সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কবি শামসুর রাহমানের ৯০তম জন্মদিন

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৯০তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামীকাল ৮ কার্তিক ১৪২৫ / ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৩:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করবেন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির ফেলো, কবি আসাদ চৌধুরী।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————–

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ২৫ আশ্বিন ১৪২৫ / ১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। মুসলিম বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নির্মাণে সাহিত্যবিশারদের ভূমিকা শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন ড. তারিক মনজুর। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলা পুঁথির স্বকীয় আবেদন সৃষ্টিতে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একক বক্তা ড. তারিক মনজুর বলেন, রক্ষণশীল সামাজিক পরিবেশের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তাঁর একজীবনের শ্রম ও সাধনায় বিপুলসংখ্যক পুঁথি সংগ্রহ করেছেন, পাঠোদ্ধার সম্পন্ন করেছেন। তাঁর আবিষ্কৃত পুঁথিসমূহকে সঙ্গত কারণেই ‘মধ্যযুগের মুসলিম বাংলা সাহিত্যে প্রবেশপথের প্রদীপ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক উপায়ে পুঁথি সংরক্ষণেও সাহিত্যবিশারদের অবদান অবস্মরণীয়। সংগ্রহকর্মকে সাহিত্যের বহমান ধারার সঙ্গে যুক্ত করতে তিনি পুঁথির যথাযথ ব্যাখ্যা-ভূমিকা-টীকাভাষ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে পুঁথির পরিচিতি নির্মাণ করেছেন। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ যেমন ইসলামাবাদ নামক গ্রন্থের মাধ্যমে আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চায় তাঁর সাফল্যের পরিচয় রেখেছেন তেমনি সাহিত্য সম্পর্কিত প্রবন্ধগুচ্ছ ধারণ করেছে তাঁর স্বতন্ত্র চিন্তাপদ্ধতির ধারক্রম। গবেষণার জন্য তিনি নিজ জীবনে স্বল্পে সন্তুষ্ট থেকেছেন কিন্তু বাংলা সাহিত্যের জন্য রেখে গেছেন তাঁর অমূল্য দান।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ ছয় দশকের সাধনায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আড়াই হাজারের মত পুঁথি সংগ্রহ করেন। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম উভয় কবির বিরল সৃষ্টি আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয় এবং বিশেষভাবে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। পরবর্তীকালে যাঁরাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেছেন তাঁদের গবেষণায় সাহিত্যবিশারদের সংগৃহীত ও ব্যাখ্যাকৃত পুঁথি বিশেষ সহায়তায় এসেছে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান
বাংলা একাডেমি আজ ১২ আশ্বিন ১৪২৫/২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের দ্বিতীয় প্রয়াণবার্ষিকী স্মরণে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।

স্বাগত ভাষণ প্রদান করে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক যেমন ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন গুণী গবেষক তেমনি ছিলেন একজন সুদক্ষ প্রশাসকও।

স্মারক বক্তৃতা প্রদান করে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, মুহম্মদ এনামুল হক একজন নিষ্ঠাবান গবেষক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সামাজিক ইতিহাসের নানাদিক ছিল তাঁর আগ্রহ, অনুসন্ধান, অধ্যায়ন ও গবেষণার বিষয়। এই স্বারস্বতচর্চার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাঁর স্বজাতি ও স্বদেশপ্রেম। বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান সম্পর্কেও মুহম্মদ এনামুল হক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। তিনি বলেন, মুহম্মদ এনামুল হকের চিন্তার পরিধি ছিল ব্যাপক, গভীরতাও ছিল তাঁর ভাবনায়। এদেশের সমাজ-সংস্কৃতিকে তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করতে চেয়েছেন। গবেষকদের কাছে প্রত্যাশিত সততা তাঁর ছিল; গবেষণাকে তিনি যান্ত্রিক বিদ্বৎ-চর্চার পরিণত করেননি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত কৃষ্টি পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর নিবন্ধ বাংলা ভাষার সংগ্রামে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক গোটা বাংলা অঞ্চলের এক অসাধারণ প্রজ্ঞাবান পণ্ডিত। ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের নানা দিক থেকে শুরু করে বাংলার আঞ্চলিক ভাষা পর্যন্ত তাঁর আগ্রহের পরিসর বিস্তৃত ছিল। তিনি শিক্ষাবিদ হিসেবেও ছিলেন অনন্য। বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে তাঁর অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। তিনি বলেন, দেশহিতব্রতী শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতো মনীষার প্রাসঙ্গিকতা কখনো ফুরোবার নয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মাহবুবা রহমান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতা
বাংলা একাডেমি আজ ১১ আশ্বিন ১৪২৫/২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান-এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন গবেষক, প্রকাশক নিশাত জাহান রানা। সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অর্থনীতিবিদ এম সাইদুজ্জামান, লেখক মোনায়েম সরকার এবং শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী আরমা দত্ত।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সাহসী অবদানে বাংলা ভাষার আন্দোলন যেমন বেগবান হয় তেমনি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনারও বিকাশ ঘটে।

স্মারক বক্তৃতা প্রদান করে নিশাত জাহান রানা বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সাহস, দেশপ্রেম এবং কর্মপ্রাণতার এক সুমহান দৃষ্টান্ত। পাকিস্তান গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান বাংলা ভাষার ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে দিয়েছিল অসামান্য গতি। শুধু ভাষাবীর নয়, রাজনীতি এবং সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন একজন অনন্য কর্মবীর। সমাজের নি¤œবর্গের মানুষ, অবহেলিত নারী সম্প্রদায় এবং অস্পৃশ্যতার অভিশাপে তিলে তিলে দগ্ধ হওয়া মানুষের প্রতি তিনি তাঁর দায় পালন করে গেছেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রজাহিতৈষী নানান আইন প্রণয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নিবিড়ভাবে। তিনি বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর আত্মকথায় বর্ণনা করেছেন কী করে ধাপে ধাপে অসহযোগ ও স্বদেশী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশ ও জাতির সপক্ষে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বর্বর পাকবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে জীবনদান করে তিনি অনাগত ভবিষ্যতের কাছে দেশপ্রেমের এক অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মতো মানুষকে নিত্য স্মরণে রাখলে কখনোই পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

সভাপতির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন স্থিরলক্ষ মানুষ; নিজের ভাষা- সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং নিজ দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি দায় পূরণ ছিল যাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ। তাঁর সংগ্রামী জীবনের পরিক্রমায় আমরা দেখব সমস্ত বস্তুগত বাসনার ঊর্ধ্বে ওঠে মহৎ-মানবিক বৃত্তির নিরন্তর সাধনা। অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের কাছে আলোকশিখা হয়ে প্রতিভাত হবেন সবসময়।

আগামীকালের অনুষ্ঠান
আগামীকাল ১২ আশ্বিন ১৪২৫/২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ স্মারক বক্তৃতা
বাংলা একাডেমি আজ ১০ আশ্বিন ১৪২৫/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবার্তা সম্পাদক অধ্যাপক এ এন রাশেদা, রামেন্দু মজুমদার এবং আরমা দত্ত।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলনে যুক্ততা এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে অধ্যাপক অজিতকুমার গুহের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

স্মারক বক্তৃতা প্রদান করে কামাল লোহানী বলেন, শিক্ষক হিসেবে অজিতকুমার গুহ নিজের জাগতিক উন্নতিকে কখনো বড় করে দেখেননি বরং শিক্ষার্থীদের আদর্শ জীবন উপহার দেয়াই ছিল তাঁর ব্রত। তাঁর রচনার পরিমাণ সংখ্যাগত বিচারে অপ্রতুল হলেও বাংলা সাহিত্য-সমালোচনায় উচ্চমানের পরিচয়বহ। পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমরা তাঁকে অনায়াসে চিহ্নিত করতে পারি। মহান ভাষা আন্দোলনে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, কারাবরণ করেছেন- কারাগারে গিয়েও বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশের পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, অজিতকুমার গুহ ও তাঁর প্রজন্ম তাঁদের জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাংস্কৃতিক পটভূমি নির্মাণ করে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমার সৌভাগ্য যে আমি অজিতকুমার গুহ-এর ছাত্র ছিলাম। বিদ্যাদানের বাইরেও অজিতকুমার গুহ তাঁর অজস্র শিক্ষার্থীকে রুচিমান হতে শিখিয়েছিলেন, নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনে যেমন তাঁর ভূমিকা রয়েছে তেমনি ঢাকার প্রগতিশীল সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি বজায় ছিল। তিনি বলেন, তাঁর লিখিত রচনার পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয় কিন্তু এর মধ্যেই তীক্ষè সাহিত্যবোধের পরিচয় মুদ্রিত রয়েছে।
আগামীকালের অনুষ্ঠান

আগামীকাল ১১ আশ্বিন ১৪২৫/২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার বিকেল ৪:০০টা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন নিশাত জাহান রানা। সভাপতিত্ব করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা
বাংলা একাডেমি আজ ৯ আশ্বিন ১৪২৫/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব উল আলম চৌধুরীর স্ত্রী লেখক জওশন আরা রহমান, শিল্পী জাহানারা ইসলাম, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা প্রমুখ।
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ভূমিকা ঐতিহাসিক এবং অবিস্মরণীয়। ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা তাঁর কবিতা আজও আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উজ্জীবিত করে।

স্মারক বক্তা অধ্যাপক শিরীণ আখতার বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী আকস্মিকভাবেই একুশের ঘটনার ভেতর জড়িয়ে পড়েননি। দেশবিভাগ পরবর্তী সময়কাল থেকেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির যে অস্তিত্ব সংকট সৃষ্টি হচ্ছিলো তারই অভিঘাতে একজন মাহবুব উল আলম চৌধুরীর আবির্ভাব। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির যে স্ফূরণ তাঁর হৃদয়বন্দর মাতিয়ে রাখতো সেখানে ছিলো দেশ ও জাতির জন্যে ভালোবাসা। তাই যখনই ভাষার প্রশ্নে সংকট তৈরি হয়েছে তখনই তাঁর মুক্তিপিয়াসী মন দেশ ও ভাষার অস্তিত্বের টানে ছুটে এসেছে, সম্পৃক্ত করেছে ঐতিহাসিক মুহুর্তের সাথে। তিনি বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ কবিতাটিতে আবহমান বাংলার রূপছবি ফুটে উঠেছে অসামান্য দক্ষতায়। আবেগের সাথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের যে অচ্ছেদ্যবন্ধন তিনি সুঁনিপুণভাবে গেঁথে দিয়েছেন, তাতে মুন্সিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায়। বক্তা বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী কবিতায় আন্তর্জাতিকতা রয়েছে, শোষিত মানুষের স্বপ্নের কথা রয়েছে, স্বদেশের দুঃসহ সময়ের কথা রয়েছে, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির বার্তা রয়েছে। তাঁর চিন্তাধারার মধ্যে নাজিম হিকমত আর পাবলো নেরুদার বিশেষ মিল রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক কবিতার জন্য খ্যাত হলেও তাঁর অন্যান্য কৃতিত্বও কম নয়। বিশেষত তার সম্পাদিত সীমান্ত পত্রিকা আমাদের সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তাঁর আত্মজীবনী, প্রবন্ধ, নাটক এবং সামগ্রিক জীবনসাধনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, যুক্তিবাদী, প্রগতিশীল সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষা ব্যক্ত হয়েছে।
আগামীকালের অনুষ্ঠান

