত্রে তিনি যেমন বাংলাদেশের ফরিদপুরের সন্তান তেমনি সাহিত্যকর্মেও এদেশের মানুষ ও মৃত্তিকার প্রতি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁর চির-অমলিন অনুরাগ প্রকাশ করে গেছেন।

বাংলা একাডেমি কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী
মহাপরিচালক

…………………………………………………………………………………………………………………

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের শুভেচ্ছা বিনিময় ও শ্রদ্ধা নিবেদন

০৯ই পৌষ ১৪২৫/২৩শে ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার সকাল ১০:০০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে বাংলা একাডেমির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী একাডেমির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন-সহ একাডেমির পরিচালক ও উপপরিচালকবৃন্দ। শুভেচ্ছাপর্বটি পরিচালনা করেন বাংলা একাডেমির প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক বলেন, বাংলা একাডেমি আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা এবং বিকাশে এই প্রতিষ্ঠান নিরন্তর কাজ করে চলেছে। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বাংলা একাডেমির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করব।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী এরপর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, ধানম-ির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সমাধি এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাংলা একাডেমি পরিচালিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান

২৩শে ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার সকাল ১১:০০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বাংলা একাডেমি পরিচালিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স ৮১, ৮২, ৮৩ ও ৮৪তম ব্যাচের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলা একাডেমির এই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রেখে চলেছে। এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত হবে বলে আশা করি।

সভাপতির বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বাংলা একাডেমির নানামুখী কর্মকা-ের মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স অন্যতম। একজন দক্ষ ও সফল মানুষের জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা বিজ্ঞান-প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নিজের প্রত্যাশিত স্থান করে নিতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

রোকেয়া স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠান

বাংলা একাডেমি ২৩শে ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। রোকেয়া-মানস শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। সভাপতিত্ব করেন কবি রুবী রহমান।

স্বাগত ভাষণে কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, রোকেয়ার আলোকপথে আমরা অন্ধকার ভেদ করে সম্মুখে অগ্রসর হয়েছি। একটি অসম সমাজব্যবস্থার ভেতর থেকে তিনি যেমন লড়াই করে নিজে মুক্ত হয়েছেন তেমনি এদেশের নারীদের দেখিয়েছেন মুক্তির পথরেখা।

একক বক্তা অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল বলেন, ব্যক্তি রোকেয়া, লেখক রোকেয়া এবং সংগ্রামী রোকেয়া-এই বিভিন্ন সত্তার অভিন্ন মানুষটি যেভাবে সামাজিক রক্ষণশীল বৃত্ত ভেঙে নারীর জন্য আলোকিত ভুবনের সন্ধান দিয়েছেন তা বিস্ময়কর। তাঁর যুক্তিবোধ, ইহজাগতিক চেতনা তাঁকে সবসময় লড়াকু ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছে। এই লড়াই কখনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কখনও সমাজ সংস্কার আন্দোলন, আবার কখনো তাঁর অসামান্য রচনার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর লেখায় তিনি সবসময় ভবিষ্যতের কথা বলেছেন এবং স্বপ্ন দেখেছেন ভবিষ্যতের পৃথিবী হবে নারী অধিকারের পৃথিবী; যা বিদ্যমান অসমতার উৎপাটন করবে। আজ ২০১৮ সালে এসেও রোকেয়া তাঁর কালজয়ী সাহিত্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের নিত্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন।

সভাপতির ভাষণে কবি রুবী রহমান বলেন, রোকেয়া নারী জাগরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় জাগরণের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর জীবনব্যাপী আলোক- সাধনায় তিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য এক সুন্দর আগামীর ক্ষেত্র প্রস্তুত করে গেছেন।

 

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী

পরিচালক

জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………….

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর যোগদান

আজ ০৬ই পৌষ ১৪২৫ / ২০শে ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে যোগদান করেছেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ এর ০৫.০০.০০০০.১৪৬.০০.০২২.১৭-৪৮৬ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনমূলে এবং বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩ এর ২৬(৩) ধারা অনুযায়ী ০৩ (তিন) বছর মেয়াদের জন্য তিনি এই পদে যোগদান করেন।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৪৮ ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে আছেÑ কবিতাগ্রন্থ: দাও বৃক্ষ দাও দিন, মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি, হাওয়া কলে জোড়াগাড়ি, নোনা জলে বুনো সংসার, স্বপ্নহীনতার পক্ষে, আমার একজনই বন্ধু, পোশাক বদলের পালা, প্রেমের কবিতা, কৃষ্ণ কৃপাণ ও অন্যান্য কবিতা, সিংহদরজা, বেদনার চল্লিশ আঙুল, ম্লান, ম্রিয়মান নয় ; বিপ্লব বসত করে ঘরে, ছিন্নভিন্ন অপরাহ্ন, জয় বাংলা বলো রে ভাই, সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না সুগন্ধ ময়ূর লো, নির্বাচিত কবিতা, মুখোমুখি : তুচ্ছ; স্বনির্বাচিত প্রেমের কবিতা, হ্রী, কতো আছে জলছত্র, কতোদূর চেরাপুঞ্জি, কাদামাখা পা, ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই, একা ও করুণা, যমজ প্রণালী, আমার জ্যামিতি, পশ্চিমের গুপ্তচর, কবিতাসমগ্র। উপন্যাস: কৃষ্ণপক্ষে অগ্নিকা-, পরাজয়। অনুবাদ: মৌলানার মন : রুমীর কবিতা। আত্মজৈবনিক: আমার কুমার। গদ্যগ্রন্থ: দ্বিতীয় পাঠ, মিশ্রমিল, গদ্যের গন্ধগোকুল। শিশুসাহিত্য : ইল্লিবিল্লি, নাইপাই, রাজা হটপট, ফুঁ, ফুড়ুৎ, মেঘভ্রমণ, ছয় লাইনের ভূত, ছড়াপদ্য।

তিনি রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (২০১৬), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), বিষ্ণু দে পুরস্কার (২০০৭), রূপসী বাংলা পুরস্কার (২০১০), কবিতালাপ সাহিত্য পুরস্কার (২০১০), যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৭), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯)-সহ দেশি-বিদেশি নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………….

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মহান বিজয় দিবস ২০১৮

বাংলা একাডেমি আজ ২রা পৌষ ১৪২৫/১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার মহান বিজয় উপলক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকাল ৮:০০টায় একাডেমির পক্ষ থেকে সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বিজয় কথা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ আজ সর্বক্ষেত্রে বিজয়ী। আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই বিজয়কে সংহত এবং আরও ব্যাপ্ত করা প্রয়োজন।

বিজয় কথা শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো আকস্মিকতার ফল নয় বরং ইতিহাসের এক অনিবার্য ধারবাহিকতার নাম। ১৯৪৭ সালেই ১৯৭১-এর বীজ রোপিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে তাৎপর্যের দিক হচ্ছে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করেছি। এর মধ্য দিয়ে আমরা বিবেকী বিশ্বের সমর্থন অর্জন করেছি। ষাটের দশকের বিশ্বব্যাপ্ত বুদ্ধির মুক্তি ও জাতীয় মুক্তির আন্দোলনের আভায় আমরা স্নাত হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল গণতান্ত্রিক এবং আলোক-অভিসারী। তিনি বলেন, একাত্তরে বিজয়ী বাংলাদেশ আজ নানাক্ষেত্রেই বিস্ময়কর অগ্রগতির অধিকারী। তবু আমাদের আত্মসমালোচনার জায়গাও রয়েছে। এখনও শ্রেণিবৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এখনও আমরা মানববান্ধব আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি, এখনও শিক্ষার যথাযথ মান নিশ্চিত করতে পারিনি। এ অবস্থার অবসানকল্পে আমাদের সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের সত্যের মধ্য দিয়ে আত্মশক্তিতে জাগ্রত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের এই দিনে সকল শহিদকে স্মরণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলকেও স্মরণে রাখতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পোল্যান্ডের আন্তরিক সহযোগিতার কথা কোনোদিনই বিস্মৃত হবার নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ যেমন মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়কে সম্ভব করে তুলেছে তেমনি আজ দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের ভূমিকাই সর্বাগ্রে স্মরণীয়।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অনামিকা ত্রিপুরা, এ এম এম মহিউজ্জামান চৌধুরী, মো. রেজওয়ান আহমেদ এবং ফারহানা শিরিন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন নির্মল কুমার (তবালা), দীপঙ্কর রায় (প্যাড), হোসেন আলী (বাঁশি) এবং মো. বরকত নেওয়াজ (কী-বোর্ড)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মাহবুবা রহমান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০১৮

বাংলা একাডেমি আগামীকাল ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫/১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সকাল ৭:৩০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ বুদ্ধিজীবী সমাধিস্থল, মিরপুরস্থ শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

 

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪১তম বার্ষিক সভা ২০১৮
বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪১তম বার্ষিক সভা আজ ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫/৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

শিল্পী তপন মাহমুদের পরিচালনায় সংগীত সংগঠন ‘বৈতালিক’-এর শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়াত গুণী ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ ও তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ২০১৭-২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং ২০১৮-২০১৯ সালের বাজেট অবহিত করেন। একাডেমির সদস্যবৃন্দ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সারাদেশ থেকে আগত একাডেমির ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যদের সম্মতিক্রমে অনুমোদন ঘোষণা করেন বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৮-এর সভাপতি এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

সভায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ ২০১৮ এবং বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি পুরস্কার প্রদান করা হয়। সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ ২০১৮’প্রাপ্তরা হচ্ছেন : অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম (শিক্ষা ও গবেষণায়), শিল্পী মনিরুল ইসলাম (চারুকলায়), মঞ্জুলিকা চাকমা (কারুশিল্পে), এসএম মহসীন (নাট্যকলায়), ডা. সামন্ত লাল সেন (চিকিৎসাসেবায়), শিল্পী রওশন আরা মুস্তাফিজ (সংগীতচর্চায়) এবং পলান সরকার (বইবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায়)। অসুস্থ থাকায় পলান সরকারের পক্ষে ফেলোশিপ গ্রহণ তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান জনাব মো. হায়দার আলী।

ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার ২০১৮, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার-২০১৮, কবি আবিদ আজাদ (মরণোত্তর) সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮, অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ লাভ করেন। (সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার-এর অর্থমূল্য এক লক্ষ টাকা, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার-এর অর্থমূল্য এক লক্ষ টাকা, সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার-এর অর্থমূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা, কবীর চৌধুরী শিশু সাহিত্য পুরস্কার-এর অর্থমূল্য এক লক্ষ টাকা)

পুরস্কার ও ফেলোশিপপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। প্রয়াত কবি আবিদ আজাদের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করে তার জ্যেষ্ঠ সন্তান তাইমুর রশীদ।
সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা বিপুল। আজকের সাধারণ সভায়ও একাডেমির সদস্যবৃন্দ নানা মতামত ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলা একাডেমি যেমন এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তেমনি সদস্যরাও একাডেমি পরিবারের অংশ। আমরা আশা করি, আগামী দিনগুলোতে বাংলা একাডেমি সকলের সহযোগিতায় তার কার্যক্রম আরো সুচারুরূপে পালন করতে সক্ষম হবে।

সাধারণ সভার কার্যক্রম সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম এবং উপপরিচালক ড. শাহাদাৎ হোসেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪১তম বার্ষিক সভা ২০১৮

বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪১তম বার্ষিক সভা আগামী ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫/৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

শিল্পী তপন মাহমুদের পরিচালনায় সংগীত সংগঠন ‘বৈতালিক’-এর শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সকাল ৯:০০টায় দিনব্যাপী সাধারণ সভার মূল কার্যক্রম শুরু হবে। সভায় বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ২০১৭-২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং ২০১৮-২০১৯ সালের বাজেট অবহিত করবেন।

বেলা ২:১৫টায় বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি পুরস্কার- সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার ২০১৮, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার-২০১৮, সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ এবং কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ এবং দেশের নানাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ ২০১৮ প্রদান করা হবে।

বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা একাডেমির ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বাংলা একাডেমির ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আগামীকাল ১৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫/৩রা ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সকাল ১০:০০টায় মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে, বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র সমাধিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ শহিদ বুদ্ধিজীবী সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হবে।

বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তৃতা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৈশ্বিক পটভূমিকায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও জাতিরাষ্ট্র শীর্ষক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তৃতা প্রদান করবেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক। সভাপতিত্ব করবেন কথাসাহিত্যিক সুব্রত বড়ুয়া।
স্মৃতিচারণে অংশ নেবেন একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক, সচিব এবং পরিচালকবৃন্দ।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক

——————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কবি শামসুর রাহমানের ৯০তম জন্মদিন

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৯০তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামীকাল ৮ কার্তিক ১৪২৫ / ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৩:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করবেন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির ফেলো, কবি আসাদ চৌধুরী।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ২৫ আশ্বিন ১৪২৫ / ১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। মুসলিম বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নির্মাণে সাহিত্যবিশারদের ভূমিকা শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন ড. তারিক মনজুর। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলা পুঁথির স্বকীয় আবেদন সৃষ্টিতে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একক বক্তা ড. তারিক মনজুর বলেন, রক্ষণশীল সামাজিক পরিবেশের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তাঁর একজীবনের শ্রম ও সাধনায় বিপুলসংখ্যক পুঁথি সংগ্রহ করেছেন, পাঠোদ্ধার সম্পন্ন করেছেন। তাঁর আবিষ্কৃত পুঁথিসমূহকে সঙ্গত কারণেই ‘মধ্যযুগের মুসলিম বাংলা সাহিত্যে প্রবেশপথের প্রদীপ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক উপায়ে পুঁথি সংরক্ষণেও সাহিত্যবিশারদের অবদান অবস্মরণীয়। সংগ্রহকর্মকে সাহিত্যের বহমান ধারার সঙ্গে যুক্ত করতে তিনি পুঁথির যথাযথ ব্যাখ্যা-ভূমিকা-টীকাভাষ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে পুঁথির পরিচিতি নির্মাণ করেছেন। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ যেমন ইসলামাবাদ নামক গ্রন্থের মাধ্যমে আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চায় তাঁর সাফল্যের পরিচয় রেখেছেন তেমনি সাহিত্য সম্পর্কিত প্রবন্ধগুচ্ছ ধারণ করেছে তাঁর স্বতন্ত্র চিন্তাপদ্ধতির ধারক্রম। গবেষণার জন্য তিনি নিজ জীবনে স্বল্পে সন্তুষ্ট থেকেছেন কিন্তু বাংলা সাহিত্যের জন্য রেখে গেছেন তাঁর অমূল্য দান।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ ছয় দশকের সাধনায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আড়াই হাজারের মত পুঁথি সংগ্রহ করেন। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম উভয় কবির বিরল সৃষ্টি আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয় এবং বিশেষভাবে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। পরবর্তীকালে যাঁরাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেছেন তাঁদের গবেষণায় সাহিত্যবিশারদের সংগৃহীত ও ব্যাখ্যাকৃত পুঁথি বিশেষ সহায়তায় এসেছে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান
বাংলা একাডেমি আজ ১২ আশ্বিন ১৪২৫/২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।

স্বাগত ভাষণ প্রদান করে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক যেমন ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন গুণী গবেষক তেমনি ছিলেন একজন সুদক্ষ প্রশাসকও।

স্মারক বক্তৃতা প্রদান করে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, মুহম্মদ এনামুল হক একজন নিষ্ঠাবান গবেষক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সামাজিক ইতিহাসের নানাদিক ছিল তাঁর আগ্রহ, অনুসন্ধান, অধ্যায়ন ও গবেষণার বিষয়। এই স্বারস্বতচর্চার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাঁর স্বজাতি ও স্বদেশপ্রেম। বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান সম্পর্কেও মুহম্মদ এনামুল হক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, মুহম্মদ এনামুল হকের চিন্তার পরিধি ছিল ব্যাপক, গভীরতাও ছিল তাঁর ভাবনায়। এদেশের সমাজ-সংস্কৃতিকে তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করতে চেয়েছেন। গবেষকদের কাছে প্রত্যাশিত সততা তাঁর ছিল; গবেষণাকে তিনি যান্ত্রিক বিদ্বৎ-চর্চার পরিণত করেননি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত কৃষ্টি পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর নিবন্ধ বাংলা ভাষার সংগ্রামে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক গোটা বাংলা অঞ্চলের এক অসাধারণ প্রজ্ঞাবান পণ্ডিত। ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের নানা দিক থেকে শুরু করে বাংলার আঞ্চলিক ভাষা পর্যন্ত তাঁর আগ্রহের পরিসর বিস্তৃত ছিল। তিনি শিক্ষাবিদ হিসেবেও ছিলেন অনন্য। বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে তাঁর অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। তিনি বলেন, দেশহিতব্রতী শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতো মনীষার প্রাসঙ্গিকতা কখনো ফুরোবার নয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মাহবুবা রহমান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতা
বাংলা একাডেমি আজ ১১ আশ্বিন ১৪২৫/২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান-এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন গবেষক, প্রকাশক নিশাত জাহান রানা। সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অর্থনীতিবিদ এম সাইদুজ্জামান, লেখক মোনায়েম সরকার এবং শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী আরমা দত্ত।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সাহসী অবদানে বাংলা ভাষার আন্দোলন যেমন বেগবান হয় তেমনি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনারও বিকাশ ঘটে।

স্মারক বক্তৃতা প্রদান করে নিশাত জাহান রানা বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সাহস, দেশপ্রেম এবং কর্মপ্রাণতার এক সুমহান দৃষ্টান্ত। পাকিস্তান গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান বাংলা ভাষার ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে দিয়েছিল অসামান্য গতি। শুধু ভাষাবীর নয়, রাজনীতি এবং সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন একজন অনন্য কর্মবীর। সমাজের নি¤œবর্গের মানুষ, অবহেলিত নারী সম্প্রদায় এবং অস্পৃশ্যতার অভিশাপে তিলে তিলে দগ্ধ হওয়া মানুষের প্রতি তিনি তাঁর দায় পালন করে গেছেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রজাহিতৈষী নানান আইন প্রণয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নিবিড়ভাবে। তিনি বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর আত্মকথায় বর্ণনা করেছেন কী করে ধাপে ধাপে অসহযোগ ও স্বদেশী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশ ও জাতির সপক্ষে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বর্বর পাকবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে জীবনদান করে তিনি অনাগত ভবিষ্যতের কাছে দেশপ্রেমের এক অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো মানুষকে নিত্য স্মরণে রাখলে কখনোই পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

সভাপতির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন স্থিরলক্ষ মানুষ; নিজের ভাষা- সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং নিজ দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি দায় পূরণ ছিল যাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ। তাঁর সংগ্রামী জীবনের পরিক্রমায় আমরা দেখব সমস্ত বস্তুগত বাসনার ঊর্ধ্বে ওঠে মহৎ-মানবিক বৃত্তির নিরন্তর সাধনা। অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের কাছে আলোকশিখা হয়ে প্রতিভাত হবেন সবসময়।

আগামীকালের অনুষ্ঠান
আগামীকাল ১২ আশ্বিন ১৪২৫/২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ স্মারক বক্তৃতা
বাংলা একাডেমি আজ ১০ আশ্বিন ১৪২৫/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবার্তা সম্পাদক অধ্যাপক এ এন রাশেদা, রামেন্দু মজুমদার এবং আরমা দত্ত।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলনে যুক্ততা এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে অধ্যাপক অজিতকুমার গুহের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

স্মারক বক্তৃতা প্রদান করে কামাল লোহানী বলেন, শিক্ষক হিসেবে অজিতকুমার গুহ নিজের জাগতিক উন্নতিকে কখনো বড় করে দেখেননি বরং শিক্ষার্থীদের আদর্শ জীবন উপহার দেয়াই ছিল তাঁর ব্রত। তাঁর রচনার পরিমাণ সংখ্যাগত বিচারে অপ্রতুল হলেও বাংলা সাহিত্য-সমালোচনায় উচ্চমানের পরিচয়বহ। পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমরা তাঁকে অনায়াসে চিহ্নিত করতে পারি। মহান ভাষা আন্দোলনে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, কারাবরণ করেছেন- কারাগারে গিয়েও বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশের পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, অজিতকুমার গুহ ও তাঁর প্রজন্ম তাঁদের জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাংস্কৃতিক পটভূমি নির্মাণ করে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমার সৌভাগ্য যে আমি অজিতকুমার গুহ-এর ছাত্র ছিলাম। বিদ্যাদানের বাইরেও অজিতকুমার গুহ তাঁর অজস্র শিক্ষার্থীকে রুচিমান হতে শিখিয়েছিলেন, নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনে যেমন তাঁর ভূমিকা রয়েছে তেমনি ঢাকার প্রগতিশীল সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি বজায় ছিল। তিনি বলেন, তাঁর লিখিত রচনার পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয় কিন্তু এর মধ্যেই তীক্ষè সাহিত্যবোধের পরিচয় মুদ্রিত রয়েছে।
আগামীকালের অনুষ্ঠান

আগামীকাল ১১ আশ্বিন ১৪২৫/২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন নিশাত জাহান রানা। সভাপতিত্ব করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা
বাংলা একাডেমি আজ ৯ আশ্বিন ১৪২৫/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম চৌধুরীর স্ত্রী লেখক জওশন আরা রহমান, শিল্পী জাহানারা ইসলাম, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা প্রমুখ।
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ভূমিকা ঐতিহাসিক এবং অবিস্মরণীয়। ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা তাঁর কবিতা আজও আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উজ্জীবিত করে।

স্মারক বক্তা অধ্যাপক শিরীণ আখতার বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী আকস্মিকভাবেই একুশের ঘটনার ভেতর জড়িয়ে পড়েননি। দেশবিভাগ পরবর্তী সময়কাল থেকেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির যে অস্তিত্ব সংকট সৃষ্টি হচ্ছিলো তারই অভিঘাতে একজন মাহবুব উল আলম চৌধুরীর আবির্ভাব। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির যে স্ফূরণ তাঁর হৃদয়বন্দর মাতিয়ে রাখতো সেখানে ছিলো দেশ ও জাতির জন্যে ভালোবাসা। তাই যখনই ভাষার প্রশ্নে সংকট তৈরি হয়েছে তখনই তাঁর মুক্তিপিয়াসী মন দেশ ও ভাষার অস্তিত্বের টানে ছুটে এসেছে, সম্পৃক্ত করেছে ঐতিহাসিক মুহুর্তের সাথে। তিনি বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ কবিতাটিতে আবহমান বাংলার রূপছবি ফুটে উঠেছে অসামান্য দক্ষতায়। আবেগের সাথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের যে অচ্ছেদ্যবন্ধন তিনি সুঁনিপুণভাবে গেঁথে দিয়েছেন, তাতে মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায়। বক্তা বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী কবিতায় আন্তর্জাতিকতা রয়েছে, শোষিত মানুষের স্বপ্নের কথা রয়েছে, স্বদেশের দুঃসহ সময়ের কথা রয়েছে, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির বার্তা রয়েছে। তাঁর চিন্তাধারার মধ্যে নাজিম হিকমত আর পাবলো নেরুদার বিশেষ মিল রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক কবিতার জন্য খ্যাত হলেও তাঁর অন্যান্য কৃতিত্বও কম নয়। বিশেষত তার সম্পাদিত সীমান্ত পত্রিকা আমাদের সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তাঁর আত্মজীবনী, প্রবন্ধ, নাটক এবং সামগ্রিক জীবনসাধনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, যুক্তিবাদী, প্রগতিশীল সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষা ব্যক্ত হয়েছে।
আগামীকালের অনুষ্ঠান

আগামীকাল ১০ আশ্বিন ১৪২৫/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি জগতের চারজন গুণী ব্যক্তি- ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ, শিক্ষাবিদ-গবেষক ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মরণে বাংলা একাডেমি আগামী ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ চারদিনব্যাপী স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
আগামীকাল ৯ আশ্বিন ১৪২৫/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক শিরীণ আখতার। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আগামীকাল ১২ই ভাদ্র ১৪২৫/২৭শে আগস্ট ২০১৮ সোমবার সকাল ৭:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

আগামী ১৫ই ভাদ্র ১৪২৫/৩০শে আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নজরুলকাব্যে মিথিক-ঐতিহ্যিক প্রতিমা : ফিরে দেখা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————————————————————————————

Image may contain: 1 person, smiling, playing a musical instrument and beard

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শিশু-কিশোর বক্তৃতানুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আজ ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫/১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক শিশু-কিশোর বক্তৃতানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, লেখক সুভাষ সিংহ রায়। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি আসাদ চৌধুরী। সুভাষ সিংহ রায় বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আজকের নতুন প্রজন্ম কীভাবে দেখছে, মূল্যায়ন করছে তা অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি কারণ আজকের নবীনেরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আগামী বাংলাদেশ গঠন করবে।