আগামীকাল ১০ আশ্বিন ১৪২৫/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

 

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান
বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি জগতের চারজন গুণী ব্যক্তি- ভাষাসংগ্রামী শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, ভাষাসংগ্রামী অজিতকুমার গুহ, শিক্ষাবিদ-গবেষক ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মরণে বাংলা একাডেমি আগামী ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ চারদিনব্যাপী স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
আগামীকাল ৯ আশ্বিন ১৪২৫/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাসংগ্রামী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক শিরীণ আখতার। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আগামীকাল ১২ই ভাদ্র ১৪২৫/২৭শে আগস্ট ২০১৮ সোমবার সকাল ৭:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

আগামী ১৫ই ভাদ্র ১৪২৫/৩০শে আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নজরুলকাব্যে মিথিক-ঐতিহ্যিক প্রতিমা : ফিরে দেখা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————————————————————————————

Image may contain: 1 person, smiling, playing a musical instrument and beard

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শিশু-কিশোর বক্তৃতানুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আজ ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫/১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক শিশু-কিশোর বক্তৃতানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, লেখক সুভাষ সিংহ রায়। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি আসাদ চৌধুরী। সুভাষ সিংহ রায় বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আজকের নতুন প্রজন্ম কীভাবে দেখছে, মূল্যায়ন করছে তা অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি কারণ আজকের নবীনেরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আগামী বাংলাদেশ গঠন করবে।

সভাপতির বক্তব্যে আসাদ চৌধুরী বলেন, সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা যেভাবে তাদের অন্তরের ভালোবাসাসহ মূল্যায়ন করছে তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই এক ইতিবাচক বিষয় কারণ এইসব শিশু-কিশোরদের হাতেই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সেমিনার
বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ড. গিয়াসউদ্দিন মোল্যা, কাবেদুল ইসলাম এবং মুহাম্মদ শামসুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিক্রমা সম্পন্ন হয়েছে তেমনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠনেও তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্যা বলেন, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে উচ্চকিত করেছেন। তাঁর সৃষ্ট সাংবিধানিক সুরক্ষার ফলে বাংলার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সবাই এককাতারে দেশ গড়ার জন্য জাতীয় শক্তির বলয় তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর উগ্র বাম ও ডানপন্থি গোষ্ঠী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায়। তারা খুন, রাহাজানি, সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে সংসদীয় সরকারের জন্য এক অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধুকে এসব নেতিবাচক পরিস্থিতির মোকাবেলা করে দেশ গঠনের কাজকে এগিয়ে নিতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে কাবেদুল ইসলাম বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণটি স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণের অনন্য নজির। এর স্বতঃস্ফূর্ততার ভাষিক প্রমাণ এভাবেও প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণ করা চলে যে- যেখানে চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে, লক্ষ লক্ষ উদ্বেল জনতার চাওয়া ও অন্তরালে হায়েনা চরিত্রের শাসকবর্গের রক্তচক্ষুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ১৮-মিনিট ধরে, কম-বেশি সতেরো শত শব্দ উচ্চারণে বক্তা-বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকের উপরে হত্যা করা হয়, তোমাদের উপরে-কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।’ এখানে লক্ষণীয়, ‘লোকের উপর’ ও বিশেষত ‘উপরে-কাছে’ শব্দবন্ধ। এছাড়া পুনরুক্তি রয়েছে দু’তিনটি স্থানে, সেটিও মূলত তাঁর বক্তব্যে জোর বা দৃঢ়তা সৃষ্টির লক্ষ্যে। যেমন, ‘গরিবের যাতে কষ্ট না হয়’, ‘কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না’, ‘কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবনে না’ এবং বিশেষ করে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। কাজেই নিঃসন্দেহে বলা যায় পুরো ভাষণটিই প্রায় শতভাগ সুনিপুণ বাক্-সমৃদ্ধ, সুঅভিব্যক্ত ও লক্ষ্য-নির্দিষ্ট।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : প্রচার পায়নি প্রতিবাদের ভাষা শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মুহাম্মদ শামসুল হক বলেন, দেশের কেন্দ্রের বাইরে প্রান্তীয় অঞ্চলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সাহসী তৎপরতা পরিচালিত হয়েছিল কিন্তু কায়েমি স্বার্থবাদীদের কারণে তার যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একাধারে অসাধারণ রাজনীতিবিদ, দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক, খাঁটি বাঙালি এবং একজন পরিপূর্ণ মানুষ। বঙ্গবন্ধুর পূর্বেও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুসহ অনেকেই বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন কিন্তু তাকে বাস্তবে রাষ্ট্রনৈতিক রূপ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুই। মুক্তিযুদ্ধ নামক মহাকাব্যের রচয়িতা বঙ্গবন্ধু আবার স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি তিনি যে সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রয়াস চালিয়েছেন তাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ তেমনি তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে বিচিত্র সব অপশক্তির বিরুদ্ধে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর ভাবনার কেন্দ্র জুড়ে ছিল বাংলার মাটি ও মানুষের মুক্তি এবং সমৃদ্ধি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস

দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামীকাল ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫/১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক শিশু-কিশোর বক্তৃতানুষ্ঠান। এতে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, লেখক সুভাষ সিংহ রায়। সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট কবি আসাদ চৌধুরী।

বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্যা, কাবেদুল ইসলাম এবং মুহাম্মদ শামসুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………………

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Image may contain: 8 people, people smiling, people standing

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।

কর্মসূচির প্রথম দিন আজ ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫/১২ আগস্ট ২০১৮ রবিবার বিকেল ৫:০০টায় বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। (প্রদর্শনী চলবে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত)। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম বিষয়ে দেশ-বিদেশের লেখকদের চারশতাধিক বই ও সংকলন স্থান পায়। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বিকেল ৫:১৫টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বক্তৃতা প্রদান করেন কবি কামাল চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু রচিত কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন এস. এম. মহসীন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য ও সমার্থক শব্দ-প্রায়। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড এবং লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছি। আজও তাঁরই প্রেরণায় আমরা এগিয়ে চলেছি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে।

বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করে কবি কামাল চৌধুরী বলেন, ভাষা আন্দোলনের কূলপল্লী স্রোত বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয় এবং এই পর্বে মূল নেতা হিসাবে আবির্ভূত হন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ একত্র হয়ে এক অখণ্ড বাঙালি জাতিতে পরিণত হয়েছিল। এভাবেই সংগ্রাম ও আন্দোলনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত করে একটি সংগ্রামমুখি সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের ইতিহাসের প্রথম বাঙালি যাঁর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্য, বাঙালি জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় অবয়বে। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আগে অনেকেই দেখেছেন কিন্তু বাস্তবায়ন ঘটেছে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে। বিশ্বব্যবস্থার বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের অভিবাসনের ইতিহাস আমরা জানি। একই ভাষাভাষীর মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে। বাঙালিরও একটি বৃহৎ অংশ এখন ভারত রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও অনেক বাঙালির বসবাস। বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। বঙ্গবন্ধু এ কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলেই তিনি বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের জনক। একক বক্তা বলেন, সংগ্রাম ও আন্দোলনের সুদীর্ঘ যাত্রায় বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নিয়েছিল তাদের একজন হিসেবে, বাঙালির ইতিহাসের প্রধান নায়ক হিসেবে। বাঙালির জাগরণের চূড়ান্তপর্বে জাতি ও তাঁর নাম সমার্থক হয়ে উঠেছিল। আজও বাঙালি এবং তাঁর পরিচয় সমার্থক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের প্রাত্যহিকতায় মিশে আছেনÑ মিশে থাকবেন জাতির অগ্রযাত্রার প্রতিটি অনুভবেÑ সাহস, শক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে।

সভাপতির বক্তব্যে একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি এবং জয়লাভ করেছি। যত চেষ্টাই হোক না কেন বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বস্তুত বঙ্গবন্ধুর জীবন ও বাংলাদেশ একাকার হয়ে গেছে। জীবদ্দশায় তিনি যেমন আমাদের সংগ্রাম ও সংকল্পে প্রতীক ছিলেন, মৃত্যুর এত বছর পরও তিনি তাঁর সেই স্থানেই স্বমহিমায় বিরাজিত রয়েছেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক সায়েরা হাবীব।

…………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির প্রথম দিন আজ ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫/১২ আগস্ট ২০১৮ রবিবার বিকেল ৫:০০টায় বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে (প্রদর্শনী চলবে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত)। প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বিকেল ৫:১৫টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক একক বকতৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বকতৃতা প্রদান করবেন কবি কামাল চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু রচিত কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে পাঠ করবেন এস. এম. মহসীন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি চারদিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আগামী ২৮ শ্রাবণ ১৪২৫/১২ আগস্ট ২০১৮ রবিবার বিকেল ৫:০০টায় বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গ্রন্থ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে (প্রদর্শনী চলবে ১২ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত)। প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বিকেল ৫:১৫টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বাঙালির বঙ্গবন্ধু শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বক্তৃতা প্রদান করবেন কবি কামাল চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু রচিত কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে পাঠ করবেন এস. এম. মহসীন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

…………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আগামীকাল ২২শে শ্রাবণ ১৪২৫/৬ই আগস্ট ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আজকের বিশ্বে রবীন্দ্রসৃজনের প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করবেন নাট্যজন আতাউর রহমান। সাংস্কৃতিক পর্বে ওই পোহাইল তিমির রাতি শীর্ষক গীতিনৃত্যালেখ্য পরিবেশন করবে- শুদ্ধ সঙ্গীত চর্চা কেন্দ্র- রক্তকরবী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৩৩তম জন্মবার্ষিকী

বাংলা একাডেমি আজ ২৭ আষাঢ় ১৪২৫/১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বহুভাষাবিদ, গবেষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র ১৩৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভাষানীতি ও ভাষাপরিকল্পনা-ভাবনা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ পৌত্রী কবি শান্তা মারিয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মানজার চৌধুরী সুইট, আবৃত্তিশিল্পী লায়লা আফরোজ প্রমুখ।
স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাঙালিত্বের বীজ রোপন ও বিকাশে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আমৃত্যু লড়াই আমাদের অনন্ত প্রেরণার উৎস।

একক বক্তা অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। কিন্তু অন্যান্য পেশার চেয়ে শিক্ষকতাকেই তিনি শ্রেয়তম পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং অবশিষ্ট জীবনে সেই পরিচয়কেই মহিমান্বিত করেছেন। বলা যায়, নিরলস শ্রম ও অপার অধ্যবসায়ই তাঁকে ‘জ্ঞানতাপস’ এবং সমকালীন বিদ্বৎসমাজের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিতে রূপান্তরিত করেছে। তাঁর চিন্তাজগৎ ও সৃষ্টিকর্ম আমাদের সমৃদ্ধ করে, তাঁর রচনা আমাদের আত্ম-আবিষ্কারে প্রণোদিত করে। তিনি বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচনাসম্ভার বিষয়-বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ- গবেষণামূলক প্রবন্ধ, সৃষ্টিশীল রচনা, অনুবাদকর্ম, শিশুতোষ রচনা, পাঠ্যবই প্রণয়ন, অভিধান সংকলন-সর্বত্রই তাঁর সাফল্য ও সার্থকতা অপার। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে উদ্ভূত বিতর্কে তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বাংলার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন- এটা তাঁর জন্য কেবল আবেগের বিষয় ছিল না বরং ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবেও তিনি মনে করতেন মাতৃভাষার মর্যাদা যে কোনো নাগরিকের কাছে প্রথম ও প্রধান। তাঁর ভাষাভাবনা ও নানামুখী চিন্তার স্মারক তাঁর অভিভাষণগুচ্ছ। একক বক্তা বলেন, আমরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিসহ জাতীয় জীবনের যেকোনো সংকটে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি; লাভ করতে পারি অনিবার্য নির্দেশনা।

সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একজন প্রণম্য ভাষাবিদই ; একই সঙ্গে তিনি বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তীদেরও একজন। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বিষয়ে যেমন তিনি তাঁর জোরাল অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তেমনি বাংলা হরফ পরিবর্তনসহ পাকিস্তান সরকারের নানা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আগামীকাল ১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার সকাল ১০:০০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে
বাংলা ভাষা অঞ্চলের জন্য বাংলা ইউনিকোড লিপি উন্নয়নে New Brahmi Generation Panel (NBGP)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের গবেষকদের দিনব্যাপী এক পারস্পরিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সভায় অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার, অধ্যাপক ড. উদয় নারায়ণ সিংহ, সমীরণ গুপ্ত, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান খান এবং থাইল্যান্ডের পিটিনান কুয়ারমর্নপাতানাসহ বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করবেন বিষয়সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

ভাষাসংগ্রামী ও শিশুসাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে
শোকবাণী

ভাষাসংগ্রামী, শিশুসাহিত্যিক, বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করছে। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যে কয়জন অসমসাহসী নারী অংশ নিয়েছেন, পুরোভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে হালিমা খাতুন অন্যতম। বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে অনন্য অবদান রেখেছেন হালিমা খাতুন। তাঁর সোনাপুতুলের বিয়ে, হরিণের চশমা, কুমিরের বাপের শ্রাদ্ধ’সহ বেশ কিছু শিশুসাহিত্যের গ্রন্থ ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। শিশু-কিশোরদের শিক্ষামূলক নানা বইয়ের লেখক, অনুবাদক এবং সম্পাদকও তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা-সূত্রে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সঞ্চার করেছেন নীতিনিষ্ঠ জীবনের প্রেরণা।

হালিমা খাতুন শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। একাডেমি প্রকাশ করেছে তাঁর একাধিক গ্রন্থ।

ভাষাসংগ্রামী এবং শিশুসাহিত্যিক ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।

শামসুজ্জামান খান
মহাপরিচালক

—————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বাংলা একাডেমি ও নেপাল একাডেমি প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

আজ ২৮শে জুন ২০১৮ সকাল ১১:৩০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে
বাংলা একাডেমি এবং নেপাল একাডেমির মধ্যে দুই দেশের সাহিত্য এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কবি রুবী রহমান, অধ্যাপক ফকরুল আলম, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, কবি আসলাম সানী এবং বাংলা একাডেমির পরিচালকবৃন্দ। নেপাল একাডেমির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক দীনেশ রাজ পান্ট, অধ্যাপক জীবেন্দ্র দেও গিরি, ধ্রুব গোপাল মাধিকারমী, হরিপ্রসাদ তিমিলসিনা, কবি সুরেন্দ্র কাজী সিন্দুরাকার, লেখক শশী লুমুমৌ এবং কবি নর্মদেশ্বরী সাত্যাল।

সভায় স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। দুই দেশের সাহিত্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেন আলোচকবৃন্দ। নেপালী ভাষায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন হরিপ্রসাদ তিমিলসিনা, কবি সুরেন্দ্র কাজী সিন্দুরাকার, লেখক শশী লুমুমৌ এবং কবি নর্মদেশ্বরী সাত্যাল। বাংলা ভাষায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন রুবী রহমান ও আসলাম সানী। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৯শে জুন বাংলা একাডেমি, ঢাকায় বাংলা একাডেমি ও নেপাল একাডেমির মধ্যে দুই দেশের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-দর্শন ও সামাজিক বিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে নানামাত্রিক গবেষণা, শিক্ষা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯-তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আগামীকাল ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫/২৪ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার সকাল ১১:০০টায় একাডেমির
কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল বিষয়ক একক বক্তৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলগীতি পরিবেশন করবেন শিল্পী লীনা তাপসী খান।

আগামী ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫/২৫ মে ২০১৮ শুক্রবার সকাল ৮:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

……………………………………………………………………………………………………………………………………….

https://www.facebook.com/pg/banglaacademy.org.bd1955/posts/?ref=page_internal

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে নাগরিক শোকসভা

বাংলা একাডেমির ফেলো এবং সাবেক মহাপরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি আজ ৩১ বৈশাখ ১৪২৫/১৪ মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪-৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করে। শুরুতেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রবীন্দ্রসংগীত নিবেদন করেন শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী। মুস্তাফা নূরউল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শোকসভায় তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা এবং স্মৃতিচারণায় অংশ নেন ভাষাসংগ্রামী প্রতিভা মুৎসুদ্দী, ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কবি আজিজুর রহমান আজিজ, রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির সভাপতি ড. আবুল আজাদ, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ছাত্র বাংলা একাডেমির পরিচালক মোবারক হোসেন, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ভগ্নী শামীম শবনম দীপ্তি, জ্যেষ্ঠপুত্র মুস্তাফা কায়েস ইমন। শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর কন্যা নন্দিতা ইয়াসমিন, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বিশ্বজিৎ সাহা-সহ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বক্তারা বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের এক অগ্রণী মানুষ, কালের সাক্ষী। তিনি ছিলেন বাংলা ও বাঙালিত্বের পূঁজারী। সাময়িকপত্র গবেষণা, নজরুল গবেষণা এবং বাঙালি মুসলিম-মানসের আধুনিকায়ন বিষয়ে তাঁর গবেষণাকর্ম আমাদের সাহিত্যক্ষেত্রে যোগ করেছে বুদ্ধিবৃত্তিকতার নবতর মাত্রা। অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম কয়েক প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের কাছে একজন প্রিয় ও সফল শিক্ষকের নাম। ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে তিনি প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে সকল স্বজনকে তিনি সৎ জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁরা বলেন, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের জীবন কেবল সময়ের দিক থেকে দীর্ঘ নয়; উল্লেখযোগ্য কর্মের অর্জনেও বিশিষ্ট। তরুণ বয়সে তিনি এবং তাঁর সমসাময়িক লেখক বন্ধুরা অগত্যা পত্রিকার মাধ্যমে সমকালীন নানা অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে বিদ্ধ করেছেন তেমনি পরবর্তীকালে পূর্বমেঘ এবং সুন্দরম পত্রিকা সম্পাদনার মধ্য দিয়ে সাময়িকপত্র সম্পাদনায় তাঁর দক্ষতার নিদর্শন রেখে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মুস্তাফা নূরউল ইসলামের জীবন বর্ণাঢ্য। তিনি শিক্ষকতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সাময়িকপত্র সম্পাদনা, গবেষণা এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি এক সময়ে নাট্যান্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল অসাধারণ রসবোধের গুণ। এদেশের প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় মুস্তাফা নূরউল ইসলামের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

……………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে শোকসভা

বাংলা একাডেমির ফেলো এবং সাবেক মহাপরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি আগামীকাল ৩১ বৈশাখ ১৪২৫/১৪ মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪-৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে নাগরিক শোকসভার আয়োজন করেছে। শোকসভায় তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা এবং স্মৃতিচারণায় অংশ নেবেন পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিবর্গ। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

 ………………………………………………………………………………………………………………………….

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে
বাংলা একাডেমির শোকবাণী

বরেণ্য বুদ্ধিজীবী-শিক্ষাবিদ, জাতীয় অধ্যাপক, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম গতকাল ৯ মে ২০১৮ প্রয়াত হয়েছেন।

মহান ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের এক অগ্রণী যোদ্ধা। বাংলা ও বাঙালিত্বের পক্ষে তিনি চিরকাল আপোষহীন। সাময়িকপত্র গবেষণা, নজরুল গবেষণা এবং বাঙালি মুসলিম- মানসের আধুনিকায়ন বিষয়ে তাঁর গবেষণাকর্ম আমাদের সাহিত্যক্ষেত্রে যোগ করেছে বুদ্ধিবৃত্তিকতার নবতর মাত্রা। অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম কয়েক প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের কাছে একজন প্রিয় ও সফল শিক্ষকের নাম। তরুণ বয়সে তিনি এবং তাঁর সমসাময়িক লেখক বন্ধুরা অগত্যা পত্রিকার মাধ্যমে সমকালীন নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং একই সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সারা জীবন লেখনী, পত্রিকা সম্পাদনা এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যেভাবে বাংলা ও বাঙালিত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তা আমাদের সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনে নিজের গবেষণা-কাজের পাশাপাশি শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে যেমন সাফল্যের পরিচয় রেখেছেন তেমনি সামগ্রিকভাবে আমাদের সাহিত্যরুচি নির্মাণেও রেখেছেন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা। মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ১৯৭৫-১৯৭৬ কালপর্বে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।

১৪ মে ২০১৮ মুস্তাফা নূরউল ইসলাম স্মরণে শোকসভা
বাংলা একাডেমি আগামী ১৪ মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৪:৩০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে মুস্তাফা নূরউল ইসলাম স্মরণে শোকসভার আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

শামসুজ্জামান খান
মহাপরিচালক

…………………………………………………………………………………………………………………………………………

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭-তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামী ২৪শে বৈশাখ ১৪২৫/০৭ই মে ২০১৮ সোমবার বিকেল ৫:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একক বকতৃতা, রবীন্দ্র পুরস্কার-২০১৮ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে উপনিবেশিত বাংলা শীর্ষক বকতৃতা প্রদান করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

রবীন্দ্র পুরস্কার ২০১৮ ঘোষণা
রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনাব আবুল মোমেন এবং রবীন্দ্রসংগীত চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী-কে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত রবীন্দ্র পুরস্কার- ২০১৮ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ইতিপূর্বে যাঁরা এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন-
শিল্পী কলিম শরাফী এবং অধ্যাপক ড. সনজীদা খাতুন (২০১০) ; জনাব আহমদ রফিক এবং শিল্পী অজিত রায় (২০১১) ; অধ্যাপক আনিসুর রহমান, শিল্পী ফাহমিদা খাতুন এবং শিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ান (২০১২) ; অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী এবং শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার (২০১৩) ; জনাব মনজুরে মওলা এবং শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (২০১৪) ; অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা এবং সাদী মহম্মদ (২০১৫); সৈয়দ আকরম হোসেন এবং শিল্পী তপন মাহমুদ (২০১৬) অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ এবং মিতা হক (২০১৭)।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
পঞ্চম ফোকলোর সামার স্কুলের সমাপনী অনুষ্ঠান