সভাপতির বক্তব্যে আসাদ চৌধুরী বলেন, সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা যেভাবে তাদের অন্তরের ভালোবাসাসহ মূল্যায়ন করছে তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই এক ইতিবাচক বিষয় কারণ এইসব শিশু-কিশোরদের হাতেই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সেমিনার
বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা, কাবেদুল ইসলাম এবং মুহাম্মদ শামসুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিক্রমা সম্পন্ন হয়েছে তেমনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠনেও তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্যা বলেন, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে উচ্চকিত করেছেন। তাঁর সৃষ্ট সাংবিধানিক সুরক্ষার ফলে বাংলার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সবাই এককাতারে দেশ গড়ার জন্য জাতীয় শক্তির বলয় তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর উগ্র বাম ও ডানপন্থি গোষ্ঠী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায়। তারা খুন, রাহাজানি, সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে সংসদীয় সরকারের জন্য এক অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধুকে এসব নেতিবাচক পরিস্থিতির মোকাবেলা করে দেশ গঠনের কাজকে এগিয়ে নিতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে কাবেদুল ইসলাম বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণটি স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণের অনন্য নজির। এর স্বতঃস্ফূর্ততার ভাষিক প্রমাণ এভাবেও প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণ করা চলে যে- যেখানে চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে, লক্ষ লক্ষ উদ্বেল জনতার চাওয়া ও অন্তরালে হায়েনা চরিত্রের শাসকবর্গের রক্তচক্ষুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ১৮-মিনিট ধরে, কম-বেশি সতেরো শত শব্দ উচ্চারণে বক্তা-বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকের উপরে হত্যা করা হয়, তোমাদের উপরে-কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।’ এখানে লক্ষণীয়, ‘লোকের উপর’ ও বিশেষত ‘উপরে-কাছে’ শব্দবন্ধ। এছাড়া পুনরুক্তি রয়েছে দু’তিনটি স্থানে, সেটিও মূলত তাঁর বক্তব্যে জোর বা দৃঢ়তা সৃষ্টির লক্ষ্যে। যেমন, ‘গরিবের যাতে কষ্ট না হয়’, ‘কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না’, ‘কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবনে না’ এবং বিশেষ করে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। কাজেই নিঃসন্দেহে বলা যায় পুরো ভাষণটিই প্রায় শতভাগ সুনিপুণ বাক্-সমৃদ্ধ, সুঅভিব্যক্ত ও লক্ষ্য-নির্দিষ্ট।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : প্রচার পায়নি প্রতিবাদের ভাষা শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মুহাম্মদ শামসুল হক বলেন, দেশের কেন্দ্রের বাইরে প্রান্তীয় অঞ্চলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সাহসী তৎপরতা পরিচালিত হয়েছিল কিন্তু কায়েমি স্বার্থবাদীদের কারণে তার যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একাধারে অসাধারণ রাজনীতিবিদ, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, খাঁটি বাঙালি এবং একজন পরিপূর্ণ মানুষ। বঙ্গবন্ধুর পূর্বেও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুসহ অনেকেই বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন কিন্তু তাকে বাস্তবে রাষ্ট্রনৈতিক রূপ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুই। মুক্তিযুদ্ধ নামক মহাকাব্যের রচয়িতা বঙ্গবন্ধু আবার স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি তিনি যে সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রয়াস চালিয়েছেন তাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ তেমনি তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে বিচিত্র সব অপশক্তির বিরুদ্ধে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর ভাবনার কেন্দ্র জুড়ে ছিল বাংলার মাটি ও মানুষের মুক্তি এবং সমৃদ্ধি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস

দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামীকাল ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫/১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক শিশু-কিশোর বক্তৃতানুষ্ঠান। এতে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, লেখক সুভাষ সিংহ রায়। সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট কবি আসাদ চৌধুরী।

বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্যা, কাবেদুল ইসলাম এবং মুহাম্মদ শামসুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………………

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Image may contain: 8 people, people smiling, people standing

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।

কর্মসূচির প্রথম দিন আজ ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫/১২ আগস্ট ২০১৮ রবিবার বিকেল ৫:০০টায় বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। (প্রদর্শনী চলবে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত)। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম বিষয়ে দেশ-বিদেশের লেখকদের চারশতাধিক বই ও সংকলন স্থান পায়। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বিকেল ৫:১৫টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বক্তৃতা প্রদান করেন কবি কামাল চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু রচিত কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন এস. এম. মহসীন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য ও সমার্থক শব্দ-প্রায়। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড এবং লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছি। আজও তাঁরই প্রেরণায় আমরা এগিয়ে চলেছি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে।

বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করে কবি কামাল চৌধুরী বলেন, ভাষা আন্দোলনের কূলপল্লী স্রোত বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয় এবং এই পর্বে মূল নেতা হিসাবে আবির্ভূত হন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ একত্র হয়ে এক অখণ্ড বাঙালি জাতিতে পরিণত হয়েছিল। এভাবেই সংগ্রাম ও আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করে একটি সংগ্রামমুখি সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের ইতিহাসের প্রথম বাঙালি যাঁর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্য, বাঙালি জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় অবয়বে। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আগে অনেকেই দেখেছেন কিন্তু বাস্তবায়ন ঘটেছে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে। বিশ্বব্যবস্থার বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের অভিবাসনের ইতিহাস আমরা জানি। একই ভাষাভাষীর মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে। বাঙালিরও একটি বৃহৎ অংশ এখন ভারত রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও অনেক বাঙালির বসবাস। বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। বঙ্গবন্ধু এ কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলেই তিনি বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের জনক। একক বক্তা বলেন, সংগ্রাম ও আন্দোলনের সুদীর্ঘ যাত্রায় বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নিয়েছিল তাদের একজন হিসেবে, বাঙালির ইতিহাসের প্রধান নায়ক হিসেবে। বাঙালির জাগরণের চূড়ান্তপর্বে জাতি ও তাঁর নাম সমার্থক হয়ে উঠেছিল। আজও বাঙালি এবং তাঁর পরিচয় সমার্থক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের প্রাত্যহিকতায় মিশে আছেনÑ মিশে থাকবেন জাতির অগ্রযাত্রার প্রতিটি অনুভবেÑ সাহস, শক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে।

সভাপতির বক্তব্যে একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি এবং জয়লাভ করেছি। যত চেষ্টাই হোক না কেন বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বস্তুত বঙ্গবন্ধুর জীবন ও বাংলাদেশ একাকার হয়ে গেছে। জীবদ্দশায় তিনি যেমন আমাদের সংগ্রাম ও সংকল্পে প্রতীক ছিলেন, মৃত্যুর এত বছর পরও তিনি তাঁর সেই স্থানেই স্বমহিমায় বিরাজিত রয়েছেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক সায়েরা হাবীব।

…………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির প্রথম দিন আজ ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫/১২ আগস্ট ২০১৮ রবিবার বিকেল ৫:০০টায় বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে (প্রদর্শনী চলবে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত)। প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বিকেল ৫:১৫টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক একক বকতৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বকতৃতা প্রদান করবেন কবি কামাল চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু রচিত কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে পাঠ করবেন এস. এম. মহসীন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আগামী ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫/১২ আগস্ট ২০১৮ রবিবার বিকেল ৫:০০টায় বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে (প্রদর্শনী চলবে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত)। প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বিকেল ৫:১৫টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বক্তৃতা প্রদান করবেন কবি কামাল চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু রচিত কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে পাঠ করবেন এস. এম. মহসীন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আগামীকাল ২২শে শ্রাবণ ১৪২৫/৬ই আগস্ট ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আজকের বিশ্বে রবীন্দ্রসৃজনের প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করবেন নাট্যজন আতাউর রহমান। সাংস্কৃতিক পর্বে ওই পোহাইল তিমির রাতি শীর্ষক গীতিনৃত্যালেখ্য পরিবেশন করবে- শুদ্ধ সঙ্গীত চর্চা কেন্দ্র- রক্তকরবী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৩৩তম জন্মবার্ষিকী

বাংলা একাডেমি আজ ২৭ আষাঢ় ১৪২৫/১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বহুভাষাবিদ, গবেষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র ১৩৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভাষানীতি ও ভাষাপরিকল্পনা-ভাবনা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ পৌত্রী কবি শান্তা মারিয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মানজার চৌধুরী সুইট, আবৃত্তিশিল্পী লায়লা আফরোজ প্রমুখ।
স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাঙালিত্বের বীজ রোপন ও বিকাশে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আমৃত্যু লড়াই আমাদের অনন্ত প্রেরণার উৎস।

একক বক্তা অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। কিন্তু অন্যান্য পেশার চেয়ে শিক্ষকতাকেই তিনি শ্রেয়তম পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং অবশিষ্ট জীবনে সেই পরিচয়কেই মহিমান্বিত করেছেন। বলা যায়, নিরলস শ্রম ও অপার অধ্যবসায়ই তাঁকে ‘জ্ঞানতাপস’ এবং সমকালীন বিদ্বৎসমাজের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিতে রূপান্তরিত করেছে। তাঁর চিন্তাজগৎ ও সৃষ্টিকর্ম আমাদের সমৃদ্ধ করে, তাঁর রচনা আমাদের আত্ম-আবিষ্কারে প্রণোদিত করে। তিনি বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচনাসম্ভার বিষয়-বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ- গবেষণামূলক প্রবন্ধ, সৃষ্টিশীল রচনা, অনুবাদকর্ম, শিশুতোষ রচনা, পাঠ্যবই প্রণয়ন, অভিধান সংকলন-সর্বত্রই তাঁর সাফল্য ও সার্থকতা অপার। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে উদ্ভূত বিতর্কে তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বাংলার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন- এটা তাঁর জন্য কেবল আবেগের বিষয় ছিল না বরং ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবেও তিনি মনে করতেন মাতৃভাষার মর্যাদা যে কোনো নাগরিকের কাছে প্রথম ও প্রধান। তাঁর ভাষাভাবনা ও নানামুখী চিন্তার স্মারক তাঁর অভিভাষণগুচ্ছ। একক বক্তা বলেন, আমরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিসহ জাতীয় জীবনের যেকোনো সংকটে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি; লাভ করতে পারি অনিবার্য নির্দেশনা।

সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একজন প্রণম্য ভাষাবিদই ; একই সঙ্গে তিনি বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তীদেরও একজন। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বিষয়ে যেমন তিনি তাঁর জোরাল অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তেমনি বাংলা হরফ পরিবর্তনসহ পাকিস্তান সরকারের নানা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আগামীকাল ১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার সকাল ১০:০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে
বাংলা ভাষা অঞ্চলের জন্য বাংলা ইউনিকোড লিপি উন্নয়নে New Brahmi Generation Panel (NBGP)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের গবেষকদের দিনব্যাপী এক পারস্পরিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সভায় অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার, অধ্যাপক ড. উদয় নারায়ণ সিংহ, সমীরণ গুপ্ত, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান খান এবং থাইল্যান্ডের পিটিনান কুয়ারমর্নপাতানাসহ বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করবেন বিষয়সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

ভাষাসংগ্রামী ও শিশুসাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে
শোকবাণী

ভাষাসংগ্রামী, শিশুসাহিত্যিক, বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করছে। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যে কয়জন অসমসাহসী নারী অংশ নিয়েছেন, পুরোভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে হালিমা খাতুন অন্যতম। বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে অনন্য অবদান রেখেছেন হালিমা খাতুন। তাঁর সোনাপুতুলের বিয়ে, হরিণের চশমা, কুমিরের বাপের শ্রাদ্ধ’সহ বেশ কিছু শিশুসাহিত্যের গ্রন্থ ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। শিশু-কিশোরদের শিক্ষামূলক নানা বইয়ের লেখক, অনুবাদক এবং সম্পাদকও তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা-সূত্রে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সঞ্চার করেছেন নীতিনিষ্ঠ জীবনের প্রেরণা।

হালিমা খাতুন শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। একাডেমি প্রকাশ করেছে তাঁর একাধিক গ্রন্থ।

ভাষাসংগ্রামী এবং শিশুসাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।

শামসুজ্জামান খান
মহাপরিচালক

—————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বাংলা একাডেমি ও নেপাল একাডেমি প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