বাংলা একাডেমি আজ ৪ বৈশাখ ১৪২৫/১৭ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘পঞ্চম ফোকলোর সামার স্কুল’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ফোকলোর কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি। সমাপনী ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আন্তর্জাতিক ফোকলোর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারতের বিশ্বখ্যাত ফোকলোরবিদ অধ্যাপক জওহরলাল হাণ্ড ‍ু, ড. অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায়, ড. সুখবিলাশ বর্মা, ড. শেখ মকবুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যের জেনিফার রিড। পঞ্চম ফোকলোর সামার স্কুলের সমন্বয়কের বক্তব্য প্রদান করেন ড. ফিরোজ মাহমুদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগের পরিচালক শাহিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এবারের কর্মশালার প্রতিপাদ্য ছিল এথনোমিউজিকোলজি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, ফোকলোর কেবল মৃত ঐতিহ্য নয় বরং বৃহত্তর জনমানুষের রূপান্তরশীল জীবন-সংস্কৃতির ধারক। বাংলা একাডেমি আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফোকলোর কর্মশালা ফোকলোর বিষয়ে আমাদের নতুন ধারণা প্রদান করেবে। ফোকলোর যেমন আমাদের গর্বিত-সমৃদ্ধ শেকড়ের সন্ধান দেবে তেমনি ইহজাগতিক-ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির বিকাশে যোগাবে বিশেষ প্রণোদনা। তিনি বলেন, লোকসংস্কৃতি থেকে আহরিত শক্তিই আমাদের যুগে যুগে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এই অদম্য লৌকিক বাঙালির মর্মমূল বুঝতে হলে ফোকলোরকে বিশেষভাবে অনুধাবন করতে হবে।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাংলা একাডেমি ১৯৮৫ সাল থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক-আধুনিক ফোকলোরচর্চা করে আসছে। একাডেমির সুদীর্ঘ তিন দশকের অধিককালের ফোকলোর চর্চায় সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া ‘ফোকলোর সামার স্কুল’ যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

আন্তর্জাতিক ফোকলোর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারতের বিশ্বখ্যাত ফোকলোরবিদ অধ্যাপক জওহরলাল হাণ্ড ‍ু, ড. অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায়, ড. সুখবিলাশ বর্মা, ড. শেখ মকবুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যের জেনিফার রিড। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের প্রেক্ষিতেই ফোকলোরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সমাজ-সংস্কৃতি ফোকলোরকে নিবিড়ভাবে ধারণ করে আছে। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফোকলোর বিভাগ চালু করা প্রয়োজন। কারণ ফোকলোর আমাদের স্থানিকতা, আন্তর্জাতিকতা, ধর্মনিরপেক্ষাতা, পরিগ্রহণ ক্ষমতা ইত্যাদির সমন্বিত শিক্ষা প্রদান করে।

প্রশিক্ষানার্থীদের পক্ষে নূরনবী শান্ত বলেন, বাংলা একাডেমির এই সামার স্কুল ভবিষ্যতের ফোকলোর গবেষকদের বিকাশে বিশেষ অবদান রাখবে।

ড. ফিরোজ মাহমুদ বলেন, বিপুল সামাজিক ও প্রাযুক্তিক পরিবর্তন ফোকলোরকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে তার সূত্রসন্ধানে বাংলা একাডেমির ফোকলোর প্রয়াস গবেষকদের সহায়তা করবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একটি জাতিকে জানতে যেমন তার লোকসংস্কৃতিকে জানতে হয় তেমনি লোকসংস্কৃতিকে জানতে সে জাতির লোকগীতির পরিচিতি লাভ আবশ্যক। বাংলা একাডেমির এই ফোকলোর কর্মশালা লোকগীতির সঙ্গে মানবজীবনের সম্পর্ক অনুধাবনে গবেষকদের নিকট সহায়ক হবে নিঃসন্দেহে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শাহিদা খাতুন বলেন, সকলের সহযোগিতায় বাংলা একাডেমি পঞ্চমবারের মতো ফোকলোর বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক কর্মশালা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছে। এই কর্মসূচি বাংলাদেশের ফোকলোরকে আন্তর্জাতিক বিদ্যাজগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ২২ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সভাপতি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
নববর্ষ বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আজ ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার সকাল ৭:৩০টায় একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বর্ষবরণ, একক বক্তৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নববর্ষ বক্তৃতা প্রদান করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। সভাপতিত্ব করেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক।

বক্তারা বলেন, নববর্ষের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-মানবিক চেতনা ধারণের মাধ্যমে আমরা প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধশালী জাতিরাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। নববর্ষের মানবমুখী চেতনাই পারে সকল ধরনের মৌলবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে। তাঁরা বলেন, বাংলা নববর্ষ উৎসব বাঙালির বৃহত্তর জাতীয় উৎসবের নাম। সাম্প্রতিক সময়ে নববর্ষের অন্যতম ঐতিহ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে বাংলা নববর্ষ উৎসবেরও আন্তর্জাতিকীকরণ ঘটেছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বর্ষবরণ সংগীত পরিবেশন করেন অধ্যাপক কৃষ্টি হেফাজের পরিচালনায় ‘সরকারি সংগীত কলেজ’-এর শিল্পীবৃন্দ-গোলাম মোস্তফা, ফারজানা খাতুন, মো. এরফান হোসেন, শান্তা সরকার, অভিলাষ দাস, রাবেয়া আক্তার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেণু চক্রবর্তী (তবলা), মোঃ ফায়জুর রহমান (বাঁশি), মো. আজিজুর রহমান (কী-বোর্ড) মো. দেলোয়ার হোসেন (দোতারা) এবং এস. এম. রেজা বাবু (বাংলা ঢোল)।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমির বইয়ের আড়ং
বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের আড়ং শুরু হয়। ১লা বৈশাখ থেকে ১০ই বৈশাখ পর্যন্ত বইয়ের আড়ং চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত আড়ং খোলা থাকবে।

১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে ১-১০ বৈশাখ ১৪২৫ (১৪-২৩ এপ্রিল ২০১৮) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার বিকেল ৪:০০টায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহঃ ইফতিখার। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। প্রতি সন্ধ্যায় মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বরণ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
৫ম ফোকলোর সামার স্কুল

বাংলা নববর্ষ ১৪২৫-এর প্রাক্কালে আগামীকাল চৈত্র সংক্রান্তি ১৪২৪/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলা একাডেমি পরিচালিত ‘ফোকলোর সামার স্কুল’-এর ৫ দিনব্যাপী (১৩-১৭ এপ্রিল ২০১৮) ৫ম বার্ষিক কর্মশালা। এবারের সামার স্কুলের মূল প্রতিপাদ্য এথনো মিউজোকলজি। এই সামার স্কুলে ২০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে যুক্তরাজ্যের জেনিফার রিড, ভারতের ড. সুখবিলাশ বর্মা, ড. শেখ মকবুল ইসলাম, ড. অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক জওহরলাল হান্ড ুসহ বাংলাদেশের বিশিষ্ট ফোকলোরবিদগণ ফোকলোর বিষয়ে তত্ত্বীয় ও প্রায়োগিক ধারণা প্রদান করবেন।

নববর্ষ বকতৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
আগামী ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার সকাল ৭:৩০টায় একাডেমির রবীন্দ্র-চত্বরে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ, একক বকতৃতা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নববর্ষ বকতৃতা প্রদান করবেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। সভাপতিত্ব করবেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। এছাড়া রয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বইয়ের আড়ং
বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগামীকাল একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের আড়ং শুরু হবে। ১লা বৈশাখ থেকে ১০ই বৈশাখ পর্যন্ত বইয়ের আড়ং অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বেলা ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত আড়ং খোলা থাকবে।

১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে ১-১০ বৈশাখ ১৪২৫ (১৪-২৩ এপ্রিল ২০১৮) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১লা বৈশাখ ১৪২৫/১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার বিকেল ৪:০০টায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করবেন বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহঃ ইফতিখার। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। প্রতি সন্ধ্যায় মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক

………………………………………………………………………………………………………………………………………….

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সন্জীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

বাংলা একাডেমি আগামীকাল ২০শে চৈত্র ১৪২৪/৩রা এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪.৩০টায় সংস্কৃতিসাধক সনজীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপিসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থাকবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করবেন।

(শামসুজ্জামান খান)
মহাপরিচালক

———————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্ যাপন এবং গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠান
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৮ উদ্ যাপন এবং ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত হত্যাযজ্ঞে শহিদ স্মরণে গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।

আজ ১১ই চৈত্র ১৪২৪/২৫শে মার্চ ২০১৮ রবিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। ২৫শে মার্চের পাকিস্তানি গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক
ড. মো. মশিউর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন এবং ফিরোজ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশকে বেদনার সঙ্গে গণহত্যা দিবস পালন করতে হয়। আমরা আশা করি বিশ্ব সম্প্রদায় ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করবে।

প্রাবন্ধিক বলেন, ২৫শে মার্চ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে সমূলে ধ্বংস বা নির্মূল করার অভিপ্রায়ে সামরিক বাহিনী চেয়েছিল সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে। একই সঙ্গে হত্যাযজ্ঞের মতো চরম ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক আন্দোলন নসাৎ করতে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি পৃথিবীর মানচিত্রে একটি জাতীয়তাবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ, মানবিক এবং আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার নবতর সংযোজন। এ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই থেকেই বিশ্বব্যাপী শোষিত বঞ্চিত মানুষের স্ব-পক্ষের এক লড়াকু নেতা। ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ যখন ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃত হয় তখন বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় আগামী দিনের আরো আধুনিক ও অগ্রসর বিশ্ব বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, মুক্তিযুদ্ধে মানুষের আত্মোৎসর্গ করা এবং বাঙালির ঐক্যবদ্ধ অপরূপ শক্তিমত্তার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের শিক্ষার কাছে ফিরে আসবে। প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশ আজ ভীষণভাবে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত একটি আত্মমর্যাদাবান জাতি-রাষ্ট্র। এবারের গণহত্যা দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যাশা-আমাদের সামনের পথচলা পরিপূর্ণভাবেই যেন বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অহর্নিশ বহমান থাকে।

আলোচকদ্বয় বলেন, বাঙালি দূর্বল এবং হীনবল বলে সুঅতীতকাল থেকে যে প্রচারণা চলে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা তা ভুল প্রমাণ করেছি। নানা আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ৪৮-এ সূচিত ভাষা আন্দোলন ৫২-তে পরিণতি পায়। তারপর ন্যায্য দাবির নানান আন্দোলন একাত্তরে এসে মুক্তির মোহনায় মিলিত হয়। তারা বলেন, বস্তুত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের পরেই স্বাধীনতার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। তারপর ২৫শে মার্চ বর্বর গণহত্যার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। তবে গণহত্যাতেই শেষ হয়ে যায়নি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ; নতুন প্রেরণায় ন’মাসের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জন করে স্বপ্নের স্বাধীনতা।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একাত্তরে পাকবাহিনী যে গণহত্যা যজ্ঞ চালিয়েছে আমরা তার দলিলপত্র প্রণয়ন করতে পেরেছি, যুদ্ধপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন করতে পেরেছিÑ এটা আমাদের সাফল্য। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শের রাষ্ট্র গঠনের পথে আমাদের অনেক দূর যাওয়ার আছে। তিনি বলেন, একাত্তরে বাঙালি অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল; আমরা আশা করি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাময় বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হবে।

২৬শে মার্চ ২০১৮ ॥ সোমবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি
আগামীকাল ২৬ মার্চ ২০১৭ সোমবার সকাল ৮:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবসের কর্মসূচি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবস উদ্ যাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ৩রা চৈত্র ১৪২৪/১৭ই মার্চ ২০১৮ শনিবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকাল ৭:০০টায় ধানমণ্ডির ৩২নং সড়কে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো
সকাল ১১:০০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো শীর্ষক শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনান তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, অধ্যাপক মেরিনা জাহান এবং শমী কায়সার। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়।

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক একক বক্তৃতানুষ্ঠান
বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : শোষিত-বঞ্চিত মানুষের নেতা শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির সচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। একক বকতৃতা প্রদান করেন কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই একটা দিনে উদযাপন করলেও তাঁকে আমরা প্রতিদিনই স্মরণ করি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তাঁকে স্মরণের ভেতর দিয়ে আমরা নিজেরাও সত্য ও ন্যায়ের পথে উজ্জীবিত হই।

একক বক্তার বক্তব্যে কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনিই এই জাতির জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু কাজ করেছেন। তাঁর মমত্ববোধ ও মানবিকতা সকলের আদর্শ হয়ে উঠলেই তাঁর প্রতি আমাদের যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, গণমানুষের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে। তাঁর জন্ম সম্ভ্রান্ত পরিবারে হলেও তাঁর মানসকাঠামো গড়ে উঠেছিল সমাজের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কাজ করার নিবেদন থেকে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবসের কর্মসূচি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবস উদ্ যাপন উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামী ৩রা চৈত্র ১৪২৪/১৭ই মার্চ ২০১৮ শনিবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ১৭ই মার্চ সকাল ৭:০০টায় ধানমণ্ডির ৩২নং সড়কে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে একাডেমির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো
সকাল ১১:০০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো’ শীর্ষক শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিশু-কিশোরদের বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনাবেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, অধ্যাপক মেরিনা জাহান, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী এবং ডা. আব্দুন নূর তুষার । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়।

বঙ্গবন্ধু বিষয়ক একক বকতৃতানুষ্ঠান
বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : লাঞ্ছিত ভাগ্যহত মানুষের নেতা শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠান। একক বক্তৃতা প্রদান করবেন কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————-

 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ২২ ফাল্গুন ১৪২৪/৬ই মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো-স্বীকৃতি ও এর তাৎপর্য শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্যপ্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ফেরদোসী প্রিয়ভাষিণীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সভার পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য-অসাধারণ ভাষণ। বঙ্গবন্ধু যে পরিস্থিতির মধ্যে এই ভাষণ দিয়েছেন সেটি বিবেচনায় পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ভাষণ দ্বিতীয়টি নেই। এই কৌশলময় ভাষণ কেবল মানবিক আবেদনের জন্য নয়, শৈল্পিক কারণেও উল্লেখযোগ্য।
একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু অতি কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা হিসেবে বিশ্বে চিহ্নিত হতে চাননি। তিনি চেয়েছেন মাইনরিটি হিসেবে পাকিস্তান নিজে থেকে বিচ্ছিন্ন হোক, সেই পরিস্থিতিটা তিনি কৌশলে সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু কেবল একটি স্বাধীন জাতির স্বপ্ন উল্লেখ করেই থেমে যাননি; তিনি সেই স্বাধীনতা অর্জনের সমস্ত উপায়ও বলে দিয়েছেন। তিনি কৌশলে স্বাধীনতার কথা বলে আলোচনার পথও খোলা রেখেছেন। এখানেই তাঁর নেতৃত্বের বিচক্ষণতা। তিনি আমৃত্যু গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করে গেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনি যাতে নিরস্ত্র বাঙালির উপর প্রতিশোধমূলক আচরণ না করতে পারে, সেই জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন। ইউনেস্কো-স্বীকৃতি আমাদের গর্বিত করেছে। এই ভাষণ যেন আগামী প্রজন্ম শোনে এবং হৃদয়াঙ্গম করতে পারে সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

———————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণের বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আগামীকাল ২২ ফাল্গুন ১৪২৪/৬ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো-স্বীকৃতি ও এর তাৎপর্য শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে একক বক্তৃতা প্রদান করবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————————————————–

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৫৫টি এবং এই পর্যন্ত (১-২৮) নতুন বই এসেছে ৪৫৯১টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বাংলদেশের নৃগোষ্ঠী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাহমান নাসির উদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং রণজিত সিংহ। সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার উপাচার্য অধ্যাপক রাশিদ আসকারী।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীরা সাংস্কৃতিকভাবে যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বহন করেন তা আমাদের মূল ধারার সংস্কৃতিরই অংশ। তাদের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতিকে ঋদ্ধ করে। রাষ্ট্রের কর্তব্য তাদের ভাষা-সংস্কৃতির অধিকার সুরক্ষা এবং সার্বিক বিকাশের ব্যবস্থা করা।

সভাপতির বক্তব্যে রাশিদ আসকারী বলেন, নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নতকরণ যেমন জরুরি তেমনি তাঁদের আদি ভাষা-সংস্কৃতি ইত্যাদি সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানও আমাদের দায়িত্ব।

 গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮’-এর সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

 স্বাগত ভাষণ প্রদান করে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, এবারের মেলা সার্বিক অর্থেই সর্বাঙ্গসুন্দর একটি মেলা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক জাগরণ যে বেগবান হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ড. জালাল আহমেদ বলেন, গতকাল ২৭শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ২৪ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে। ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আজকের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায় যে, এবার বইমেলায় মোট ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে।

 প্রধান অতিথির আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, বইমেলা সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি যে সঠিক ছিল তা এবারের মেলাতেও প্রমাণিত হয়েছে। এ বছরেরর ভুলত্রুটিগুলো হয়তো আগামী মেলায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা পৃথিবীর অন্যতম বইমেলা। প্রযুক্তির এই যুগে পাঠক যে বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি এটা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক।

 সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষাস্তরে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক কম প্রকাশিত হয়। এ ধরনের বই আরও প্রকাশিত হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এবারের গ্রন্থমেলায় শিশু ও অভিভাবকসহ প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

 গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

 ২০১৭ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য অলকানন্দা প্যাটেল রচিত ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, সুফি মুস্তাফিজুর রহমান রচিত ‘বাংলাদেশের প্রত্নত্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স, মঈন আহমেদ সম্পাদিত ‘মিনি বিশ্বকোষ পাখি’ গ্রন্থের জন্য সময় প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ এবং ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কথাপ্রকাশ-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল প্রকাশককে ২৫,০০০.০০ টাকার চেক, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ফারভীন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশী) শেখ জালালউদ্দিন (দোতারা), এস.এম. রেজা বাবু (ঢোলক) ও দৌলতুর রহমান (কী-বোর্ড)।

 অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৫ ফাল্গুন ১৪২৪ মঙ্গলবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২০২টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনার মান উন্নয়নের সমস্যা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খান মাহবুব। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বদিউদ্দিন নাজির, রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং মোস্তফা সেলিম। সভাপতিত্ব করেন ফজলে রাব্বি।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে ‘প্রাণের মেলা’, ‘বাঙালির মিলনমেলা’ প্রভৃতি অভিধায় অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থমেলা বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক মিলন কেন্দ্র। বাংলা একাডেমি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে অমর একুশের গ্রন্থমেলার আয়োজক হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে। মূলত বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণের সূত্রপাত ঘটেছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা দীর্ঘদিনের জনদাবিকে পূরণ করে বর্ধিত কলেবরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত হচ্ছে। গ্রন্থমেলা আয়োজন ও আঙ্গিক নিয়ে নানা মত আছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের গৌরবের বিষয়। তিনি বলেন, আমাদের সৃজনশীল বইয়ের মান মোটেও কাক্সিক্ষত নয়। বাংলা বইয়ের সম্পাদনা ও সংশোধন পর্বে একটা বড় সমস্যা হলো আমাদের এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ জনবল নেই। প্রকাশনার মান উন্নয়ন বড় অন্তরায় হলো সৃজনশীল প্রকাশনার সংকুচিত বাজার।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বইমেলাকে নান্দনিকভাবে সাজাতে হবে। প্রকাশকদের উচিত পাঠকদের মতামত সংগ্রহ করা এবং ভাল পাঠক মনোনীত করে পুরস্কৃত করা। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রচুর বই প্রকাশিত হচ্ছে কিন্তু বইয়ের মানের উন্নতি হচ্ছে না। বর্তমানে একজন লেখক তার প্রচার নিয়ে ব্যস্ত থাকে কিন্তু লেখার মান নিয়ে অনেকের কোন মাথাব্যাথা নেই। তারা বলেন, আমাদেরকে বই মুদ্রণ, বাঁধাই, বিপণন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য জোর দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ফজলে রাব্বি বলেন, গ্রন্থমেলা এবং প্রকাশনা দুইটি ভিন্ন বিষয়। এই দুইটিকে একসাথে মেলানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মত আর কোনো দেশে প্রকাশকরা সরাসরি এভাবে বই বিক্রি করে না। বইমেলা হচ্ছে প্রকাশকের প্রচারণার একটি অংশ। বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্পাদনার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রন্থমেলায় হুমায়ুন আজাদকে স্মরণ
বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের উপর মৌলবাদী চক্রের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে একুশে গ্রন্থমেলায় আজ বিকেলে তাঁকে স্মরণ করা হয়। লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের তথ্যকেন্দ্রের সামনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধান করেন বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, কথাসাহিত্যিক সিরাজুল ইসলাম মুনীর, শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী এবং ড. জালাল আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন আগামী প্রকাশনীর সত্বাধিকারী ওসমান গনি। সভা সঞ্চালনা করেন কবি আসলাম সানী। বক্তারা বলেন, হুমায়ুন আজাদের হত্যাচেষ্টার বিচার অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং তাঁর আদর্শে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই তাঁকে যথাযোগ্যভাবে স্মরণ করা হবে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এস. এম. মাহিদুল ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লিলি ইসলাম, নীলোৎপল সাধ্য, মহাদেব ঘোষ, কামাল আহমেদ। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন এনামুল হক ওমর (তবলা), ইফতেফার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড), নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে বাংলদেশের আদিবাসী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রাহমান নাসির উদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং রণজিত সিংহ। সভাপতিত্ব করবেন রাশিদ আসকারী।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮’র সমাপনী অনুষ্ঠান :
আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিন।

সন্ধ্যা ৬:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮’-এর সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইব্রাহীম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

——————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ সোমবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১১৭টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল বিজয় সরকার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মো. শাহিনুর রহমান, স্বরোচিষ সরকার এবং আকরাম শাহীদ চুন্নু। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী।