আজ ২৮শে জুন ২০১৮ সকাল ১১:৩০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে
বাংলা একাডেমি এবং নেপাল একাডেমির মধ্যে দুই দেশের সাহিত্য এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কবি রুবী রহমান, অধ্যাপক ফকরুল আলম, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, কবি আসলাম সানী এবং বাংলা একাডেমির পরিচালকবৃন্দ। নেপাল একাডেমির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক দীনেশ রাজ পান্ট, অধ্যাপক জীবেন্দ্র দেও গিরি, ধ্রুব গোপাল মাধিকারমী, হরিপ্রসাদ তিমিলসিনা, কবি সুরেন্দ্র কাজী সিন্দুরাকার, লেখক শশী লুমুমৌ এবং কবি নর্মদেশ্বরী সাত্যাল।

সভায় স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। দুই দেশের সাহিত্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেন আলোচকবৃন্দ। নেপালী ভাষায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন হরিপ্রসাদ তিমিলসিনা, কবি সুরেন্দ্র কাজী সিন্দুরাকার, লেখক শশী লুমুমৌ এবং কবি নর্মদেশ্বরী সাত্যাল। বাংলা ভাষায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন রুবী রহমান ও আসলাম সানী। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৯শে জুন বাংলা একাডেমি, ঢাকায় বাংলা একাডেমি ও নেপাল একাডেমির মধ্যে দুই দেশের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-দর্শন ও সামাজিক বিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে নানামাত্রিক গবেষণা, শিক্ষা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯-তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আগামীকাল ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫/২৪ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির
কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল বিষয়ক একক বক্তৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলগীতি পরিবেশন করবেন শিল্পী লীনা তাপসী খান।

আগামী ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫/২৫ মে ২০১৮ শুক্রবার সকাল ৮:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

……………………………………………………………………………………………………………………………………….

https://www.facebook.com/pg/banglaacademy.org.bd1955/posts/?ref=page_internal

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে নাগরিক শোকসভা

বাংলা একাডেমির ফেলো এবং সাবেক মহাপরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি আজ ৩১ বৈশাখ ১৪২৫/১৪ মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪-৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করে। শুরুতেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রবীন্দ্রসংগীত নিবেদন করেন শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী। মুস্তাফা নূরউল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শোকসভায় তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা এবং স্মৃতিচারণায় অংশ নেন ভাষাসংগ্রামী প্রতিভা মুৎসুদ্দী, ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কবি আজিজুর রহমান আজিজ, রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির সভাপতি ড. আবুল আজাদ, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ছাত্র বাংলা একাডেমির পরিচালক মোবারক হোসেন, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ভগ্নী শামীম শবনম দীপ্তি, জ্যেষ্ঠপুত্র মুস্তাফা কায়েস ইমন। শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর কন্যা নন্দিতা ইয়াসমিন, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বিশ্বজিৎ সাহা-সহ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বক্তারা বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের এক অগ্রণী মানুষ, কালের সাক্ষী। তিনি ছিলেন বাংলা ও বাঙালিত্বের পূঁজারী। সাময়িকপত্র গবেষণা, নজরুল গবেষণা এবং বাঙালি মুসলিম-মানসের আধুনিকায়ন বিষয়ে তাঁর গবেষণাকর্ম আমাদের সাহিত্যক্ষেত্রে যোগ করেছে বুদ্ধিবৃত্তিকতার নবতর মাত্রা। অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম কয়েক প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের কাছে একজন প্রিয় ও সফল শিক্ষকের নাম। ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে তিনি প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে সকল স্বজনকে তিনি সৎ জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁরা বলেন, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের জীবন কেবল সময়ের দিক থেকে দীর্ঘ নয়; উল্লেখযোগ্য কর্মের অর্জনেও বিশিষ্ট। তরুণ বয়সে তিনি এবং তাঁর সমসাময়িক লেখক বন্ধুরা অগত্যা পত্রিকার মাধ্যমে সমকালীন নানা অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে বিদ্ধ করেছেন তেমনি পরবর্তীকালে পূর্বমেঘ এবং সুন্দরম পত্রিকা সম্পাদনার মধ্য দিয়ে সাময়িকপত্র সম্পাদনায় তাঁর দক্ষতার নিদর্শন রেখে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের জীবন বর্ণাঢ্য। তিনি শিক্ষকতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সাময়িকপত্র সম্পাদনা, গবেষণা এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি এক সময়ে নাট্যান্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল অসাধারণ রসবোধের গুণ। এদেশের প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় মুস্তাফা নূরউল ইসলামের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

……………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে শোকসভা

বাংলা একাডেমির ফেলো এবং সাবেক মহাপরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি আগামীকাল ৩১ বৈশাখ ১৪২৫/১৪ মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪-৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করেছে। শোকসভায় তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা এবং স্মৃতিচারণায় অংশ নেবেন পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিবর্গ। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

 ………………………………………………………………………………………………………………………….

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে
বাংলা একাডেমির শোকবাণী

বরেণ্য বুদ্ধিজীবী-শিক্ষাবিদ, জাতীয় অধ্যাপক, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম গতকাল ৯ মে ২০১৮ প্রয়াত হয়েছেন।

মহান ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের এক অগ্রণী যোদ্ধা। বাংলা ও বাঙালিত্বের পক্ষে তিনি চিরকাল আপোষহীন। সাময়িকপত্র গবেষণা, নজরুল গবেষণা এবং বাঙালি মুসলিম- মানসের আধুনিকায়ন বিষয়ে তাঁর গবেষণাকর্ম আমাদের সাহিত্যক্ষেত্রে যোগ করেছে বুদ্ধিবৃত্তিকতার নবতর মাত্রা। অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম কয়েক প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের কাছে একজন প্রিয় ও সফল শিক্ষকের নাম। তরুণ বয়সে তিনি এবং তাঁর সমসাময়িক লেখক বন্ধুরা অগত্যা পত্রিকার মাধ্যমে সমকালীন নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং একই সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সারা জীবন লেখনী, পত্রিকা সম্পাদনা এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যেভাবে বাংলা ও বাঙালিত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তা আমাদের সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনে নিজের গবেষণা-কাজের পাশাপাশি শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে যেমন সাফল্যের পরিচয় রেখেছেন তেমনি সামগ্রিকভাবে আমাদের সাহিত্যরুচি নির্মাণেও রেখেছেন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা। মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ১৯৭৫-১৯৭৬ কালপর্বে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।

১৪ মে ২০১৮ মুস্তাফা নূরউল ইসলাম স্মরণে শোকসভা
বাংলা একাডেমি আগামী ১৪ মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে মুস্তাফা নূরউল ইসলাম স্মরণে শোকসভার আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

শামসুজ্জামান খান
মহাপরিচালক

…………………………………………………………………………………………………………………………………………

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭-তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামী ২৪শে বৈশাখ ১৪২৫/০৭ই মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৫:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একক বকতৃতা, রবীন্দ্র পুরস্কার-২০১৮ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে উপনিবেশিত বাংলা শীর্ষক বকতৃতা প্রদান করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

রবীন্দ্র পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা
রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনাব আবুল মোমেন এবং রবীন্দ্রসংগীত চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী-কে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত রবীন্দ্র পুরস্কার- ২০১৮ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ইতিপূর্বে যাঁরা এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন-
শিল্পী কলিম শরাফী এবং অধ্যাপক ড. সনজীদা খাতুন (২০১০) ; জনাব আহমদ রফিক এবং শিল্পী অজিত রায় (২০১১) ; অধ্যাপক আনিসুর রহমান, শিল্পী ফাহমিদা খাতুন এবং শিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান (২০১২) ; অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী এবং শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার (২০১৩) ; জনাব মনজুরে মওলা এবং শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (২০১৪) ; অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা এবং সাদী মহম্মদ (২০১৫); সৈয়দ আকরম হোসেন এবং শিল্পী তপন মাহমুদ (২০১৬) অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ এবং মিতা হক (২০১৭)।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
পঞ্চম ফোকলোর সামার স্কুলের সমাপনী অনুষ্ঠান

বাংলা একাডেমি আজ ৪ বৈশাখ ১৪২৫/১৭ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘পঞ্চম ফোকলোর সামার স্কুল’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ফোকলোর কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি। সমাপনী ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আন্তর্জাতিক ফোকলোর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারতের বিশ্বখ্যাত ফোকলোরবিদ অধ্যাপক জওহরলাল হাণ্ড ‍ু, ড. অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায়, ড. সুখবিলাশ বর্মা, ড. শেখ মকবুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যের জেনিফার রিড। পঞ্চম ফোকলোর সামার স্কুলের সমন্বয়কের বক্তব্য প্রদান করেন ড. ফিরোজ মাহমুদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগের পরিচালক শাহিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এবারের কর্মশালার প্রতিপাদ্য ছিল এথনোমিউজিকোলজি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, ফোকলোর কেবল মৃত ঐতিহ্য নয় বরং বৃহত্তর জনমানুষের রূপান্তরশীল জীবন-সংস্কৃতির ধারক। বাংলা একাডেমি আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফোকলোর কর্মশালা ফোকলোর বিষয়ে আমাদের নতুন ধারণা প্রদান করেবে। ফোকলোর যেমন আমাদের গর্বিত-সমৃদ্ধ শেকড়ের সন্ধান দেবে তেমনি ইহজাগতিক-ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির বিকাশে যোগাবে বিশেষ প্রণোদনা। তিনি বলেন, লোকসংস্কৃতি থেকে আহরিত শক্তিই আমাদের যুগে যুগে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এই অদম্য লৌকিক বাঙালির মর্মমূল বুঝতে হলে ফোকলোরকে বিশেষভাবে অনুধাবন করতে হবে।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাংলা একাডেমি ১৯৮৫ সাল থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক-আধুনিক ফোকলোরচর্চা করে আসছে। একাডেমির সুদীর্ঘ তিন দশকের অধিককালের ফোকলোর চর্চায় সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া ‘ফোকলোর সামার স্কুল’ যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

আন্তর্জাতিক ফোকলোর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারতের বিশ্বখ্যাত ফোকলোরবিদ অধ্যাপক জওহরলাল হাণ্ড ‍ু, ড. অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায়, ড. সুখবিলাশ বর্মা, ড. শেখ মকবুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যের জেনিফার রিড। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের প্রেক্ষিতেই ফোকলোরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সমাজ-সংস্কৃতি ফোকলোরকে নিবিড়ভাবে ধারণ করে আছে। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফোকলোর বিভাগ চালু করা প্রয়োজন। কারণ ফোকলোর আমাদের স্থানিকতা, আন্তর্জাতিকতা, ধর্মনিরপেক্ষাতা, পরিগ্রহণ ক্ষমতা ইত্যাদির সমন্বিত শিক্ষা প্রদান করে।

প্রশিক্ষানার্থীদের পক্ষে নূরনবী শান্ত বলেন, বাংলা একাডেমির এই সামার স্কুল ভবিষ্যতের ফোকলোর গবেষকদের বিকাশে বিশেষ অবদান রাখবে।

ড. ফিরোজ মাহমুদ বলেন, বিপুল সামাজিক ও প্রাযুক্তিক পরিবর্তন ফোকলোরকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে তার সূত্রসন্ধানে বাংলা একাডেমির ফোকলোর প্রয়াস গবেষকদের সহায়তা করবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একটি জাতিকে জানতে যেমন তার লোকসংস্কৃতিকে জানতে হয় তেমনি লোকসংস্কৃতিকে জানতে সে জাতির লোকগীতির পরিচিতি লাভ আবশ্যক। বাংলা একাডেমির এই ফোকলোর কর্মশালা লোকগীতির সঙ্গে মানবজীবনের সম্পর্ক অনুধাবনে গবেষকদের নিকট সহায়ক হবে নিঃসন্দেহে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শাহিদা খাতুন বলেন, সকলের সহযোগিতায় বাংলা একাডেমি পঞ্চমবারের মতো ফোকলোর বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক কর্মশালা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছে। এই কর্মসূচি বাংলাদেশের ফোকলোরকে আন্তর্জাতিক বিদ্যাজগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ২২ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সভাপতি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
নববর্ষ বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আজ ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার সকাল ৭:৩০টায় একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ষবরণ, একক বক্তৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নববর্ষ বক্তৃতা প্রদান করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। সভাপতিত্ব করেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক।