প্রাবন্ধিক বলেন, কবিয়াল বিজয় সরকার শৈশব-কৈশোর থেকেই সংস্কৃতি অনুরাগী ছিলেন। গ্রাম-গঞ্জের পথে-মাঠে-ঘাটে আনমনে গান গেয়ে বেড়াতেন তিনি। বিজয় সরকার কবিগানের নিজস্ব একটি কাঠামো সৃষ্টি করেন, আবার কবিয়াল হয়েও বাংলা গান ও কবিতার ভুবনে স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও বিভিন্ন জাতির মধ্যে সমন্বয়, সম্প্রীতি, সহাবস্থান, সহমর্মিতা বিজয় সরকারের গানে উচ্চারিত হয়েছে। ভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, সহানুভূতিশীল হওয়া, সম্মান প্রদর্শন করা, সর্বোপরি সব ধর্মের মর্মবাণী উপলব্ধি করা- সংগীতের মাধ্যমে এসব তিনি মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। এজন্য তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের একজন উচ্চমানের সংগীতশিল্পী। প্রাবন্ধিক বলেন, কালজয়ী প্রতিভা বিজয় সরকারের রচনাবলি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তাঁর গানের সুরের স্বরলিপি করতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যত প্রজন্ম এই মহান শিল্পীর জীবনকথা জানতে পারে এবং তাঁর সৃষ্ট সংগীতসম্ভার নিয়ে নানামাত্রিক গবেষণা করতে পারে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, অনন্য প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন কবিয়াল বিজয় সরকার। কবিগানকে তিনি শিল্পের উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। বিজয় সরকার ছিলেন মানবতাবোধের স্বভাব কবি। তিনি সকল কিছুর মাঝে পরমত্মার ভিতর সন্ধান করতেন। পরমাত্মার সন্ধান করতে গিয়ে সমাজ, পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন পড়েন তবু তাঁর পরমের সন্ধান শেষ হয়নি। তারা বলেন, তাঁর অমর সৃষ্টি বিজয়গীতির মধ্যে তিনি বাংলার লোকসমাজের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, বিজয় সরকারের কবিগান সাহিত্যগুণমানসম্পন্ন। তাঁর গান সার্বজনীন। একদিকে মরমী ন¤্রধারা, অন্যদিকে দ্রোহের আগুন জ্বলমান। জাত-ধর্মের বালাইহীন উদার জমিনে সকল ধর্মের সুসমন্বয় করতে চেয়েছিলেন বিজয় সরকার। হাছন-লালনের ধারায় বিজয় সরকার বাংলা গানের ভুবনে এক অনন্য নক্ষত্রের নাম।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল স্বপন গুহের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রূপান্তর’-এর পরিবেশনা।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :

আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৫ ফাল্গুন ১৪২৪ মঙ্গলবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনার মান উন্নয়নের সমস্যা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খান মাহবুব। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বদিউদ্দিন নাজির, রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং মোস্তফা সেলিম। সভাপতিত্ব করবেন ফজলে রাব্বি। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

————————————————————————————————————————-

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১০৭টি।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম, ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম এবং একুশের শহিদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। নির্ধারিত প্রবন্ধকার রামেন্দু মজুমদার বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর লিখিত ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম প্রবন্ধটি পাঠ করেন ত্রপা মজুমদার। ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিউর রাব্বি এবং একুশের শহিদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম সুমন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ এবং মালেকা বেগম। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।

ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে রামেন্দু মজুমদার বলেন, নাদেরা বেগম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আত্মগোপনে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বের ইতিহাসে এক সাহসী ও সংগ্রামী নারী হিসেবে নাদেরা বেগমের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তবে এটা স্বীকার করতে হবে যে তাঁর সে সময়ের অসাধারণ ভূমিকার কোন স্বীকৃতি তিনি পাননি। বাংলা একাডেমিকে ধন্যবাদ বিস্মৃতি থেকে তাঁকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে আনবার জন্যে।

ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে রফিউর রাব্বি বলেন, ভাষা আন্দোলনে যেসব নারীদের নাম উচ্চারিত হয়ে থাকে তাঁদের মধ্যে মমতাজ বেগম সর্বাগ্রে। এটি শুধু নারায়ণগঞ্জের প্রশ্নে নয়, দেশের সামগ্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও অবদান এবং পরে মৃত্যু অবধি পরিচালিত তাঁর আদর্শিক লড়াই- এ এক অনন্য উপাখ্যান। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাঁর সমস্ত জীবন সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে যায়, সংসার ভেঙে যায়। আমাদের সংগ্রামের ইতিহাসে এ এক বিরল উদাহরণ। তাঁর আত্মত্যাগ যুগ-যুগ আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

একুশের শহিদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম সুমন বলেন, নভেরা আহমেদ এক বর্ণাঢ্য শিল্পজীবনের অধিকারী। তাঁর অমর কীর্তি শিল্পী হামিদুর রহমানের সঙ্গে যুক্তভাবে কৃত মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নক্শা। বাঙালির সংগ্রাম ও গৌরবের প্রতীক এই শহিদ মিনার অনন্তকাল ধরে জাতির শোক, অশ্রু, আবেগ ও সংকল্পকে ধারণ করে রাখবে। ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের বাঙালি জাতি যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তেমনি এই শহিদ মিনারের অন্যতম স্থপতি ভাস্কর নভেরা আহমেদকেও স্মরণ করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

আলোচক শফি আহমেদ বলেন, মমতাজ বেগম, নাদেরা বেগম এবং নভেরা আহমেদের মতো বীর নারীরা শুধু ভাষা আন্দোলনে নয়, একই সঙ্গে এই দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনেই শক্তি যুগিয়েছেন।
আলোচক মালেকা বেগম বলেন, এই নারীরা শুধু ভাষা আন্দোলনের সময়পর্বেই নয় বরং বহু আগে থেকে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছেন। এরা শুধু ভাষা আন্দোলনে সভা-সমাবেশই করেননি; বিভিন্ন গঠনমূলক কাজের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন। মাতৃভাষা এবং দেশমাতৃকার জন্য সংগ্রামের শিক্ষা দিয়ে তারা আমাদের ইতিহাসে শিক্ষাব্রতীর ভূমিকায়ও আসীন হয়ে আছেন।
সভাপতির সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ভাষা আন্দোলনে নারী-পুরুষ সবারই গৌরবজনক অংশগ্রহণ ছিল। ইতিহাসের পূর্ণতার স্বার্থে সবার অবদান আলোচিত হওয়া প্রয়োজন। পঞ্চাশের দশকে যখন আমাদের সমাজে নারীদের বাইরে বেরুনোর ব্যাপারে কড়াকড়ি ছিল ঠিক সেই সময় এই নারীরা রাস্তায় শুধু বেরই হন নি, তাঁরা ভাষার জন্য অসম সাহসে সংগ্রামও করেছেন।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল অধ্যাপক শফিউল আলমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলা’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, মো. রেজাউল করিম, মামুন সিদ্দিকী এবং মাহবুবা রহমান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন কাজী ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি) এবং ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ সোমবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে বিজয় সরকার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মো. শাহিনুর রহমান, স্বরোচিষ সরকার এবং আকরাম শাহীদ চুন্নু। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

—————————————————————————————————

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

Image may contain: 32 people, people smiling, people standingNo automatic alt text available.

আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১২ ফাল্গুন ১৪২৪ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৪তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১৮২টি। ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় ছিল শিশুপ্রহর।

সকাল ১০:৩০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল দেশ বিভাগের সত্তর বছর শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমানুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ হাসান ইমাম। সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।

প্রাবন্ধিক বলেন, দেশভাগের নানা মাত্রার মধ্যে উদ্বাস্তু সমস্যা যেমন একটি, মানুষের মনস্তত্ত্বে বিভাজনও আর একটি দিক। দেশভাগের যে কোন অংশে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সংখ্যালঘু মানুষ। আবার নতুন রাষ্ট্রে বিকাশের পথও খুঁজে নেন অনেকে। দেশভাগের সত্তর বছর পেরিয়ে আমাদের প্রত্যাশা-যতই ভৌগলিক বিভাজন থাকুক, হৃদয়ে হৃদয়ে যেন কাঁটাতারের বেড়া না গড়ে ওঠে।

আলোচক সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, দেশভাগ সীমান্তের দুই পাড়ের মানুষের জন্যই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। আপন ভিটেমাটি থেকে মানুষের উচ্ছেদ হওয়ার ক্ষত যেমন কখনোই কোন ক্ষতিপূরণে মুছে যাবার নয়।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল লোহানী বলেন, আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে দেশভাগ রেখে গেছে গভীর অভিঘাত। চলচ্চিত্র ও চিত্রকলাতেও দেশভাগের ছায়া পড়েছে। দেশভাগে সবসময় সুবিধা নেয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। তাই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেই পরিচালিত হোক আমাদের সকল মানবিক লড়াই।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ইমন চৌধুরীর পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘ফাল্গুনী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থা’র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন তাপসী ঘোষ, মুন্নী কাদের, ফারহানা শিরিন, মোক্তার হোসেন এবং এম এম উম্মে রুমা ট্রকি। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা) এবং রবিনস্ চৌধুরী (কী-বোর্ড)।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

২০১৭ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য অলকানন্দা প্যাটেল রচিত ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্স, সুফি মুস্তাফিজুর রহমান রচিত ‘বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স, মঈন আহমেদ সম্পাদিত ‘মিনি বিশ্বকোষ পাখি’ গ্রন্থের জন্য সময় প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ এবং ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কথাপ্রকাশ-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮ প্রদান করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-র সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ রবিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে ভাষাসংগ্রামী নাদিরা বেগম ও ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রামেন্দু মজুমদার ও রফিউর রাব্বি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন শফি আহমেদ এবং মালেকা বেগম। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

……………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ২৬৬টি। ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় ছিল শিশুপ্রহর।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিন
আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিন।

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সকাল ১০:০০টায় অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কবিতা শীর্ষক আলোচনাপর্ব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কায়সার হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নেপালের লেখক আভি সুবেদি, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন এবং কবি সাদাফ সায্। বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কবিতা ব্যক্তিগত অনুভব এবং সমষ্টিক অঙ্গীকার উভয় সত্যকে ধারণ করে নতুন শতকে নবতর ভাষা ও আঙ্গিকে প্রকাশমান। তারা বলেন, বহমান দুঃস্বপ্নের মধ্যে কবিরাই স্বপ্ন দেখাতে পারেন। একই সঙ্গে দৈশিক ও বৈশ্বিক অনুভব ও অঙ্গীকারকে ধারণ করে কবিরাই পারেন মানবিক পৃথিবীর স্বপ্নকে বাস্তব করতে।

বেলা ১২:০০টায় দক্ষিণ এশিয়ার ভাষা এবং অনুবাদ শীর্ষক সমাপনী আলোচনা পর্বে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাশিদ আসকারী, ফায়েজা হাসানাত এবং জি এইচ হাবীব। বক্তারা বলেন, অনুবাদের মধ্য দিয়ে যেমন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি মূলভাষা ব্যতীত ইংরেজি থেকে ঢালাও অনুবাদের ফলে পাঠক সাহিত্যের প্রকৃত রস থেকে বঞ্চিতও হয়। সেজন্য অনুবাদের ক্ষেত্রে ইংরেজির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয় নানাভাষার পারস্পরিক অনুবাদও অত্যন্ত জরুরি।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল শওকত আলীর সাহিত্যসাধনা শীর্ষক আলোচনানুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবু হেনা মোস্তফা এনাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফারজানা সিদ্দিকা এবং তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