বক্তারা বলেন, নববর্ষের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-মানবিক চেতনা ধারণের মাধ্যমে আমরা প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধশালী জাতিরাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। নববর্ষের মানবমুখী চেতনাই পারে সকল ধরনের মৌলবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে। তাঁরা বলেন, বাংলা নববর্ষ উৎসব বাঙালির বৃহত্তর জাতীয় উৎসবের নাম। সাম্প্রতিক সময়ে নববর্ষের অন্যতম ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে বাংলা নববর্ষ উৎসবেরও আন্তর্জাতিকীকরণ ঘটেছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বর্ষবরণ সংগীত পরিবেশন করেন অধ্যাপক কৃষ্টি হেফাজের পরিচালনায় ‘সরকারি সংগীত কলেজ’-এর শিল্পীবৃন্দ-গোলাম মোস্তফা, ফারজানা খাতুন, মো. এরফান হোসেন, শান্তা সরকার, অভিলাষ দাস, রাবেয়া আক্তার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবর্তী (তবলা), মোঃ ফায়জুর রহমান (বাঁশি), মো. আজিজুর রহমান (কী-বোর্ড) মো. দেলোয়ার হোসেন (দোতারা) এবং এস. এম. রেজা বাবু (বাংলা ঢোল)।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমির বইয়ের আড়ং
বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের আড়ং শুরু হয়। ১লা বৈশাখ থেকে ১০ই বৈশাখ পর্যন্ত বইয়ের আড়ং চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত আড়ং খোলা থাকবে।

১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে ১-১০ বৈশাখ ১৪২৫ (১৪-২৩ এপ্রিল ২০১৮) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার বিকেল ৪:০০টায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহঃ ইফতিখার। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। প্রতি সন্ধ্যায় মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বরণ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
৫ম ফোকলোর সামার স্কুল

বাংলা নববর্ষ ১৪২৫-এর প্রাক্কালে আগামীকাল চৈত্র সংক্রান্তি ১৪২৪/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলা একাডেমি পরিচালিত ‘ফোকলোর সামার স্কুল’-এর ৫ দিনব্যাপী (১৩-১৭ এপ্রিল ২০১৮) ৫ম বার্ষিক কর্মশালা। এবারের সামার স্কুলের মূল প্রতিপাদ্য এথনো মিউজোকলজি। এই সামার স্কুলে ২০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে যুক্তরাজ্যের জেনিফার রিড, ভারতের ড. সুখবিলাশ বর্মা, ড. শেখ মকবুল ইসলাম, ড. অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক জওহরলাল হান্ড ুসহ বাংলাদেশের বিশিষ্ট ফোকলোরবিদগণ ফোকলোর বিষয়ে তত্ত্বীয় ও প্রায়োগিক ধারণা প্রদান করবেন।

নববর্ষ বকতৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
আগামী ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার সকাল ৭:৩০টায় একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ, একক বকতৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নববর্ষ বকতৃতা প্রদান করবেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। সভাপতিত্ব করবেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। এছাড়া রয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বইয়ের আড়ং
বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগামীকাল একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের আড়ং শুরু হবে। ১লা বৈশাখ থেকে ১০ই বৈশাখ পর্যন্ত বইয়ের আড়ং অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বেলা ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত আড়ং খোলা থাকবে।

১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে ১-১০ বৈশাখ ১৪২৫ (১৪-২৩ এপ্রিল ২০১৮) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার বিকেল ৪:০০টায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করবেন বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহঃ ইফতিখার। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। প্রতি সন্ধ্যায় মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক

………………………………………………………………………………………………………………………………………….

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সন্জীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

বাংলা একাডেমি আগামীকাল ২০শে চৈত্র ১৪২৪/৩রা এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪.৩০টায় সংস্কৃতিসাধক সনজীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপিসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থাকবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করবেন।

(শামসুজ্জামান খান)
মহাপরিচালক

———————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্ যাপন এবং গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠান
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৮ উদ্ যাপন এবং ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত হত্যাযজ্ঞে শহিদ স্মরণে গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।

আজ ১১ই চৈত্র ১৪২৪/২৫শে মার্চ ২০১৮ রবিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। ২৫শে মার্চের পাকিস্তানি গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক
ড. মো. মশিউর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন এবং ফিরোজ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশকে বেদনার সঙ্গে গণহত্যা দিবস পালন করতে হয়। আমরা আশা করি বিশ্ব সম্প্রদায় ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করবে।

প্রাবন্ধিক বলেন, ২৫শে মার্চ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সমূলে ধ্বংস বা নির্মূল করার অভিপ্রায়ে সামরিক বাহিনী চেয়েছিল সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে। একই সঙ্গে হত্যাযজ্ঞের মতো চরম ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক আন্দোলন নসাৎ করতে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি পৃথিবীর মানচিত্রে একটি জাতীয়তাবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ, মানবিক এবং আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার নবতর সংযোজন। এ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই থেকেই বিশ্বব্যাপী শোষিত বঞ্চিত মানুষের স্ব-পক্ষের এক লড়াকু নেতা। ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ যখন ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃত হয় তখন বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় আগামী দিনের আরো আধুনিক ও অগ্রসর বিশ্ব বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, মুক্তিযুদ্ধে মানুষের আত্মোৎসর্গ করা এবং বাঙালির ঐক্যবদ্ধ অপরূপ শক্তিমত্তার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের শিক্ষার কাছে ফিরে আসবে। প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশ আজ ভীষণভাবে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত একটি আত্মমর্যাদাবান জাতি-রাষ্ট্র। এবারের গণহত্যা দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যাশা-আমাদের সামনের পথচলা পরিপূর্ণভাবেই যেন বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অহর্নিশ বহমান থাকে।

আলোচকদ্বয় বলেন, বাঙালি দূর্বল এবং হীনবল বলে সুঅতীতকাল থেকে যে প্রচারণা চলে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা তা ভুল প্রমাণ করেছি। নানা আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ৪৮-এ সূচিত ভাষা আন্দোলন ৫২-তে পরিণতি পায়। তারপর ন্যায্য দাবির নানান আন্দোলন একাত্তরে এসে মুক্তির মোহনায় মিলিত হয়। তারা বলেন, বস্তুত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের পরেই স্বাধীনতার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। তারপর ২৫শে মার্চ বর্বর গণহত্যার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। তবে গণহত্যাতেই শেষ হয়ে যায়নি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ; নতুন প্রেরণায় ন’মাসের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জন করে স্বপ্নের স্বাধীনতা।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একাত্তরে পাকবাহিনী যে গণহত্যা যজ্ঞ চালিয়েছে আমরা তার দলিলপত্র প্রণয়ন করতে পেরেছি, যুদ্ধপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন করতে পেরেছিÑ এটা আমাদের সাফল্য। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শের রাষ্ট্র গঠনের পথে আমাদের অনেক দূর যাওয়ার আছে। তিনি বলেন, একাত্তরে বাঙালি অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল; আমরা আশা করি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাময় বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হবে।

২৬শে মার্চ ২০১৮ ॥ সোমবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি
আগামীকাল ২৬ মার্চ ২০১৭ সোমবার সকাল ৮:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবসের কর্মসূচি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবস উদ্ যাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ৩রা চৈত্র ১৪২৪/১৭ই মার্চ ২০১৮ শনিবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকাল ৭:০০টায় ধানমণ্ডির ৩২নং সড়কে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো
সকাল ১১:০০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো শীর্ষক শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনান তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, অধ্যাপক মেরিনা জাহান এবং শমী কায়সার। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়।

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক একক বক্তৃতানুষ্ঠান
বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : শোষিত-বঞ্চিত মানুষের নেতা শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বকতৃতা প্রদান করেন কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই একটা দিনে উদযাপন করলেও তাঁকে আমরা প্রতিদিনই স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তাঁকে স্মরণের ভেতর দিয়ে আমরা নিজেরাও সত্য ও ন্যায়ের পথে উজ্জীবিত হই।

একক বক্তার বক্তব্যে কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনিই এই জাতির জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু কাজ করেছেন। তাঁর মমত্ববোধ ও মানবিকতা সকলের আদর্শ হয়ে উঠলেই তাঁর প্রতি আমাদের যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, গণমানুষের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে। তাঁর জন্ম সম্ভ্রান্ত পরিবারে হলেও তাঁর মানসকাঠামো গড়ে উঠেছিল সমাজের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কাজ করার নিবেদন থেকে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবসের কর্মসূচি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবস উদ্ যাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামী ৩রা চৈত্র ১৪২৪/১৭ই মার্চ ২০১৮ শনিবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ১৭ই মার্চ সকাল ৭:০০টায় ধানমণ্ডির ৩২নং সড়কে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো
সকাল ১১:০০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো’ শীর্ষক শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনাবেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, অধ্যাপক মেরিনা জাহান, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী এবং ডা. আব্দুন নূর তুষার । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়।

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক একক বকতৃতানুষ্ঠান
বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : লাঞ্ছিত ভাগ্যহত মানুষের নেতা শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। একক বক্তৃতা প্রদান করবেন কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ২২ ফাল্গুন ১৪২৪/৬ই মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো-স্বীকৃতি ও এর তাৎপর্য শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্যপ্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ফেরদোসী প্রিয়ভাষিণীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সভার পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য-অসাধারণ ভাষণ। বঙ্গবন্ধু যে পরিস্থিতির মধ্যে এই ভাষণ দিয়েছেন সেটি বিবেচনায় পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ভাষণ দ্বিতীয়টি নেই। এই কৌশলময় ভাষণ কেবল মানবিক আবেদনের জন্য নয়, শৈল্পিক কারণেও উল্লেখযোগ্য।
একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু অতি কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা হিসেবে বিশ্বে চিহ্নিত হতে চাননি। তিনি চেয়েছেন মাইনরিটি হিসেবে পাকিস্তান নিজে থেকে বিচ্ছিন্ন হোক, সেই পরিস্থিতিটা তিনি কৌশলে সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু কেবল একটি স্বাধীন জাতির স্বপ্ন উল্লেখ করেই থেমে যাননি; তিনি সেই স্বাধীনতা অর্জনের সমস্ত উপায়ও বলে দিয়েছেন। তিনি কৌশলে স্বাধীনতার কথা বলে আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। এখানেই তাঁর নেতৃত্বের বিচক্ষণতা। তিনি আমৃত্যু গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনি যাতে নিরস্ত্র বাঙালির উপর প্রতিশোধমূলক আচরণ না করতে পারে, সেই জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন। ইউনেস্কো-স্বীকৃতি আমাদের গর্বিত করেছে। এই ভাষণ যেন আগামী প্রজন্ম শোনে এবং হৃদয়াঙ্গম করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামীকাল ২২ ফাল্গুন ১৪২৪/৬ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো-স্বীকৃতি ও এর তাৎপর্য শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে একক বক্তৃতা প্রদান করবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৫৫টি এবং এই পর্যন্ত (১-২৮) নতুন বই এসেছে ৪৫৯১টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বাংলদেশের নৃগোষ্ঠী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাহমান নাসির উদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং রণজিত সিংহ। সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার উপাচার্য অধ্যাপক রাশিদ আসকারী।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীরা সাংস্কৃতিকভাবে যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বহন করেন তা আমাদের মূল ধারার সংস্কৃতিরই অংশ। তাদের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতিকে ঋদ্ধ করে। রাষ্ট্রের কর্তব্য তাদের ভাষা-সংস্কৃতির অধিকার সুরক্ষা এবং সার্বিক বিকাশের ব্যবস্থা করা।

সভাপতির বক্তব্যে রাশিদ আসকারী বলেন, নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নতকরণ যেমন জরুরি তেমনি তাঁদের আদি ভাষা-সংস্কৃতি ইত্যাদি সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানও আমাদের দায়িত্ব।

 গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮’-এর সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

 স্বাগত ভাষণ প্রদান করে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, এবারের মেলা সার্বিক অর্থেই সর্বাঙ্গসুন্দর একটি মেলা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক জাগরণ যে বেগবান হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ড. জালাল আহমেদ বলেন, গতকাল ২৭শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ২৪ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে। ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আজকের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায় যে, এবার বইমেলায় মোট ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে।

 প্রধান অতিথির আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, বইমেলা সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি যে সঠিক ছিল তা এবারের মেলাতেও প্রমাণিত হয়েছে। এ বছরেরর ভুলত্রুটিগুলো হয়তো আগামী মেলায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা পৃথিবীর অন্যতম বইমেলা। প্রযুক্তির এই যুগে পাঠক যে বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি এটা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক।

 সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষাস্তরে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক কম প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বই আরও প্রকাশিত হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এবারের গ্রন্থমেলায় শিশু ও অভিভাবকসহ প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

 গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

 ২০১৭ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য অলকানন্দা প্যাটেল রচিত ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, সুফি মুস্তাফিজুর রহমান রচিত ‘বাংলাদেশের প্রত্নত্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স, মঈন আহমেদ সম্পাদিত ‘মিনি বিশ্বকোষ পাখি’ গ্রন্থের জন্য সময় প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ এবং ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কথাপ্রকাশ-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল প্রকাশককে ২৫,০০০.০০ টাকার চেক, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ফারভীন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশী) শেখ জালালউদ্দিন (দোতারা), এস.এম. রেজা বাবু (ঢোলক) ও দৌলতুর রহমান (কী-বোর্ড)।

 অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৫ ফাল্গুন ১৪২৪ মঙ্গলবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২০২টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনার মান উন্নয়নের সমস্যা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খান মাহবুব। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বদিউদ্দিন নাজির, রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং মোস্তফা সেলিম। সভাপতিত্ব করেন ফজলে রাব্বি।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে ‘প্রাণের মেলা’, ‘বাঙালির মিলনমেলা’ প্রভৃতি অভিধায় অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থমেলা বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক মিলন কেন্দ্র। বাংলা একাডেমি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে অমর একুশের গ্রন্থমেলার আয়োজক হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে। মূলত বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণের সূত্রপাত ঘটেছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা দীর্ঘদিনের জনদাবিকে পূরণ করে বর্ধিত কলেবরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত হচ্ছে। গ্রন্থমেলা আয়োজন ও আঙ্গিক নিয়ে নানা মত আছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের গৌরবের বিষয়। তিনি বলেন, আমাদের সৃজনশীল বইয়ের মান মোটেও কাক্সিক্ষত নয়। বাংলা বইয়ের সম্পাদনা ও সংশোধন পর্বে একটা বড় সমস্যা হলো আমাদের এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ জনবল নেই। প্রকাশনার মান উন্নয়ন বড় অন্তরায় হলো সৃজনশীল প্রকাশনার সংকুচিত বাজার।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বইমেলাকে নান্দনিকভাবে সাজাতে হবে। প্রকাশকদের উচিত পাঠকদের মতামত সংগ্রহ করা এবং ভাল পাঠক মনোনীত করে পুরস্কৃত করা। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রচুর বই প্রকাশিত হচ্ছে কিন্তু বইয়ের মানের উন্নতি হচ্ছে না। বর্তমানে একজন লেখক তার প্রচার নিয়ে ব্যস্ত থাকে কিন্তু লেখার মান নিয়ে অনেকের কোন মাথাব্যাথা নেই। তারা বলেন, আমাদেরকে বই মুদ্রণ, বাঁধাই, বিপণন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য জোর দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ফজলে রাব্বি বলেন, গ্রন্থমেলা এবং প্রকাশনা দুইটি ভিন্ন বিষয়। এই দুইটিকে একসাথে মেলানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মত আর কোনো দেশে প্রকাশকরা সরাসরি এভাবে বই বিক্রি করে না। বইমেলা হচ্ছে প্রকাশকের প্রচারণার একটি অংশ। বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্পাদনার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রন্থমেলায় হুমায়ুন আজাদকে স্মরণ
বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর মৌলবাদী চক্রের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে একুশে গ্রন্থমেলায় আজ বিকেলে তাঁকে স্মরণ করা হয়। লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের তথ্যকেন্দ্রের সামনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধান করেন বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, কথাসাহিত্যিক সিরাজুল ইসলাম মুনীর, শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী এবং ড. জালাল আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন আগামী প্রকাশনীর সত্বাধিকারী ওসমান গনি। সভা সঞ্চালনা করেন কবি আসলাম সানী। বক্তারা বলেন, হুমায়ুন আজাদের হত্যাচেষ্টার বিচার অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং তাঁর আদর্শে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই তাঁকে যথাযোগ্যভাবে স্মরণ করা হবে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এস. এম. মাহিদুল ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লিলি ইসলাম, নীলোৎপল সাধ্য, মহাদেব ঘোষ, কামাল আহমেদ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন এনামুল হক ওমর (তবলা), ইফতেফার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড), নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে বাংলদেশের আদিবাসী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রাহমান নাসির উদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং রণজিত সিংহ। সভাপতিত্ব করবেন রাশিদ আসকারী।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮’র সমাপনী অনুষ্ঠান :
আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিন।

সন্ধ্যা ৬:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮’-এর সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ সোমবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১১৭টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বিজয় সরকার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মো. শাহিনুর রহমান, স্বরোচিষ সরকার এবং আকরাম শাহীদ চুন্নু। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী।

প্রাবন্ধিক বলেন, কবিয়াল বিজয় সরকার শৈশব-কৈশোর থেকেই সংস্কৃতি অনুরাগী ছিলেন। গ্রাম-গঞ্জের পথে-মাঠে-ঘাটে আনমনে গান গেয়ে বেড়াতেন তিনি। বিজয় সরকার কবিগানের নিজস্ব একটি কাঠামো সৃষ্টি করেন, আবার কবিয়াল হয়েও বাংলা গান ও কবিতার ভুবনে স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও বিভিন্ন জাতির মধ্যে সমন্বয়, সম্প্রীতি, সহাবস্থান, সহমর্মিতা বিজয় সরকারের গানে উচ্চারিত হয়েছে। ভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, সহানুভূতিশীল হওয়া, সম্মান প্রদর্শন করা, সর্বোপরি সব ধর্মের মর্মবাণী উপলব্ধি করা- সংগীতের মাধ্যমে এসব তিনি মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। এজন্য তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের একজন উচ্চমানের সংগীতশিল্পী। প্রাবন্ধিক বলেন, কালজয়ী প্রতিভা বিজয় সরকারের রচনাবলি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তাঁর গানের সুরের স্বরলিপি করতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যত প্রজন্ম এই মহান শিল্পীর জীবনকথা জানতে পারে এবং তাঁর সৃষ্ট সংগীতসম্ভার নিয়ে নানামাত্রিক গবেষণা করতে পারে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, অনন্য প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন কবিয়াল বিজয় সরকার। কবিগানকে তিনি শিল্পের উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। বিজয় সরকার ছিলেন মানবতাবোধের স্বভাব কবি। তিনি সকল কিছুর মাঝে পরমত্মার ভিতর সন্ধান করতেন। পরমাত্মার সন্ধান করতে গিয়ে সমাজ, পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন পড়েন তবু তাঁর পরমের সন্ধান শেষ হয়নি। তারা বলেন, তাঁর অমর সৃষ্টি বিজয়গীতির মধ্যে তিনি বাংলার লোকসমাজের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, বিজয় সরকারের কবিগান সাহিত্যগুণমানসম্পন্ন। তাঁর গান সার্বজনীন। একদিকে মরমী ন¤্রধারা, অন্যদিকে দ্রোহের আগুন জ্বলমান। জাত-ধর্মের বালাইহীন উদার জমিনে সকল ধর্মের সুসমন্বয় করতে চেয়েছিলেন বিজয় সরকার। হাছন-লালনের ধারায় বিজয় সরকার বাংলা গানের ভুবনে এক অনন্য নক্ষত্রের নাম।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল স্বপন গুহের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রূপান্তর’-এর পরিবেশনা।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :

আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৫ ফাল্গুন ১৪২৪ মঙ্গলবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনার মান উন্নয়নের সমস্যা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খান মাহবুব। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বদিউদ্দিন নাজির, রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং মোস্তফা সেলিম। সভাপতিত্ব করবেন ফজলে রাব্বি। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১০৭টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম, ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম এবং একুশের শহিদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। নির্ধারিত প্রবন্ধকার রামেন্দু মজুমদার বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর লিখিত ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম প্রবন্ধটি পাঠ করেন ত্রপা মজুমদার। ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিউর রাব্বি এবং একুশের শহিদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম সুমন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ এবং মালেকা বেগম। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।

ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে রামেন্দু মজুমদার বলেন, নাদেরা বেগম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আত্মগোপনে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বের ইতিহাসে এক সাহসী ও সংগ্রামী নারী হিসেবে নাদেরা বেগমের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তবে এটা স্বীকার করতে হবে যে তাঁর সে সময়ের অসাধারণ ভূমিকার কোন স্বীকৃতি তিনি পাননি। বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ বিস্মৃতি থেকে তাঁকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে আনবার জন্যে।

ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে রফিউর রাব্বি বলেন, ভাষা আন্দোলনে যেসব নারীদের নাম উচ্চারিত হয়ে থাকে তাঁদের মধ্যে মমতাজ বেগম সর্বাগ্রে। এটি শুধু নারায়ণগঞ্জের প্রশ্নে নয়, দেশের সামগ্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও অবদান এবং পরে মৃত্যু অবধি পরিচালিত তাঁর আদর্শিক লড়াই- এ এক অনন্য উপাখ্যান। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাঁর সমস্ত জীবন সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে যায়, সংসার ভেঙে যায়। আমাদের সংগ্রামের ইতিহাসে এ এক বিরল উদাহরণ। তাঁর আত্মত্যাগ যুগ-যুগ আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

একুশের শহিদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম সুমন বলেন, নভেরা আহমেদ এক বর্ণাঢ্য শিল্পজীবনের অধিকারী। তাঁর অমর কীর্তি শিল্পী হামিদুর রহমানের সঙ্গে যুক্তভাবে কৃত মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নক্শা। বাঙালির সংগ্রাম ও গৌরবের প্রতীক এই শহিদ মিনার অনন্তকাল ধরে জাতির শোক, অশ্রু, আবেগ ও সংকল্পকে ধারণ করে রাখবে। ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের বাঙালি জাতি যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তেমনি এই শহিদ মিনারের অন্যতম স্থপতি ভাস্কর নভেরা আহমেদকেও স্মরণ করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

আলোচক শফি আহমেদ বলেন, মমতাজ বেগম, নাদেরা বেগম এবং নভেরা আহমেদের মতো বীর নারীরা শুধু ভাষা আন্দোলনে নয়, একই সঙ্গে এই দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনেই শক্তি যুগিয়েছেন।
আলোচক মালেকা বেগম বলেন, এই নারীরা শুধু ভাষা আন্দোলনের সময়পর্বেই নয় বরং বহু আগে থেকে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছেন। এরা শুধু ভাষা আন্দোলনে সভা-সমাবেশই করেননি; বিভিন্ন গঠনমূলক কাজের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন। মাতৃভাষা এবং দেশমাতৃকার জন্য সংগ্রামের শিক্ষা দিয়ে তারা আমাদের ইতিহাসে শিক্ষাব্রতীর ভূমিকায়ও আসীন হয়ে আছেন।
সভাপতির সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ভাষা আন্দোলনে নারী-পুরুষ সবারই গৌরবজনক অংশগ্রহণ ছিল। ইতিহাসের পূর্ণতার স্বার্থে সবার অবদান আলোচিত হওয়া প্রয়োজন। পঞ্চাশের দশকে যখন আমাদের সমাজে নারীদের বাইরে বেরুনোর ব্যাপারে কড়াকড়ি ছিল ঠিক সেই সময় এই নারীরা রাস্তায় শুধু বেরই হন নি, তাঁরা ভাষার জন্য অসম সাহসে সংগ্রামও করেছেন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল অধ্যাপক শফিউল আলমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলা’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, মো. রেজাউল করিম, মামুন সিদ্দিকী এবং মাহবুবা রহমান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন কাজী ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি) এবং ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ সোমবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে বিজয় সরকার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মো. শাহিনুর রহমান, স্বরোচিষ সরকার এবং আকরাম শাহীদ চুন্নু। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

Image may contain: 32 people, people smiling, people standingNo automatic alt text available.

আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১২ ফাল্গুন ১৪২৪ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৪তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৮২টি। ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় ছিল শিশুপ্রহর।

সকাল ১০:৩০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল দেশ বিভাগের সত্তর বছর শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমানুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ হাসান ইমাম। সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।

প্রাবন্ধিক বলেন, দেশভাগের নানা মাত্রার মধ্যে উদ্বাস্তু সমস্যা যেমন একটি, মানুষের মনস্তত্ত্বে বিভাজনও আর একটি দিক। দেশভাগের যে কোন অংশে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সংখ্যালঘু মানুষ। আবার নতুন রাষ্ট্রে বিকাশের পথও খুঁজে নেন অনেকে। দেশভাগের সত্তর বছর পেরিয়ে আমাদের প্রত্যাশা-যতই ভৌগলিক বিভাজন থাকুক, হৃদয়ে হৃদয়ে যেন কাঁটাতারের বেড়া না গড়ে ওঠে।

আলোচক সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, দেশভাগ সীমান্তের দুই পাড়ের মানুষের জন্যই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। আপন ভিটেমাটি থেকে মানুষের উচ্ছেদ হওয়ার ক্ষত যেমন কখনোই কোন ক্ষতিপূরণে মুছে যাবার নয়।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল লোহানী বলেন, আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে দেশভাগ রেখে গেছে গভীর অভিঘাত। চলচ্চিত্র ও চিত্রকলাতেও দেশভাগের ছায়া পড়েছে। দেশভাগে সবসময় সুবিধা নেয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। তাই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেই পরিচালিত হোক আমাদের সকল মানবিক লড়াই।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ইমন চৌধুরীর পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘ফাল্গুনী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থা’র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন তাপসী ঘোষ, মুন্নী কাদের, ফারহানা শিরিন, মোক্তার হোসেন এবং এম এম উম্মে রুমা ট্রকি। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা) এবং রবিনস্ চৌধুরী (কী-বোর্ড)।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

২০১৭ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য অলকানন্দা প্যাটেল রচিত ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, সুফি মুস্তাফিজুর রহমান রচিত ‘বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স, মঈন আহমেদ সম্পাদিত ‘মিনি বিশ্বকোষ পাখি’ গ্রন্থের জন্য সময় প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ এবং ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কথাপ্রকাশ-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-র সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে ভাষাসংগ্রামী নাদিরা বেগম ও ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রামেন্দু মজুমদার ও রফিউর রাব্বি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শফি আহমেদ এবং মালেকা বেগম। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

……………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৬৬টি। ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় ছিল শিশুপ্রহর।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিন
আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিন।

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সকাল ১০:০০টায় অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কবিতা শীর্ষক আলোচনাপর্ব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কায়সার হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নেপালের লেখক আভি সুবেদি, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন এবং কবি সাদাফ সায্। বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কবিতা ব্যক্তিগত অনুভব এবং সমষ্টিক অঙ্গীকার উভয় সত্যকে ধারণ করে নতুন শতকে নবতর ভাষা ও আঙ্গিকে প্রকাশমান। তারা বলেন, বহমান দুঃস্বপ্নের মধ্যে কবিরাই স্বপ্ন দেখাতে পারেন। একই সঙ্গে দৈশিক ও বৈশ্বিক অনুভব ও অঙ্গীকারকে ধারণ করে কবিরাই পারেন মানবিক পৃথিবীর স্বপ্নকে বাস্তব করতে।

বেলা ১২:০০টায় দক্ষিণ এশিয়ার ভাষা এবং অনুবাদ শীর্ষক সমাপনী আলোচনা পর্বে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাশিদ আসকারী, ফায়েজা হাসানাত এবং জি এইচ হাবীব। বক্তারা বলেন, অনুবাদের মধ্য দিয়ে যেমন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি মূলভাষা ব্যতীত ইংরেজি থেকে ঢালাও অনুবাদের ফলে পাঠক সাহিত্যের প্রকৃত রস থেকে বঞ্চিতও হয়। সেজন্য অনুবাদের ক্ষেত্রে ইংরেজির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয় নানাভাষার পারস্পরিক অনুবাদও অত্যন্ত জরুরি।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল শওকত আলীর সাহিত্যসাধনা শীর্ষক আলোচনানুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবু হেনা মোস্তফা এনাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফারজানা সিদ্দিকা এবং তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

প্রাবন্ধিক বলেন, শওকত আলীর সৃষ্টিক্ষমতায় এবং ব্যক্তিজীবনের প্রগতিশীল রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সক্রিয় কর্মোন্মুখ চৈতন্যের লুব্ধ আলো মৃত্যুর পরও তাঁকে দেবে নতুন স্থান। শওকত আলী কোন্ জীবনাভিজ্ঞতা, কোন্ জীবনদর্শনের গল্প বয়ান করেছেন- তাঁর সমকালের রূপান্তরক্রিয়া নির্মাণের এই সূত্রটি আবিষ্কার করা প্রয়োজন। কেননা সময়ের অদৃশ্য নিঃশ্বাসে আন্দোলিত হয় বস্তু, ব্যক্তি ও সমাজ। বস্তু ও ব্যক্তির অস্তিত্ব ও বিকাশের সমস্ত সূত্র তাই মূর্ত হয়ে ওঠে সমাজ-সংগঠনে, সময়ের পরিচিহ্নে। তিনি বলেন, শওকত আলী সাহিত্যসাধনা, বিশেষত কথাসাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে আমাদের উপর্যুক্ত বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ইতিবৃত্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আলোচকবৃন্দ বলেন, শওকত আলী যা বিশ্বাস করেছেন তাই তাঁর লেখনিতে উঠে এসেছে। তিনি বৃহতের সাথে যুক্ত হতে চেয়েছেন বারবার। তাঁর লেখনিতে তৃণমূলের মানুষের পাশাপশি মধ্যবিত্তের নিরূপায় পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর অভাব অনুভব করবে দীর্ঘদিন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শওকত আলী জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কলম ধরেন নি। তিনি বাস্তবতাবিবর্জিত কোন গল্প, উপন্যাস কখনোই লিখেন নি। শওকত আলী উপন্যাসকে কালের দর্পণ ভাবতেন। তাঁর মতো জীবনঘনিষ্ঠ লেখক সত্যিই বিরল।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মো. মফিজুল ইসলামের পরিচালনায় ‘কালু শাহ্ শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং সালাউদ্দীন বাদলের পরিচালনায় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী’-র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন সমর বড়–য়া, সালমা চৌধুরী, আহাদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম এবং রীতা ভাঁদুরী। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বাবু জামান (তবলা) এবং আজিজুর রহমান (কী-বোর্ড)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১২ ফাল্গুন ১৪২৪ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৪তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।

সকাল ১০:৩০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে দেশ বিভাগের সত্তর বছর শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইমানুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও নূরজাহান বোস। সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

Image may contain: 4 people

আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১০ ফাল্গুন ১৪২৪ বৃহস্পতিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২২তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১০৩টি।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন
উদ্বোধনী দিবসের কর্মসূচি
অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আজ শুরু হয় দু’দিনব্যাপী (২২-২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্য শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।

সকাল ১০:০০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফকরুল আলম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি অনুধাবনে এ ধরনের সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন এবং একই সঙ্গে এর প্রাণচঞ্চল সাহিত্যসম্পদের সাক্ষাৎ পেতে দক্ষিণ এশিয় সাহিত্যের নিবিড় পাঠ এবং বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ড. ফকরুল আলম বলেন, দক্ষিণ এশিয় লেখকদের সাহিত্যে প্রান্তীয় মানুষের স্বর যেমন ওঠে আসে তেমনি নতুন এক সাহিত্যরীতিরও এ অঞ্চলের লেখকেরা জন্ম দিয়ে চলেন; যার মধ্যে সময়-দেশ ও মানুষের মহাস্বরই প্রতিধ্বনিত হয়ে চলে।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করে ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যে নানান অভিমুখ পরিলক্ষিত হলেও মানবমুখী প্রবণতাই প্রধান।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঔপনিবেশিক বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষকে যেমন স্বাধীনতার অদম্য স্পৃহা দান করেছে তেমনি এ অঞ্চলের লেখকদের মাঝে নতুন সাহিত্যিক রূপরীতি অনুসন্ধানের মানস গঠন করেছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ১২:০০-১২:৪৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য বিষয়ে ভারতের লেখক অরুণা চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের ড. ফিরদৌস আজিমের আলাপচারিতা। তাঁরা বলেন, সাহিত্যিককে সময়ের সাথে সাথে নিজেকে নবায়ন করে নিতে হয়। চারপাশের মুহুমূর্হু পরির্বতনকে আত্মস্থ করতে হয় এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে জীবনকে অবলোকন করতে হয়। জীবনরসের সন্ধান না পেলে সাহিত্য মানুষের সঙ্গে সংযোগহীন হতে শুরু করে। দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যেও ব্যক্তি ও সমষ্টি-উভয়ই সমগুরুত্ব লাভ করেছে।
বেলা ২:৩০-৪:০০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রিফাত মুনিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শ্রীলঙ্কার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জি বি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ এবং খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যিকরা যেমন শিল্পমান সম্পর্কে সচেতন তেমনি মানুষের অধিকারের কথা নতুনতর গদ্যরীতিতে পরিস্ফুট করছেন। যদিও একমাত্রিক বিশ্বায়নের প্রভাবে কথাসাহিত্যের ভাষাও আজ এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি উপনীত। এ অঞ্চলের কথাসাহিত্য-পরিসরে দলিত সাহিত্য, নারীস্বর যেমন গুরুত্ব পেয়েছে তেমনি লিখিত রীতির পাশাপাশি মৌখিক কথকতার রূপরীতিও কথাসাহিত্যের অবয়বে ফুটে উঠেছে।

বিকেল ৪:১৫-৫:৪৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ান থিয়েটার বিষয়ক আলোচনাপর্ব। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রামেন্দু মজুমদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ এবং ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক।
বক্তারা বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নাটক শিল্পমাধ্যম হিসাবে আজ এক নতুন দিগন্তের সামনে এসে উপস্থিত। সারা বিশ্বের শৈল্পিক উত্তরাধিকারকে বহন করে দক্ষিণ এশিয়ার নাটকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র, নারীদের জীবনসংগ্রাম এবং সর্বতোমুখী বৃত্ত ভাঙার প্রয়াসে ঋদ্ধ। মৌলিক নাটকের পাশাপাশি অনূদিত ও রূপান্তরিত নাটকে দক্ষিণ এশিয়ার জীবনের সঙ্গে অন্বয় সাধন এক নতুন নাট্য-আঙ্গিকের জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী থিয়েটারের সমান্তরালে প্রতœথিয়েটার, পরিবেশ-থিয়েটার ইত্যাদি এ অঞ্চলের থিয়েটারকে শিল্পসত্য ও মানবমুক্তির সত্যের মুখোমুখি করে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার প্রদান পর্ব
আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার পুরস্কার ২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৭-তে ভূষিত হয়েছেন কানাডাপ্রবাসী কবি মাসুদ খান এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কবি মুজিব ইরম। অনিবার্য কারণবশত মাসুদ খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ড. সাইমন জাকারিয়া। পুরস্কারপ্রাপ্ত কবিদের পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০,০০০.০০ টাকার চেক, পুষ্পস্তবক এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সভাপতি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কবিরা সমাজের পথপ্রদর্শক। সমাজ যত কবিতাময় হবে ততোই মঙ্গলময় আভায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে আমাদের পরিপার্শ্ব।
অনুভুতির প্রকাশ করে মুজিব ইরম বলেন, এই পুরস্কার দূর-প্রবাসে উষ্ণতার অনুভব প্রদান করবে সবসময়।

সভাপতির বক্তব্যে শামসুজ্জামান খান বলেন, এই দুই কবি ভবিষ্যতে আমাদের আরও ঋদ্ধ শিল্পফসল উপহার দেবেন- এই প্রত্যাশা করি।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আলম দেওয়ান, শফিউল আলম রাজা, আঁখি আলম এবং আমজাদ দেওয়ান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), মো. হাসান আলী (বাঁশি) এবং নির্মল কুমার দাস (দোতারা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

শিশুপ্রহর :
আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে শওকত আলীর সাহিত্যসাধনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আবু হেনা মোস্তফা এনাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফারজানা সিদ্দিকা এবং তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিন
আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের শেষ দিন।

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সকাল ১০:০০টায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার কবিতা শীর্ষক আলোচনাপর্ব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক কায়সার হক। আলোচনায় অংশ নেবেন নেপালের লেখক আভি সুবেদি, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন এবং সাদাফ সায্।

বেলা ১২:০০টায় দক্ষিণ এশিয়ার ভাষা এবং অনুবাদ শীর্ষক সমাপনী আলোচনা পর্বে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। আলোচনায় অংশ নেবেন রাশিদ আসকারী, ফায়েজা হাসানাত এবং জি এইচ হাবীব।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্ যাপন