প্রাবন্ধিক বলেন, শওকত আলীর সৃষ্টিক্ষমতায় এবং ব্যক্তিজীবনের প্রগতিশীল রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সক্রিয় কর্মোন্মুখ চৈতন্যের লুব্ধ আলো মৃত্যুর পরও তাঁকে দেবে নতুন স্থান। শওকত আলী কোন্ জীবনাভিজ্ঞতা, কোন্ জীবনদর্শনের গল্প বয়ান করেছেন- তাঁর সমকালের রূপান্তরক্রিয়া নির্মাণের এই সূত্রটি আবিষ্কার করা প্রয়োজন। কেননা সময়ের অদৃশ্য নিঃশ্বাসে আন্দোলিত হয় বস্তু, ব্যক্তি ও সমাজ। বস্তু ও ব্যক্তির অস্তিত্ব ও বিকাশের সমস্ত সূত্র তাই মূর্ত হয়ে ওঠে সমাজ-সংগঠনে, সময়ের পরিচিহ্নে। তিনি বলেন, শওকত আলী সাহিত্যসাধনা, বিশেষত কথাসাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে আমাদের উপর্যুক্ত বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের সমকালীন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ইতিবৃত্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আলোচকবৃন্দ বলেন, শওকত আলী যা বিশ্বাস করেছেন তাই তাঁর লেখনিতে উঠে এসেছে। তিনি বৃহতের সাথে যুক্ত হতে চেয়েছেন বারবার। তাঁর লেখনিতে তৃণমূলের মানুষের পাশাপশি মধ্যবিত্তের নিরূপায় পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর অভাব অনুভব করবে দীর্ঘদিন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শওকত আলী জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কলম ধরেন নি। তিনি বাস্তবতাবিবর্জিত কোন গল্প, উপন্যাস কখনোই লিখেন নি। শওকত আলী উপন্যাসকে কালের দর্পণ ভাবতেন। তাঁর মতো জীবনঘনিষ্ঠ লেখক সত্যিই বিরল।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মো. মফিজুল ইসলামের পরিচালনায় ‘কালু শাহ্ শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং সালাউদ্দীন বাদলের পরিচালনায় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী’-র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন সমর বড়–য়া, সালমা চৌধুরী, আহাদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম এবং রীতা ভাঁদুরী। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বাবু জামান (তবলা) এবং আজিজুর রহমান (কী-বোর্ড)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১২ ফাল্গুন ১৪২৪ শনিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৪তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।

সকাল ১০:৩০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে দেশ বিভাগের সত্তর বছর শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইমানুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও নূরজাহান বোস। সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

Image may contain: 4 people

আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১০ ফাল্গুন ১৪২৪ বৃহস্পতিবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২২তম দিন। মেলা চলে বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ১০৩টি।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন
উদ্বোধনী দিবসের কর্মসূচি
অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আজ শুরু হয় দু’দিনব্যাপী (২২-২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্য শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।

সকাল ১০:০০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফকরুল আলম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি অনুধাবনে এ ধরনের সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবন এবং একই সঙ্গে এর প্রাণচঞ্চল সাহিত্যসম্পদের সাক্ষাৎ পেতে দক্ষিণ এশিয় সাহিত্যের নিবিড় পাঠ এবং বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ড. ফকরুল আলম বলেন, দক্ষিণ এশিয় লেখকদের সাহিত্যে প্রান্তীয় মানুষের স্বর যেমন ওঠে আসে তেমনি নতুন এক সাহিত্যরীতিরও এ অঞ্চলের লেখকেরা জন্ম দিয়ে চলেন; যার মধ্যে সময়-দেশ ও মানুষের মহাস্বরই প্রতিধ্বনিত হয়ে চলে।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করে ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যে নানান অভিমুখ পরিলক্ষিত হলেও মানবমুখী প্রবণতাই প্রধান।

সভাপতির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঔপনিবেশিক বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষকে যেমন স্বাধীনতার অদম্য স্পৃহা দান করেছে তেমনি এ অঞ্চলের লেখকদের মাঝে নতুন সাহিত্যিক রূপরীতি অনুসন্ধানের মানস গঠন করেছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ১২:০০-১২:৪৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য বিষয়ে ভারতের লেখক অরুণা চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের ড. ফিরদৌস আজিমের আলাপচারিতা। তাঁরা বলেন, সাহিত্যিককে সময়ের সাথে সাথে নিজেকে নবায়ন করে নিতে হয়। চারপাশের মুহুমূর্হু পরির্বতনকে আত্মস্থ করতে হয় এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে জীবনকে অবলোকন করতে হয়। জীবনরসের সন্ধান না পেলে সাহিত্য মানুষের সঙ্গে সংযোগহীন হতে শুরু করে। দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যেও ব্যক্তি ও সমষ্টি-উভয়ই সমগুরুত্ব লাভ করেছে।
বেলা ২:৩০-৪:০০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রিফাত মুনিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শ্রীলঙ্কার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জি বি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ এবং খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যিকরা যেমন শিল্পমান সম্পর্কে সচেতন তেমনি মানুষের অধিকারের কথা নতুনতর গদ্যরীতিতে পরিস্ফুট করছেন। যদিও একমাত্রিক বিশ্বায়নের প্রভাবে কথাসাহিত্যের ভাষাও আজ এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি উপনীত। এ অঞ্চলের কথাসাহিত্য-পরিসরে দলিত সাহিত্য, নারীস্বর যেমন গুরুত্ব পেয়েছে তেমনি লিখিত রীতির পাশাপাশি মৌখিক কথকতার রূপরীতিও কথাসাহিত্যের অবয়বে ফুটে উঠেছে।

বিকেল ৪:১৫-৫:৪৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ান থিয়েটার বিষয়ক আলোচনাপর্ব। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রামেন্দু মজুমদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ এবং ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক।
বক্তারা বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নাটক শিল্পমাধ্যম হিসাবে আজ এক নতুন দিগন্তের সামনে এসে উপস্থিত। সারা বিশ্বের শৈল্পিক উত্তরাধিকারকে বহন করে দক্ষিণ এশিয়ার নাটকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র, নারীদের জীবনসংগ্রাম এবং সর্বতোমুখী বৃত্ত ভাঙার প্রয়াসে ঋদ্ধ। মৌলিক নাটকের পাশাপাশি অনূদিত ও রূপান্তরিত নাটকে দক্ষিণ এশিয়ার জীবনের সঙ্গে অন্বয় সাধন এক নতুন নাট্য-আঙ্গিকের জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী থিয়েটারের সমান্তরালে প্রতœথিয়েটার, পরিবেশ-থিয়েটার ইত্যাদি এ অঞ্চলের থিয়েটারকে শিল্পসত্য ও মানবমুক্তির সত্যের মুখোমুখি করে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার প্রদান পর্ব
আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার পুরস্কার ২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৭-তে ভূষিত হয়েছেন কানাডাপ্রবাসী কবি মাসুদ খান এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কবি মুজিব ইরম। অনিবার্য কারণবশত মাসুদ খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ড. সাইমন জাকারিয়া। পুরস্কারপ্রাপ্ত কবিদের পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০,০০০.০০ টাকার চেক, পুষ্পস্তবক এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সভাপতি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কবিরা সমাজের পথপ্রদর্শক। সমাজ যত কবিতাময় হবে ততোই মঙ্গলময় আভায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে আমাদের পরিপার্শ্ব।
অনুভুতির প্রকাশ করে মুজিব ইরম বলেন, এই পুরস্কার দূর-প্রবাসে উষ্ণতার অনুভব প্রদান করবে সবসময়।

সভাপতির বক্তব্যে শামসুজ্জামান খান বলেন, এই দুই কবি ভবিষ্যতে আমাদের আরও ঋদ্ধ শিল্পফসল উপহার দেবেন- এই প্রত্যাশা করি।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আলম দেওয়ান, শফিউল আলম রাজা, আঁখি আলম এবং আমজাদ দেওয়ান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), মো. হাসান আলী (বাঁশি) এবং নির্মল কুমার দাস (দোতারা)।

আগামীকালের অনুষ্ঠানসূচি :
আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার। অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিন। মেলা চলবে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

শিশুপ্রহর :
আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।

বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে শওকত আলীর সাহিত্যসাধনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আবু হেনা মোস্তফা এনাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফারজানা সিদ্দিকা এবং তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিন
আগামীকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১১ ফাল্গুন ১৪২৪ শুক্রবার দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের শেষ দিন।

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সকাল ১০:০০টায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার কবিতা শীর্ষক আলোচনাপর্ব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক কায়সার হক। আলোচনায় অংশ নেবেন নেপালের লেখক আভি সুবেদি, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন এবং সাদাফ সায্।

বেলা ১২:০০টায় দক্ষিণ এশিয়ার ভাষা এবং অনুবাদ শীর্ষক সমাপনী আলোচনা পর্বে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। আলোচনায় অংশ নেবেন রাশিদ আসকারী, ফায়েজা হাসানাত এবং জি এইচ হাবীব।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্ যাপন

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ ৯ ফাল্গুন ১৪২৪ বুধবার। অমর একুশে। মেলা চলবে সকাল ৮:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। মেলায় আজ নতুন বই এসেছে ৩৯০টি।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। রাত ১২:৩০টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে সকাল ৭:৩০টায় শুরু হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে শতাধিক নবীন-প্রবীণ কবি কবিতা-আবৃত্তি করেন। সভাপতিত্ব করেন কবি কামাল চৌধুরী।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়- অমর একুশে বক্তৃতা। একুশে ফেব্রুয়ারির লক্ষ্য কী, অর্জনের পথ কোন দিকে শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, একুশে শহিদের শোককে বাঙালি শক্তিতে পরিণত করেছে। ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনার পথ ধরে আমরা এগিয়েছি স্বাধীনতার দিকে।

অমর একুশে বক্তৃতায় ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখান করে বাংলাদেশের বাঙালি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করেছে। এর ফলেই সর্বাত্মক ভাষাসংগ্রাম এবং পরিণতিতে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু একুশের পথ বেয়ে একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করলেও বাংলাকে আমরা জীবনের সর্বক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। তাই উচ্চআদালতে রায় প্রদানের ক্ষেত্রে এখনও বাংলাকে প্রধান মাধ্যম ভাবা হয় না, তিন ধারার শিক্ষাব্যাবস্থায় একটি শ্রেণির কাছে ভাষা হিসেবে বাংলা থাকে উপেক্ষিত। তিনি বলেন, এই অবস্থার মূলে রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক সংকট। শ্রেণিবৈষম্যের অবসান না ঘটায় সমাজে দারিদ্র্য, শোষণ ও নির্যাতন ঔপনিবেশিক সময়ের মতোই ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থার নিরসনকল্পে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির যে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন ছিল তার অনপুস্থিতি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাম্যবাদী সংকল্পের বাস্তবায়নকে সুদূরপরাহত করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত পথপরিক্রমায় আমাদের রাজনীতি বিভাজিত ছিল নানা ধারা-উপধারায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেটি আরও স্পষ্ট হয়। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধকালে বামপন্থীদের একটি অংশ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একুশ থেকে একাত্তর- এই উত্তাল কালপর্বে বিভাজনের উর্ধ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতাই প্রধান সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফকির সিরাজের পরিচালনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফকির আলমগীর, কল্যাণী ঘোষ, ফিরোজ আহমেদ, আবদুল হালিম খান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), বিলাস চন্দ্র বণিক (প্যাড), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড) এবং শাহরাজ চৌধুরী।