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে। মেলা চলবে সকাল ৮:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ৩৯০টি।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। রাত ১২:৩০টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে সকাল ৭:৩০টায় শুরু হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে শতাধিক নবীন-প্রবীণ কবি কবিতা-আবৃত্তি করেন। সভাপতিত্ব করেন কবি কামাল চৌধুরী।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়- অমর একুশে বক্তৃতা। একুশে ফেব্রুয়ারির লক্ষ্য কী, অর্জনের পথ কোন দিকে শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, একুশে শহিদের শোককে বাঙালি শক্তিতে পরিণত করেছে। ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনার পথ ধরে আমরা এগিয়েছি স্বাধীনতার দিকে।

অমর একুশে বক্তৃতায় ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখান করে বাংলাদেশের বাঙালি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করেছে। এর ফলেই সর্বাত্মক ভাষাসংগ্রাম এবং পরিণতিতে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু একুশের পথ বেয়ে একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করলেও বাংলাকে আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। তাই উচ্চআদালতে রায় প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও বাংলাকে প্রধান মাধ্যম ভাবা হয় না, তিন ধারার শিক্ষাব্যাবস্থায় একটি শ্রেণির কাছে ভাষা হিসেবে বাংলা থাকে উপেক্ষিত। তিনি বলেন, এই অবস্থার মূলে রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক সংকট। শ্রেণিবৈষম্যের অবসান না ঘটায় সমাজে দারিদ্র্য, শোষণ ও নির্যাতন ঔপনিবেশিক সময়ের মতোই ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থার নিরসনকল্পে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির যে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন ছিল তার অনপুস্থিতি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাম্যবাদী সংকল্পের বাস্তবায়নকে সুদূরপরাহত করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত পথপরিক্রমায় আমাদের রাজনীতি বিভাজিত ছিল নানা ধারা-উপধারায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেটি আরও স্পষ্ট হয়। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধকালে বামপন্থীদের একটি অংশ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একুশ থেকে একাত্তর- এই উত্তাল কালপর্বে বিভাজনের উর্ধ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতাই প্রধান সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফকির সিরাজের পরিচালনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফকির আলমগীর, কল্যাণী ঘোষ, ফিরোজ আহমেদ, আবদুল হালিম খান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), বিলাস চন্দ্র বণিক (প্যাড), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড) এবং শাহরাজ চৌধুরী।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জতিক সাহিত্য সম্মেলন
উদ্বোধনী দিবসের কর্মসূচি

আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১০ ফাল্গুন ১৪২৪ বৃহস্পতিবার। মেলা চলবে সকাল বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে দু’দিনব্যাপী (২২-২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্য শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।
সকাল ১০:০০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ফকরুল আলম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ১২:০০-১২:৪৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য বিষয়ে ভারতের লেখক অরুণা চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের ড. ফিরদৌস আজিমের আলাপচারিতা।
বেলা ২:৩০-৪:০০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করবেন রিফাত মুনিম। আলোচনায় অংশ নেবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শ্রীলঙ্কার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জি বি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ এবং খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।

বিকেল ৪:১৫-৫:৪৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ান থিয়েটার বিষয়ক আলোচনাপর্ব। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করবেন রামেন্দু মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেবেন শফি আহমেদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ এবং ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার প্রদান পর্ব
বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৭ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কার পেয়েছেন কানাডা-প্রবাসী কবি মাসুদ খান এবং যুক্তরাজ্য-প্রবাসী কবি মুজিব ইরম। আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

ty-191x300

জনসংযোগ উপবিভাগ
বাংলা একাডেমি
ঢাকা ১০০০

ফোন : ফোন : ৫৮৬১১২৪৮  ফ্যাক্স : ৯৬৬১০৮০
ই-মেইল : banglaacademy.pr@gmail.com,  bacademy1955@yahoo.com
ওয়েবসাইট : www.banglaacademy.org.bd

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ১২ ভাদ্র ১৪২৪/২৭ আগস্ট ২০১৭ রবিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নজরুল বিষয়ে একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলা একাডেমি আজ ১২ ভাদ্র ১৪২৪/২৭ আগস্ট ২০১৭ রবিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।
সকাল ৭:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নজরুল : সম্প্রীতির সন্ধান শীর্ষক বিষয়ে একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, এ বছর বিশ্বব্যাপী রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্যাপিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নজরুলকে স্মরণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এই বিপ্লবের মানবিক আভায় œাত ছিলেন তরুণ নজরুল। এই বিপ্লবী, মানবিক দর্শনই নজরুলকে চালিত করেছে সম্প্রীতির সন্ধানে।

একক বক্তা অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পৃথিবীজুড়েই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে। আর এক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টি আলোকপাত করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ নজরুল তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সৃজনকর্ম দিয়ে পৃথিবীর নানা ধর্ম-সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, চেয়েছেন সাম্য ও মৈত্রীময় এক সুন্দর পৃথিবী। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে যেখানে মানবতা ভূলুণ্ঠিত, পরমতসহিষ্ণুতা হিংসার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, সেখানে নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টি এবং এর মিথস্ক্রিয়া থেকে উঠে আসা দর্শনে পাওয়া যায় মানবপ্রেমের সুস্নিগ্ধ জলপ্রপাত, পরমতসহিষ্ণুতার বাতায়ন, সৌহার্দ্যরে অমিয়ধারা। একক বক্তা বলেন, নজরুলের জন্মের মাত্র ছয় বছর পর বঙ্গভঙ্গ হয়, তাঁর বয়স যখন বার তখন তা রদ হয়। এরপর সশস্ত্র আন্দোলন, অহিংস আন্দোলন এবং হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রক্তাক্ত ছিল ভারতবর্ষের রাজনীতি। সেই হলাহলের মধ্যে বসেই নজরুল সম্প্রীতির পুষ্পহাসি হেসেছেন। ‘মানুষ’ পরিচয়কে মুখ্য করতে গিয়ে নজরুল সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করতে চেয়েছেন। হিন্দু বা মুসলিম অথবা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ‘মানুষ’ পরিচয়ই যে আমাদের কাছে প্রধান হওয়া উচিত, নজরুলের সমগ্র জীবন ও সাহিত্যের মূল বার্তাই
তা-ই।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নজরুলের সমকালে এবং আজকেও সবাই তাঁকে নিজের কাঠামোতে অবলোকন ও ব্যাখ্যা করে কারণ নজরুলের মতো মৌলিক ও বৃহৎ প্রতিভাকে সবাই-ই নিজের মতো করে ভাবতে চায়, বিশ্লেষণ করতে চায়। তিনি বলেন, নজরুলের সম্প্রীতি-সাধনার মূলে ছিল তাঁর প্রবল ইহজাগতিকতার বোধ। ভারতে যখন স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিণত হচ্ছিল সাম্প্রদায়িক সংঘাতে তখন নজরুল একদিকে যেমন সম্প্রীতির বাণী প্রচার করেছেন অন্যদিকে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তিসংগ্রামের পথানুসন্ধান করেছেন।
অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

পত্র সংখ্যা :                                                                                                                          তারিখ : ১০.১১.২০১৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন

বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আগামী ২৯শে কার্তিক ১৪২৩/১৩ই নভেম্বর ২০১৬ রবিবার রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদীস্থ মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সকাল ৯:৩০টায় অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক বিনয় কুমার চক্রবর্তী, বালিয়াকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. রকিব হায়দার, বালিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম মোস্তফা খান এবং প্রভাষক ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব জিল্লুল হাকিম। সভাপতিত্ব করবেন রাজবাড়ী জেলার জেলা প্রশাসক জিনাত আরা।
দ্বিতীয় অধিবেশন
সকাল ১১:৩০-১:৩০টায় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এম. আবদুল আলীম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফকরুল আলম এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজবাড়ী জেলার জেলা প্রশাসক জিনাত আরা। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন রাজবাড়ী- ১  আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বালিয়াকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোঃ আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করবেন রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফকীর আবদুর রশিদ।

(মোঃ মনিরুজ্জামান)
উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)

ty

 জনসংযোগ উপবিভাগ
বাংলা একাডেমি
ঢাকা ১০০০ ফোন : ফোন : ৫৮৬১১২৪৮  ফ্যাক্স : ৯৬৬১০৮০
ই-মেইল : banglaacademy.pr@gmail.com,  bacademy1955@yahoo.com
ওয়েবসাইট : www.banglaacademy.org.bd

পত্র সংখ্যা :                                                                                                                           তারিখ : ১০.১১.২০১৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপন

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ ২৬শে কার্তিক ১৪২৩/১০ই নভেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং নিশাত জাহান রানা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
শিল্পী ফাহমিদা খাতুনের কণ্ঠে ‘আগুণের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছণায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। কাঁদতে আসি নি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি কবিতাটি আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জীবন ও কর্ম নিয়ে নিশাত জাহান রানা নির্মিত ‘একুশের প্রথম কবিতার কবি’ প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়।
স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রসারের উন্মত্ততার কালে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর মতো অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বকে স্মরণের তাৎপর্য অনেক। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক প্রগতিশীল শিল্পসাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি জোরদারে ভূমিকা রেখেছেন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার এই কবির প্রতি জাতি হিসেবে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
আলোচকবৃন্দ বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরীকে স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমি এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। মাহবুব উল আলম চৌধুরী শুধু ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার কবি নন, একই সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বলতম মানুষও ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে ‘সীমান্ত’ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ফ্যাসিবাদ, শোষণ, আগ্রাসন ও পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছেন তারুণ্যের প্রথম প্রভাতেই। তারুণ্যের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যুক্ততা বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। মাহবুব উল আলম চৌধুরীর নব্বইতম জন্মদিন আমাদের সবার জন্যই এক শুভ-উৎসবের প্রতীক।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরীর কাছে আমাদের বারবার ফিরে যেতে হবে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার পাশাপাশি ‘সীমান্ত’ পত্রিকার স্মরণীয় কিছু সংখ্যার জন্যও তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। নানান সাংগঠনিক যুক্ততার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিস্তৃত করেছেন গণমানুষের মাঝে। সংস্কৃতিকে তিনি সমাজ-পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করেছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী সাঈদা খানম, নূরজাহান বোস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক শফি আহমেদ, কবি কাজী রোজী, নূহ উল আলম লেনিন, অধ্যাপক এবি এম হোসেন, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, কবি কাজী মদিনা, দিল মনোয়ারা মনু, কবি নাসির আহমেদ, এবং মাহবুব উল আলম চৌধুরীর পত্নী রওশন আরা রহমান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন।

(মোঃ মনিরুজ্জামান)
উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)

ty

জনসংযোগ উপবিভাগ
বাংলা একাডেমি
ঢাকা ১০০০ ফোন : ফোন : ৫৮৬১১2৪৮  ফ্যাক্স : ৯৬৬১০৮০
ই-মেইল : banglaacademy.pr@gmail.com,  bacademy1955@yahoo.com
ওয়েবসাইট : www.banglaacademy.org.bd

পত্র সংখ্যা :                                                                                                                           তারিখ : ১৭.১০.২০১৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ ঘোষণা

বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর এ পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি ও লেখক শামীম আজাদ এবং জার্মান প্রবাসী লেখক ও গবেষক নাজমুন নেসা পিয়ারি। গত ০৬ অক্টোবর ২০১৬ অনুষ্ঠিত বাংলা একাডেমির নির্বাহি পরিষদের সভায় পুরস্কার-প্রাপকদের নাম অনুমোদিত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালি লেখক, কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে যাঁরা বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় গভীরতাময় সাহিত্য রচনা করেন এবং বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যাঁরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন তাঁদের মধ্য থেকে ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর দু’জনকে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ স্মরণে প্রবর্তিত এ পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। এর আগে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ড. ফ্রাঁস ভট্টাচার্য, মন্জু ইসলাম, ইকবাল হাসান ও সৈয়দ ইকবাল। উল্লেখ্য ২০১১ সাল থেকে প্রবর্তিত ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার’টি ২০১৪ সাল থেকে পরিবর্তিত হয়ে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার’ হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে।

এ বছর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার’প্রাপ্ত কবি ও লেখক শামীম আজাদ কবিতা, কথাসাহিত্য ও নাটক রচনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন। অপর পুরস্কারপ্রাপ্ত নাজমুন নেসা পিয়ারি বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে থাকেন। তিনি প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে আনুষ্ঠানিকভাবে শামীম আজাদ ও নাজমুন নেসা পিয়ারিকে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ প্রদান করা হবে। এ পুরস্কারের মূল্যমান ৫০,০০০.০০ টাকা।

(শামসুজ্জামান খান)
মহাপরিচালক

বাংলা একাডেমি

বাংলা একাডেমি