দু’দিনব্যাপী আন্তর্জতিক সাহিত্য সম্মেলন
উদ্বোধনী দিবসের কর্মসূচি

আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/১০ ফাল্গুন ১৪২৪ বৃহস্পতিবার। মেলা চলবে সকাল বিকেল ৩:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে দু’দিনব্যাপী (২২-২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্য শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।
সকাল ১০:০০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ফকরুল আলম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ১২:০০-১২:৪৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য বিষয়ে ভারতের লেখক অরুণা চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের ড. ফিরদৌস আজিমের আলাপচারিতা।
বেলা ২:৩০-৪:০০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করবেন রিফাত মুনিম। আলোচনায় অংশ নেবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শ্রীলঙ্কার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জি বি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ এবং খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।

বিকেল ৪:১৫-৫:৪৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ান থিয়েটার বিষয়ক আলোচনাপর্ব। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করবেন রামেন্দু মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেবেন শফি আহমেদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ এবং ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার প্রদান পর্ব
বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৭ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কার পেয়েছেন কানাডা-প্রবাসী কবি মাসুদ খান এবং যুক্তরাজ্য-প্রবাসী কবি মুজিব ইরম। আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০০টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

ty-191x300

 

জনসংযোগ উপবিভাগ
বাংলা একাডেমি
ঢাকা ১০০০

ফোন : ফোন : ৫৮৬১১২৪৮  ফ্যাক্স : ৯৬৬১০৮০
ই-মেইল : banglaacademy.pr@gmail.com,  bacademy1955@yahoo.com
ওয়েবসাইট : www.banglaacademy.org.bd

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ১২ ভাদ্র ১৪২৪/২৭ আগস্ট ২০১৭ রবিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নজরুল বিষয়ে একক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলা একাডেমি আজ ১২ ভাদ্র ১৪২৪/২৭ আগস্ট ২০১৭ রবিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।
সকাল ৭:০০টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। নজরুল : সম্প্রীতির সন্ধান শীর্ষক বিষয়ে একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, এ বছর বিশ্বব্যাপী রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্যাপিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নজরুলকে স্মরণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এই বিপ্লবের মানবিক আভায় œাত ছিলেন তরুণ নজরুল। এই বিপ্লবী, মানবিক দর্শনই নজরুলকে চালিত করেছে সম্প্রীতির সন্ধানে।

একক বক্তা অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পৃথিবীজুড়েই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে। আর এক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টি আলোকপাত করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ নজরুল তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সৃজনকর্ম দিয়ে পৃথিবীর নানা ধর্ম-সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, চেয়েছেন সাম্য ও মৈত্রীময় এক সুন্দর পৃথিবী। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে যেখানে মানবতা ভূলুণ্ঠিত, পরমতসহিষ্ণুতা হিংসার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, সেখানে নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টি এবং এর মিথস্ক্রিয়া থেকে উঠে আসা দর্শনে পাওয়া যায় মানবপ্রেমের সুস্নিগ্ধ জলপ্রপাত, পরমতসহিষ্ণুতার বাতায়ন, সৌহার্দ্যরে অমিয়ধারা। একক বক্তা বলেন, নজরুলের জন্মের মাত্র ছয় বছর পর বঙ্গভঙ্গ হয়, তাঁর বয়স যখন বার তখন তা রদ হয়। এরপর সশস্ত্র আন্দোলন, অহিংস আন্দোলন এবং হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রক্তাক্ত ছিল ভারতবর্ষের রাজনীতি। সেই হলাহলের মধ্যে বসেই নজরুল সম্প্রীতির পুষ্পহাসি হেসেছেন। ‘মানুষ’ পরিচয়কে মুখ্য করতে গিয়ে নজরুল সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করতে চেয়েছেন। হিন্দু বা মুসলিম অথবা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ‘মানুষ’ পরিচয়ই যে আমাদের কাছে প্রধান হওয়া উচিত, নজরুলের সমগ্র জীবন ও সাহিত্যের মূল বার্তাই
তা-ই।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নজরুলের সমকালে এবং আজকেও সবাই তাঁকে নিজের কাঠামোতে অবলোকন ও ব্যাখ্যা করে কারণ নজরুলের মতো মৌলিক ও বৃহৎ প্রতিভাকে সবাই-ই নিজের মতো করে ভাবতে চায়, বিশ্লেষণ করতে চায়। তিনি বলেন, নজরুলের সম্প্রীতি-সাধনার মূলে ছিল তাঁর প্রবল ইহজাগতিকতার বোধ। ভারতে যখন স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিণত হচ্ছিল সাম্প্রদায়িক সংঘাতে তখন নজরুল একদিকে যেমন সম্প্রীতির বাণী প্রচার করেছেন অন্যদিকে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তিসংগ্রামের পথানুসন্ধান করেছেন।
অপরেশ কুমার ব্যানার্জী
পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

পত্র সংখ্যা :                                                                                                                          তারিখ : ১০.১১.২০১৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন

বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী মীর মশাররফ হোসেনের ১৬৯তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আগামী ২৯শে কার্তিক ১৪২৩/১৩ই নভেম্বর ২০১৬ রবিবার রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পদমদীস্থ মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সকাল ৯:৩০টায় অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে স্বাগত ভাষণ প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক বিনয় কুমার চক্রবর্তী, বালিয়াকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. রকিব হায়দার, বালিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম মোস্তফা খান এবং প্রভাষক ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব জিল্লুল হাকিম। সভাপতিত্ব করবেন রাজবাড়ী জেলার জেলা প্রশাসক জিনাত আরা।
দ্বিতীয় অধিবেশন
সকাল ১১:৩০-১:৩০টায় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এম. আবদুল আলীম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফকরুল আলম এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজবাড়ী জেলার জেলা প্রশাসক জিনাত আরা। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন রাজবাড়ী- ১  আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বালিয়াকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোঃ আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করবেন রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফকীর আবদুর রশিদ।

 

(মোঃ মনিরুজ্জামান)
উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)

ty

 জনসংযোগ উপবিভাগ
বাংলা একাডেমি
ঢাকা ১০০০ ফোন : ফোন : ৫৮৬১১২৪৮  ফ্যাক্স : ৯৬৬১০৮০
ই-মেইল : banglaacademy.pr@gmail.com,  bacademy1955@yahoo.com
ওয়েবসাইট : www.banglaacademy.org.bd

পত্র সংখ্যা :                                                                                                                           তারিখ : ১০.১১.২০১৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপন

মহান ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ ২৬শে কার্তিক ১৪২৩/১০ই নভেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং নিশাত জাহান রানা। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
শিল্পী ফাহমিদা খাতুনের কণ্ঠে ‘আগুণের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছণায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। কাঁদতে আসি নি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি কবিতাটি আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জীবন ও কর্ম নিয়ে নিশাত জাহান রানা নির্মিত ‘একুশের প্রথম কবিতার কবি’ প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়।
স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রসারের উন্মত্ততার কালে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর মতো অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বকে স্মরণের তাৎপর্য অনেক। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক প্রগতিশীল শিল্পসাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি জোরদারে ভূমিকা রেখেছেন। ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার এই কবির প্রতি জাতি হিসেবে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
আলোচকবৃন্দ বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরীকে স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমি এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। মাহবুব উল আলম চৌধুরী শুধু ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার কবি নন, একই সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বলতম মানুষও ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে ‘সীমান্ত’ পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ফ্যাসিবাদ, শোষণ, আগ্রাসন ও পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছেন তারুণ্যের প্রথম প্রভাতেই। তারুণ্যের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যুক্ততা বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। মাহবুব উল আলম চৌধুরীর নব্বইতম জন্মদিন আমাদের সবার জন্যই এক শুভ-উৎসবের প্রতীক।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরীর কাছে আমাদের বারবার ফিরে যেতে হবে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার পাশাপাশি ‘সীমান্ত’ পত্রিকার স্মরণীয় কিছু সংখ্যার জন্যও তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। নানান সাংগঠনিক যুক্ততার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিস্তৃত করেছেন গণমানুষের মাঝে। সংস্কৃতিকে তিনি সমাজ-পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করেছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী সাঈদা খানম, নূরজাহান বোস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক শফি আহমেদ, কবি কাজী রোজী, নূহ উল আলম লেনিন, অধ্যাপক এবি এম হোসেন, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, কবি কাজী মদিনা, দিল মনোয়ারা মনু, কবি নাসির আহমেদ, এবং মাহবুব উল আলম চৌধুরীর পত্নী রওশন আরা রহমান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন।

(মোঃ মনিরুজ্জামান)
উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)

 

 

ty

জনসংযোগ উপবিভাগ
বাংলা একাডেমি
ঢাকা ১০০০ ফোন : ফোন : ৫৮৬১১2৪৮  ফ্যাক্স : ৯৬৬১০৮০
ই-মেইল : banglaacademy.pr@gmail.com,  bacademy1955@yahoo.com
ওয়েবসাইট : www.banglaacademy.org.bd

পত্র সংখ্যা :                                                                                                                           তারিখ : ১৭.১০.২০১৬

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ ঘোষণা

বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর এ পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি ও লেখক শামীম আজাদ এবং জার্মান প্রবাসী লেখক ও গবেষক নাজমুন নেসা পিয়ারি। গত ০৬ অক্টোবর ২০১৬ অনুষ্ঠিত বাংলা একাডেমির নির্বাহি পরিষদের সভায় পুরস্কার-প্রাপকদের নাম অনুমোদিত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালি লেখক, কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে যাঁরা বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় গভীরতাময় সাহিত্য রচনা করেন এবং বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যাঁরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন তাঁদের মধ্য থেকে ২০১৪ সাল থেকে প্রতিবছর দু’জনকে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ স্মরণে প্রবর্তিত এ পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। এর আগে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ড. ফ্রাঁস ভট্টাচার্য, মন্জু ইসলাম, ইকবাল হাসান ও সৈয়দ ইকবাল। উল্লেখ্য ২০১১ সাল থেকে প্রবর্তিত ‘বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার’টি ২০১৪ সাল থেকে পরিবর্তিত হয়ে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার’ হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে।

এ বছর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার’প্রাপ্ত কবি ও লেখক শামীম আজাদ কবিতা, কথাসাহিত্য ও নাটক রচনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন। অপর পুরস্কারপ্রাপ্ত নাজমুন নেসা পিয়ারি বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে থাকেন। তিনি প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে আনুষ্ঠানিকভাবে শামীম আজাদ ও নাজমুন নেসা পিয়ারিকে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬’ প্রদান করা হবে। এ পুরস্কারের মূল্যমান ৫০,০০০.০০ টাকা।

(শামসুজ্জামান খান)
মহাপরিচালক

বাংলা একাডেমি

বাংলা একাডেমি